ভারতের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত!!

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের ফলাফল দেশীয় রাজনীতিতে খোলনলচে একেবারে পাল্টে দিয়েছে। এজন্যই কেন্দ্রের শাসক বিজেপির কাছে পশ্চিমবঙ্গ জয়টা ভীষণ প্রয়োজন ছিল। এবার জাতীয় রাজনৈতিক সমীকরণটা বেশ ভালোভাবে করতে সুবিধা হবে বিজেপির। বিজেপির লক্ষ্য ২০২৯। এমনও হতে পারে, এর আগেও দেশের রাজনীতিতে অনেক কিছু ঘটে যেতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল মানে এখনই হলফ করে বলে দেওয়া যায় আগামী ২০২৯ সালে বিজেপির পক্ষে ৪২-০ হবার সম্ভাবনা প্রবল।শুধু যে পশ্চিমবঙ্গের পালাবদলই দিল্লীর রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে তা নয়, দক্ষিণের তামিলনাডুর রাজনীতিও দিল্লীর সমীকরণ অনেকটা বদলে দিতে চলেছে।

গত মাসে পশ্চিমবঙ্গে ভোট চলাকালীন সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে আদতে ডিলিমিটেশন বিল পাস করাতে একটা উদ্যোগ নিয়েছিলো কেন্দ্রর শাসক বিজেপি। এই সংবিধান সংশোধনী বিলটি পাস করতে গেলে কেন্দ্রের কাছে দুই তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা প্রয়োজন ছিল। কেন্দ্রীয় সরকার জানতো যে, তাদের কাছে সেই প্রয়োজনীয় সংখ্যা নেই। এরপরও তারা সংবিধান সংশোধনী বিল এনেছিলো। স্বভাবতই বিল পাস করাতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার। প্রশ্ন, এটা যদি স্বাভাবিক হয় তাহলে বিলটি এনেছিলো কেন কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের শাসক বিজেপি দেখতে চেয়েছিলো কি সংখ্যা ভোট জোটানো সম্ভব হয় তাদের পক্ষে, অন্যদিকে বিরোধীদের তরফে ক্রস ভোটিং হয় কিনা তা নিয়েও একটা কৌতূহল ছিল। তৃতীয়ত বিরোধীদের গায়ে মহিলাবিরোধী তকমা লাগানোও ছিল সরকারের উদ্দেশ্য। সেজন্য ভোটের আদর্শ আচরণবিধি থাকা সত্ত্বেও টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং তাতে সরকারি প্রচারযন্ত্রকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। আসলে কেন্দ্রীয় সরকার এই একটি বিল লোকসভায় পেশ করে এক ঢিলে অনেকগুলি পাখি মারতে চেয়েছিলো বিজেপি। আপাতদৃষ্টিতে বিরোধীরা এতে তাদের জয় দেখলেও বিজেপি কিন্তু তাদের পরাজয় দেখেনি। বিজেপি মনে মনে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করে যে, আরও আগ্রাসী, বিধ্বংসী মেজাজে বিরোধীদের উপর হামলে পড়ে তাদের সাজানো বাগান তছনছ করে দেবে তারা এবং পশ্চিমবঙ্গের ভোটের পর এই উদ্যোগ অনেকাংশই শুরু হয়ে গেছে।

বিজেপির টার্গেট, ২০২৯-এর আগেই ফের মহিলা সংরক্ষণ চালু করা এবং তাও ডিলিমিটেশন করিয়ে এবং এতে সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা করার উদ্যোগ যেেেকানো মূল্যে নিতে চায় তারা। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর সেই উদ্যোগ প্রাথমিকভাবে শুরু হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ঘরে নানা কায়দায় হানা দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে যেন তৃণমূলের কাউকে বিজেপি নেবে না। কিন্তু ঘুরপথে তৃণমূল এমপিদের উপর এমন চাপ সৃষ্টি করা হবে যে, তাদের সিংহভাগই বিজেপিতে শামিল হতে বাধ্য হবে- রাজনৈতিক মহলের অনুমান এ রকমই। দ্বিতীয়ত তামিলনাডুতে কংগ্রেসের দীর্ঘকালের জোটসঙ্গী ডিএমকে এবার নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ার ফলে সুযোগ বুঝে কংগ্রেসও ডিএমকের হাত ছেড়ে দিয়েছে বিজয়ের হাত ধরে। দিল্লীর শাসক বিজেপি এবার চাইছে ডিএমকে-কে। ডিএমকে-র প্রায় ৮ জন লোকসভা সাংসদ রয়েছে। তাই এবার বিজেপির নজর পড়েছে ডিএমকে-র দিকে। তৃণমূলের সিংহভাগ সাংসদ যদি বিজেপির দিকে ঝুঁকে যায় এবং ডিএমকে-র সমর্থনও যদি পাওয়া যায় তাহলে লোকসভায় বিজেপির শক্তি বহুলাংশে বেড়ে যাবে নিঃসন্দেহে। তেমনি রাজ্যসভায়ও বিজেপির সমর্থন বেড়ে যাবে। শুধু যে তৃণমূল, ডিএমকে-র দিকে বিজেপি ঝুঁকছে এমনটা নয়, মহারাষ্ট্রের দিকেও বিজেপির নজর রয়েছে।

শোনা যাচ্ছে মহারাষ্ট্রের ২ শিবসেনা মিশতে চলেছে।তেমনি মহারাষ্ট্রের ২ এনসিপিও এক হতে চলেছে। উপরন্তু ৮ মাস বাদে বিধানসভা ভোট রয়েছে। বিজেপির নেক্সট টার্গেট পাঞ্জাব। এই সমস্ত সমীকরণ যদি শেষপর্যন্ত সবগুলিই বিজেপির পক্ষে যায় তাহলে ২০২৯ পর্যন্ত অপেক্ষা দরকার পড়বে না বিজেপির। বিজেপি এর অনেক আগেই সংসদের উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হবে, নয়তোবা দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন জোগাড় করতে সমর্থ হবে। আর এতেই বিজেপির মনোবাঞ্ছা পূরণ হতে পারে এবং এই লক্ষ্য নিয়েই এচ্ছে বিজেপি। আপাতদৃষ্টিতে এমনটাই মনে হচ্ছে।

Dainik Digital: