ফের বিজেপির সরকারকে হুঁশিয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

কলকাতা, ৪ আগস্ট- তার দলের বিধায়ক-সাংসদের ইডি, সিবিআই দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে, তৃণমূল ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে, আজ সমাজমাধ্যমে লাইভে এসে ফের এমন মন্তব্য করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে অসম্মানজনক মন্তব্যের প্রতিবাদেও সরব হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

            রাজ্যে সাধারণ নাগরিকদের উপর বিজেপি সরকারের অত্যাচারের অভিযোগ তুলে লাইভে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মী এবং সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি দুঃখিত আমি শোকাহত, বিজেপির কয়েকজন যারা রাজনীতির ‘র’ জানেনা, সংস্কৃতির ‘স’ জানে না, যারা সম্প্রীতির ‘স’ চেনে না, করা দেশটাকে চেনে না, বাংলাকে চেনে না তারা আজ দেশনায়ক সুভাষ চন্দ্র বসুকে অপমান করছে। কিন্তু মনে করবেন ও ব্যক্তিই প্রথম দেশের জন্য এত সংগঠন নির্মাণ করে দিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু আজ সেই দেশনায়ক, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সকলেই বাদ পড়ে গেলেন। অনেকে আবার দেশদ্রোহীও বলছেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুকে।’

            নির্বাচনের আগে বিজেপির প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে মমতা আজ বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি অনেক কথাই বলেছিল, ফাইল খুলবেন তাহলে কেন এখনও নেতাজির অন্তর্ধান রহস্যের ফাইল খোলা হচ্ছে না, আমরা দেশের নাগরিক হিসেবে যেমন মহাত্মা গান্ধীকে জাতির জনক হিসেবে সম্মান করি ঠিক তেমনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র কে দেশের নেতা হিসাবে সম্মান জানাই। তাই আমাদের অধিকার এই সত্য সকলের জানার। আমি যুবসমাজকে আহ্বান জানাই এই সত্য সরকারের কাছে জানার জন্য তারা যেন দাবি তোলে। আমরা নেতাজিকে অপমান করতে দেব না।’

            এদিন ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জোর করে একের পর এক পঞ্চায়েত, মিউনিসিপালিটি এবং জেলা পরিষদগুলো দখল করা হয়েছে। এখন ঘরে বসে ডিলিমিটেশনের কাজ চলছে এবং সেন্সাসের কাজ শুরু হলেও সেখানে কোনও রাজনৈতিক দলকে যুক্ত করা হয়নি। অন্তত তাদের জানানো তো দূরের কথা, কোনও রাখঢাক না রেখেই একতরফাভাবে এই কাজ চলছে। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘তাহলে বুঝুন সেন্সাসে কার নাম থাকবে আর জনগণনায় কার নাম বাদ যাবে! এমনিতেই তো ৩২ লক্ষ লোকের নাম এখনও ওঠেনি।’ দলীয় সভা করার অনুমতি না পাওয়া প্রসঙ্গে প্রশাসনকে একহাত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার স্পষ্ট কথা, যারা ভাবছে সভা করার অনুমতি না দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকে দেওয়া হচ্ছে এবং তাতে তারা লাভবান হচ্ছে, তারা আসলে বোকার স্বর্গে বাস করছে এবং তারাই সবচেয়ে বড় লুজার। আইন মেনে চলার কথা স্পষ্ট করে দিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, ‘আমি আইন মেনে চলি বলেই পারমিশন চাইছি। কিন্তু মনে রাখবেন, আইন যদি প্রশাসনের কাছে বেলাইন হয়ে দাঁড়ায়, তবে আমাদেরও প্রোগ্রাম করার অধিকার আছে, আন্দোলন করার অধিকার আছে।’

Sumit Chakraborty: