একুশে জুলাই নিয়ে কর্মীদের বার্তা, শূন্য থেকে শুরুর ডাক মমতার

কলকাতা, ১৫ জুলাই- একের পর এক বিধায়ক দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। ক্রমেই যেন ছন্নছাড়া কালীঘাট তৃণমূল। পাল্লা ভারী আসল তৃণমূল ঋতব্রতদের। এই অবস্থায় ফের শূন্য থেকে শুরু করার ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সঙ্গ ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে যাওয়াদের আরও এক একবার বেইমান বলে আখ্যা দিয়ে মমতার বার্তা, ‘দলের প্রতীক দেখে আপনারা ভোট দিয়েছিলেন। বেইমানদের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ১৯৯৭ সালে একা ছিলাম। লড়াই করেছি। এখন ১৮ জন সাংসদ আছে। আরও বিধায়ক আছে। সেই সময় পারলে, ২০২৬ সালেও শুরু করার ক্ষমতা রাখি।’

            ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবির পরে তৃণমূলের রক্তক্ষরণ অব্যাহত। বুধবার ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন মমতার দীর্ঘ দিনের সঙ্গী মদন মিত্র। বিরোধী দল নেতার ঘরে যাওয়ার সময় মদনের দাবি, অভিষেকের জন্য এই দশা। শুধু তিনি নন, বুধবার অনুব্রত মন্ডলও দাবি করেছেন, তিনি জেলে গিয়েছিলেন অভিষেকের জন্য। পাল্টা মমতা আজ বলেন, ‘অভিষেক আপনাদের কাছে খুব খারাপ হয়ে গেছে, ওটা আসলে আপনাদের দল ছাড়ার একটা সস্তা বাহানা। মনে রাখবেন, ওঁর স্ত্রী যখন দেড় বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে সিবিআই দফতরে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন, তখন কোথায় ছিল আপনাদের নীতি? আজ ওঁর বিরুদ্ধে ২৫-৩০টি মামলা দেওয়া হয়েছে, তবুও সে মাঠ ছাড়েনি। সেটিং করে নিলে অভিষেক সবচেয়ে বেশি রেহাই পেত। কিন্তু সে মাথা নত না করে বাঘের মতো লড়ে যাচ্ছে। আগামী ৫০ বছর ওরাই এ দেশের রাজনীতি করবে।’ মদনের দলত্যাগ প্রসঙ্গে তার নাম না নিয়েই মমতা বলেন, ‘ভয় দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছেলে, স্ত্রীর নামে নোটিস দেওয়া হচ্ছে। আরও একজন আজ গিয়েছে, আগেই জানিয়েছিলেন তার পরিবারকে ইডি শমন করেছে। বুঝতে পেরেছিলাম। সব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’

            তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাপর্বের কথা তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কীভাবে লড়াই করে সেইদিন দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন দলীয় কর্মীদের সেই বার্তা দেন তিনি। তার কথায়, ‘১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি আমরা প্রতীক পাই। ১ মাসের ২২ দিনের মাথায় নির্বাচনে লড়াই করেছি। ৮ এমপি ছিল। ১৯৯৯ সালে ফের লোকসভা নির্বাচন হয়। আমরা ৯ জন হই। ২০০৪ সালে একা হয়ে গিয়েছিলাম। লড়াই করে গিয়েছি। এখন রাজ্যসভায় ১০ জন। লোকসভায় ৮ জন এমপি আছে।’ তার হাত ছেড়ে চলে যাওয়া নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যারা যাওয়ার চলে যাক। ১৯৯৭-৯৮ সালে লড়াই করতে পারলেও ২০২৬ সালেও শুরু করার ক্ষমতা রাখি।’

            আদালতের নির্দেশে এবার কালীঘাট তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ হতে চলেছে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে। সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার পরেও বেশ কিছু শর্ত বেধে দিয়েছে আদালত। আদালতের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে মমতা বলেন, ‘বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামে মিটিং হবে। আমি প্রতিবারের মতো ২০ জুলাই জায়গা পরিদর্শনে যাব। আমি পুলিশকে অনুরোধ করব যেন বিজেপি ও সেটিং পার্টি যেন কোনও ঝামেলা না করতে পারে, তা দেখতে। ডেকোরেটার্স মাইকদের ভয়ও দেখাতে পারে। তবে মনে রাখবেন খালি গলাতেও সভা করতে পারি। বলেছি যখন, মিটিং হবেই। আমরা ৩টে পর্যন্ত মিটিং করব।’ কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের সঙ্গে থাকা বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় দৈনিক সংবাদকে বলেন, ‘প্রতিবছর ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে আমাদের এই সমাবেশ হয়। এবার তা করতে পারছি না। কোথাও কর্মীদের আবেগ একটা ধাক্কা খাচ্ছে। এতদিন যে মানুষটা লড়াই করছেন সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কর্ণার করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।’

Sumit Chakraborty: