বঙ্গে ভোটপ্রচারে এসে ফের মোদি-মমতাকে একযোগে আক্রমণ রাহুল গান্ধীর

কলকাতা, ২৫ এপ্রিল – বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে যখন বিজেপি আর তৃণমূল একে অপরকে আক্রমণে ব্যস্ত, সেই সময় এই দুই দলকেই ফেরে একযোগে আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। বামেদের সুরেই বিজেপি আর তৃণমূলের সেটিং তত্ত্বকে খাড়া করলেন তিনি। প্রশ্ন তুললেন, ইডি তাকে ৫৫ ঘণ্টা ধরে জেরা করলেও তৃণমূলের দুর্নীতির অভিযোগে কেন একবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেরা করা হল না।

            শনিবার নির্বাচনী প্রচারে একরকম ঝোড়ো ব্যাটিং করেছেন রাহুল। প্রথমে হুগলির শ্রীরামপুর, তারপর শহীদ মিনার ময়দান এবং সবশেষে মেটিয়াবুরুজে সভা করেন তিনি। আর সেই তিন সভা থেকেই তার আক্রমণের নিশানায় ছিল বিজেপি ও তৃণমূল। দাবি করেছেন, দেশে বিজেপিকে হারাতে পারে একমাত্র কংগ্রেস, তৃণমূল সেটা কখনই পারবে না। শহীদ মিনারের সভা থেকে রাহুল বলেন, ‘বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করে কংগ্রেস। আমার ঘর ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি জামিনে রয়েছি। আমার লোকসভার সদস্যপদ ছিনিয়ে নিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা রয়েছে। কখনও ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, বিহারে গেলেও ১০-১৫ দিন অন্তর মামলায় হাজিরা দিতে হয়। মমতাজির বিরুদ্ধে কটা মামলা করেছেন মোদীজি? মমতাজিকে কত ঘণ্টা জেরা করা হয়েছে? আমায় ৫৫ ঘণ্টা ধরে জেরা করেছে। টানা পাঁচ দিন। মমতাজির উপরে কোনও আক্রমণ হয় না। কেন? কারণ, তিনি বিজেপির সঙ্গে সরাসরি লড়াই করেন না। শুধু কংগ্রেসই নীতির ভিত্তিতে লড়াই করে। ২৪ ঘণ্টা মোদীজি কংগ্রেস, রাহুল, খড়্গেজিকে আক্রমণ করেন। শুধু ভোটের সময়ে এসে মোদীজি মমতাকে কটাক্ষ করেন। নির্বাচন শেষ হলে তিনি আর মমতাজিকে নিয়ে কিছু বলবেন না। কারণ, তিনি জানেন, ভারতে একটি শক্তিই বিজেপি, সঙ্ঘের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ওই শক্তি হল কংগ্রেস। এখানে কংগ্রেসকে মজবুত করুন। ভোট দিন। আমাদের বিধানসভায় পাঠান।’

            বাংলায় তৃণমূলই বিজেপির জন্য রাস্তা তৈরি করেছে বলে এদিন ফের আক্রমণ শানিয়েছেন রাহুল। তিনি বলেন, ‘মহিলাদের উপরে অত্যাচারের কথা বললে মোদীজির দলের কথা বলতে হয়। ওদের সাংসদ, বিধায়কেরা মহিলাদের উপরে অত্যাচার করেন। বাংলায় আরজি করে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা হয়েছে। যারা করেছে, সরকার তাদের রক্ষা করেছে। মমতাজি বিজেপির জন্য বাংলায় রাস্তা তৈরি করছে। মমতাজি সঠিক ভাবে কাজ করলে, রাজ্যের জন্য কাজ করলে, দুর্নীতি না করলে, আরজি কর নিয়ে সঠিক পদক্ষেপ করলে এখানে বিজেপির (আসার) ঝুঁকি থাকত না।’ আক্রমণাত্মক সুরে তিনি আরও বলেন, ‘মোদীজির দুর্নীতি করেন, মমতাজিও কম যান না। তৃণমূল সারদা, রোজভ্যালি চিটফান্ড দুর্নীতিতে জড়িয়েছিল। সারদাতে ১৯ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির মামলা হয়েছিল, জড়িত ছিল তৃণমূল। ওরা কয়লা দুর্নীতি করেছে। গুন্ডা কর নেয় ওরা সারা রাজ্যে। মোদীজি বাকি দেশে যে হিংসা ছড়ান, এখানে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তৃণমূলের গুন্ডা তা-ই করে। আমাদের কর্মীদের মারে।’

            মোদি-মমতাকে একযোগে আক্রমণ করে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আজকের বাস্তব হল, মোদী বা মমতাজি, রোজগার দিয়ে ওঁদের কিছু যায় আসে না।  জনতার জন্য কাজ করেন না। মোদী নোটবন্দি করেছেন। জিএসটি কার্যকর করেছেন। দেশের ছোট কারখানা, শিল্প, সব বন্ধ করেছেন মোদী। মোদী ভারতে যা করছেন, মমতাজি তা-ই বাংলায় করছেন।’ বাংলার আবেগ ছুঁতে এদিন নেতাজির প্রসঙ্গ টানেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি। নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন,  ‘এটা দুঃখের বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে ‘স্যার’ বলে ডাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সুভাষ বসু কোনওদিন কাউকে ‘স্যার’ বলে ডাকেননি। তিনিই আসল দেশভক্ত। ঠিক তেমনই গান্ধী, নেহরু কিংবা সর্দার প্যাটেল— তারা শহীদ হয়েছেন, বছরের পর বছর জেলে কাটিয়েছেন, কিন্তু কখনও ক্ষমতার সামনে মাথা ঝোঁকাননি।’

Sumit Chakraborty: