কবিতা : চওড়া রাস্তার পাশে, একটি পুরোনো বাড়ি

কিংকর নারায়ন দত্ত

অনেক দিন পর বাড়ি এসে লোহার গেটটা ঠেলতেই,
একটা শব্দ, খুব পরিচিত কিন্তু কষ্টের মতো শোনাল।
কড়া নাড়তেই দরজা খুলে দিলেন বাবা।
একপলকেই বাবা আর বাড়িটি যেন এক হয়ে গেল
চোখের নিমেষে।
বয়সের ভারে দুর্বল বাড়িটি
যেন এক গাল হেসে বলল,
এসেছিস, আয় আয় ভেতরে আয়।
বিবর্ণ দেওয়াল, পুরোনো গ্রিল, সাদা হয়ে যাওয়া বাবার চুল,
ভেঙে যাওয়া গালের হাসি যেন, বাইরের দেয়ালের পাশে
বড় নিম গাছটার দেহের রঙে মিশে যাওয়া এক পরিচিত খুশি।
বাবাকে জড়িয়ে ধরতেই
আম পাতার গন্ধ পেলাম। বাবা মোটা চাদরটা আরেকটু জড়িয়ে মাকে ডাকলেন। ঠাকুর ঘরের পাশে
কলার ঝাড়টাও যেন বড় বড় পাতা দুলিয়ে, বলে উঠল,
”তুমি শুনছ, বাবু, এসে গেছে গো।”
একটা টানা ঝির ঝির করে হাওয়ায়, কামরাঙা ডালে পাতাগুলো কাঁপছিল।
একই ভাবে নড়ছিল বারান্দায় বেয়ে ওঠা মাধবীলতার ফুলগুলোও। ছাদে ওঠার সিঁড়িটা তো উঁকি মেরে আমাকেই দেখছিল
প্রথম থেকে। বেশ শব্দ করে আস্তে আস্তে ঘুরছিল ফ্যানটা।
মায়ের আসার পায়ের শব্দটাও
যেন ঠিক একই রকম।

Sumit Chakraborty: