কলকাতা, ১৪ মে- বিধানসভায় শপথ নেওয়ার পরেই বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে গেল। একদিকে বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়ের কাছে শপথ নেওয়াকে ‘ভাগ্যচক্র’ বলে বর্ণনা করলেন, অন্য দিকে দলের ভেতরের এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে উগরে দিলেন একরাশ ক্ষোভ। শপথের দিনেই কেন কুণাল এমন কথা বললেন তা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
এদিন প্রোটেম স্পিকার হিসেবে কুণাল ঘোষকে শপথবাক্য পাঠ করান তাপস রায়। সেই ছবি পোস্ট করে কুণাল লেখেন, ‘ধন্যবাদ মাননীয়া দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ধন্যবাদ বেলেঘাটা কেন্দ্রের নাগরিকদের। শপথ পাঠ করালেন মাননীয় প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। দীর্ঘদিনের দাদা এবং নেতা।’ পুরনো প্রসঙ্গ টেনে কুণাল মনে করিয়ে দিয়েছেন, একসময় এই তাপস রায়কেই দলে রেখে দেওয়ার জন্য অনেক লড়াই করেছিলেন তিনি। কিন্তু সফল হননি।
তাপস রায় বা সজল ঘোষদের কেন দল ছাড়তে হয়েছিল, তা নিয়ে সরাসরি আঙুল তুললেন দলেরই এক বা একাধিক নেতার দিকে। তিনি লিখেছেন, তাপসদাকে তৃণমূলে রাখতে আমরা চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি, দুর্ভাগ্য। পরে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে আমি তাপসদাকে ভালো বলায় আমাকে দল সাসপেন্ড করেছিল। ঘটনাচক্রে আমি আজ দলের বিধায়ক এবং শপথবাক্য পাঠ করছি বিজেপির হয়ে জিতে আসা তাপসদার হাতে। ভাগ্যচক্র। সজল পুরপিতাও বটে। উত্তর ও মধ্য কলকাতায় তাপসদা, সজল ঘোষদের বাধ্য করা হয়েছিল দল ছাড়তে। দুজনকেই রাখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলাম। আজ তারা বিধায়ক । আমি তৃণমূলের সৈনিকই আছি। লড়াই চলবে। তবে যার বা যাদের জন্যে তাপসদা, সজলরা, আরও অনেকে দল ছেড়েছে, দলের ক্ষতি হয়েছে, তারপরেও একইরকম হোয়াটসঅ্যাপ কাঁদুনি পলিটিক্স করে স্বজনপোষণ চলছে, সেটা খুবই আপত্তির এবং উদ্বেগের।
এখানেই থামেননি কুণাল। তিনি লেখেন, এভাবে চললে কর্মীরা ধৈর্য হারাচ্ছেন। তৃণমূলকে চাঙ্গা করার লড়াইতে আত্মবিশ্লেষণটাও জরুরি। আমরা তৃণমূলের সৈনিকরা দলনেত্রীর নির্দেশে লড়ছি। জয় বাংলা। পোস্টের শেষে কুণাল যে সংযোজনটি করেছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে হাসির রোল উঠেছে। তিনি লিখেছেন, ‘পুনশ্চ: কেস দেবেন না প্লিজ।’ শপথগ্রহণের আবহে কুণালের এই ধরনের একটি পোস্ট যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশ।