কলকাতা, ২৫ এপ্রিল- একুশের বিধানসভা নির্বাচনে লাগাতার প্রচার করেও এই জেলার ১৬ টি আসনের মধ্যে একটিতেও পদ্ম ফোটাতে পারেননি বিজেপি নেতৃত্ব। এবার সেই জেলা থেকেই অমিত শাহ বললেন, ‘৪ মে বর্ধমানের মিহিদানা-সীতাভোগে মোদিজির মিষ্টিমুখ করাব।’ অর্থাৎ এই জেলায় এবার বিজেপি শূন্য হবে না বলেই আশা শাহের। শনিবার জেলার জামালপুরের সভা থেকে শাহের প্রতিশ্রুতি, ৫ মে-র পরে নাগরিকত্ব পাবেন সব মতুয়া।
আর কয়েকদিন পরেই বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। আর সেই দ্বিতীয় দফার ভোটকে কেন্দ্র করে জেলায় জেলায় প্রচারের পারদও চড়ছে। গত কয়েকদিন ধরে বাংলায় থেকে প্রচার চালাচ্ছেন অমিত শাহ। জামালপুরের সভা থেকে শাহ বলেন, ‘প্রথম দফায় বিজেপি ১১০ আসন জিতবে দিদির খেলা শেষ করে দেবে। এখানেও পদ্মফুল ফুটবে। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ৪ মে বর্ধমানের মিহিদানা-সীতাভোগে মোদীজির মুখমিষ্টি করব।’ আরজিকর কান্ড, সন্দেশখালির ঘটনা টেনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আরজি কর, সন্দেশখালি প্রতি জায়গায় মা-বোনেদের উপর অত্যাচার হয়েছে। দিদি বলেন, মা-বোনেরা ৭টা পর বাড়ি থেকে বেরবেন না। কিন্তু আমি বলে যাচ্ছি, বিজেপি সরকার এলে মাঝরাতেও মা-বোনেরা বেরতে পারবেন। এটা আমার প্রতিশ্রুতি।’
এসআইআরে বহু মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। আর এ নিয়ে মতুয়াদের একটা বড় অংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। জামালপুরের সভা থেকে সেই মতুয়াদেরই অভয়বাণী শুনিয়েছেন শাহ। তিনি বলেন, ‘দিদি মতুয়াদের ভয় দেখাচ্ছেন। যদি বিজেপি আসে তা হলে আপনাদের ভোটাধিকার নাকি চলে যাবে। কিন্তু দিদি, এই মতুয়া সমাজ আমাদের প্রাণ। ওদের কেউ ছুঁতে পারবে না। মতুয়া সমাজ, নমশূদ্র সমাজের ব্যক্তিদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। সিএএ করতে দিচ্ছে না দিদি। আপনারা বিজেপির সরকার বানিয়ে দিন, ৫ তারিখের পর মতুয়া সমাজের সব ভাই-বোনদের নাগরিকত্ব দেবে বিজেপি।’
জামালপুরের সভায় অমিত শাহের হুঁশিয়ারি, ‘কেন্দ্রীয় সরকার গরিবদের পাকাবাড়ি, পরিশ্রুত পানীয় জল, শিক্ষার জন্য টাকা পাঠিয়েছে। কিন্তু এই কোথায় গেল? এই সব টাকা টিএমসি-র সিন্ডিকেট আর ভাইপো-ট্যাক্সে চলে গিয়েছে। আর যদি ভাবেন এই টাকা হজম করে নেব, তা হলে সিন্ডিকেটবাজেরা কান খুলে শুনে রাখুন, প্রতি পয়সার হিসাব নেব।’ ৫ তারিখের পর আমরা ইউসিসি (অভিন্ন দেওয়াবিধা বিধি) নিয়ে আসারও বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আজ হাওড়ার শ্যামপুরেও সভা করেন অমিত শাহ। আর সেই সভা থেকে তার মন্তব্য, ‘মোদীজি অযোধ্যায় রামমন্দির বানিয়েছেন। আর অন্য দিকে, হুমায়ুন কবীরকে দিয়ে এখানে মমতাদিদি বাবরি মসজিদ বানাতে চাইছেন। কান খুলে শুনে রাখুন, এক জনও বিজেপি কর্মী বেঁচে থাকলে পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ বানাতে দেবে না। এটা ভারতের ভূমি, এখানে কোনও বাবরি মসজিদের জায়গা নেই। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে তৈরি হবে তো সেটা দুর্গামন্দির।’
শ্যামপুরের সভায় শাহ বলেন, ‘আমি গুন্ডাদের ভয় দেখাই তো দিদি আমার উপর রেগে যান। কাল বলছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে আমি গুন্ডাদের ভয় দেখাচ্ছি।’ তার পরেই শাহের প্রশ্ন, ‘তো বলুন কী করব? কোলাকুলি করব? দিদি, আপনার গুন্ডাদের গ্যারাজে ঢুকিয়ে দিন। মা-বোনদের গায়ে হাত লাগলে কাউকে ছাড়া হবে না।’ আত্মবিশ্বাসের সুরে অমিত শাহ বলেন, ‘আমি শ্যামপুরের মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। হেলিকপ্টার থেকে দেখেছি সভাস্থল, রাস্তা— সব জায়গায় লোকভর্তি। এতেই বোঝা যাচ্ছে মমতাদিকে বাই বাই করার সময় এসে গিয়েছে।’