নয়াদিল্লি, ৩০ এপ্রিল : পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ পর্ব মিটতেই জামিন পেলেন ভোটকুশলী সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আই-প্যাক)-র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্দেল। বৃহস্পতিবার দিল্লির পটিয়ালা হাউজ় কোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করেছে। জানা গিয়েছে, বিনেশের জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
গত ১৩ এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদের পরে ভিনেশকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। সেই সময়ে বাংলায় ভোটের প্রচার চলছে জোরকদমে। ১৪ এপ্রিল তাকে দশদিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। এরপর ২৩ এপ্রিল তার হেফাজতের মেয়াদ শেষে তাকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়। গত মঙ্গলবার ভিনেশের অন্তর্বর্তী জামিনের আর্জি খারিজ করে দিয়েছিল আদালত।
বুধবারই দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হয়েছে। ঘটনাচক্রে, তার পরের দিন, বৃহস্পতিবার সকালেই জানা যায়, জামিন পেয়েছেন ভিনেশ। আইনি খবর পরিবেশকারী ওয়েবসাইট ‘লাইভ ল’ জানাচ্ছে, আদালত ভিনেশকে জামিন দেওয়ার সময়ে তার কোনও বিরোধিতা করেনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। পটিয়ালা হাউজ় কোর্টের বিচারক অমিত বনসল জামিনের নির্দেশ দেওয়ার সময়ে জানান, বিশেষ সরকারি আইনজীবীকে জামিনের বিরোধিতা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি।
আর্থিক তছরুপের একটি মামলায় ভিনেশকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি ছিল, আই-প্যাকের ৩৩ শতাংশের অংশীদার ভিনেশ এই অর্থ পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত। আই-প্যাকের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। গত ৮ জানুয়ারি কলকাতার সল্টলেকে আই-প্যাকের দফতর এবং সংস্থার অন্য এক প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই সময় এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী হয় কলকাতা। ইডির তল্লাশি চলাকালীনই রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের নিয়ে প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গিয়েছিলেন রাজ্য প্রশাসনের আরও শীর্ষ কর্তা। অভিযোগ উঠেছিল, তল্লাশি চলাকালীনই সেখান থেকে ল্যাপটপ, ফাইল ও নথিপত্র বের করে এনেছিলেন তিনি। এই ঘটনাটি নিয়ে জল গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত।