জিটিএ-র দুর্নীতির তদন্ত হবে, পাহাড়ের সভায় বার্তা শাহের

কার্শিয়াং থেকে পাহাড়বাসীকে বার্তা শাহের

কার্শিয়াং, ২১ এপ্রিল– বাংলায় বিজেপির সরকার ক্ষমতায় এলে তৃণমূলের বিভিন্ন দুর্নীতির তদন্তের হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছেন। এবার পাহাড়ের স্বশাসিত সংস্থা জিটিএ-র দুর্নীতির তদন্ত হবে বলেও ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার পাহাড়ের কার্শিয়াংয়ের সভা থেকে গোর্খাদেরও একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

            গোটা দার্জিলিংয়ে আগেই বিভিন্ন নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। কিন্তু জিটিএ নির্বাচনে তৃণমূলের সমর্থনে অনীত থাপার দল জয়ী হয়ে জিটিএ-র ক্ষমতা দখল করে। এদিন কার্শিয়াংয়ের সভা থেকে সেই জিটিএ-র দুর্নীতি নিয়ে সরব হলেন শাহ। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের বলে যাচ্ছি। বাংলায় বিজেপির সরকার গঠন হলে জিটিএ-র দুর্নীতির তদন্ত হবে।’ পাশাপাশি গোর্খাদের বার্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের গোর্খা ভাইয়ের উপর বহু মিথ্যা মামলা করবে। আপনারা আমার উপর ভরসা রাখবেন। ৪ মে ফলঘোষণা হবে। ৫ মে সরকার গঠন হবে। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সকল গোর্খা ভাইয়ের উপর থেকে সব মামলা প্রত্যাহার করে নেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সকলের উপর মামলা করে গোর্খা আন্দোলনকে দমিয়ে রাখা হয়েছে। এই সব মামলা বিজেপির সরকার প্রত্যাহার করবে। আপনাদের যাতে আন্দোলন না করতে হয়, এমন সমাধানও বের করব আমরা। ৫ তারিখের পর, গোর্খা সমস্যা সমাধান করার পরে, আবার আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে দার্জিলিঙে আসব।’

            বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার যে প্রচার করছে তৃণমূল তা আসলে ‘গুজব’ বলে মন্তব্য করেন শাহ। সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘মমতা দিদি গুজব ছড়াচ্ছেন। এখন যে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু রয়েছে, সেগুলো নাকি বিজেপি বন্ধ করে দেবে। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, জনকল্যাণমূলক একটি প্রকল্পও বন্ধ হবে না।’ এমনকী বর্তমানে যে প্রকল্পগুলি চলছে সেগুলি ছাড়াও আরও নতুন প্রকল্প বাংলায় চালু হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

উত্তরবঙ্গের মানুষকে শাহের বার্তা, ‘বিজেপি সরকার গঠিত হলে উত্তরবঙ্গে একটি পৃথক এমস তৈরি হবে। ৫০০ শয্যার ক্যানসার হাসপাতাল তৈরি করব উত্তরবঙ্গে। আইআইটি, আইআইএম তৈরি করব উত্তরবঙ্গে। গোর্খা তরুণদের জন্য ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়ও তৈরি করব উত্তরবঙ্গে। একটি আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়ও তৈরি হবে। দার্জিলিংকে আমরা ভারতের ইকো অ্যাডভেঞ্চার এবং হেরিটেজ টুরিজ়মের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলব। আমরা উত্তরবঙ্গ থেকে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে বেছে বেছে তাড়াব। উত্তরবঙ্গে চারটি নতুন শিল্পশহর তৈরি করব আমরা। সকল সরকারি কর্মীকে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশনের সুবিধা দেব। চা বাগানে স্কুল তৈরি করব। চা বাগানের শ্রমিকদের নিজেদের জমির মালিক করা হবে, জমির পাট্টা দেওয়া হবে। দু’বছরের মধ্যে চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি (দৈনিক) ৫০০ টাকার চেয়ে বেশি করে দেব।’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দার্জিলিঙের জন্য একটি বিকল্প মহাসড়ক তৈরির কাজও করছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। বাগডোগরা বিমানবন্দর ৩০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে বানানো হচ্ছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাগডোগরা ভারতের সপ্তম বৃহত্তম বিমানবন্দর হয়ে যাবে। সেই মতো কাজ চালাচ্ছি আমরা।’ কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমুকী প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে শাহ বলেছেন, ‘৯টির মধ্যে তিনটি বন্দেভারত ট্রেন আমরা উত্তরবঙ্গ দিয়ে চালিয়েছি। ১২,০০০ কোটি টাকার সেবক-রংপো রেললাইন প্রকল্প প্রায় শেষের মুখে। নিউ জলপাইগুড়ি রেলস্টেশনেরও বিকাশ হচ্ছে। গোর্খা ভাইদের শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী পর্যন্ত বুলেট ট্রেনে করে কাশী-বিশ্বনাথে পৌঁছোনোর ব্যবস্থাও করছি।’

            ভোটার তালিকা থেকে যে গোর্খাদের নাম  বাদ গিয়েছে তাদের নাম নতুন করে আবার ভোটার তালিকায় যুক্ত করার আশ্বাস দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মমতাদিদির কালেক্টর কয়েক জন গোর্খারও নাম কেটেছে। কোনও ব্যাপার না, আসন আমরাই পাব। ভোট শেষ হওয়ার পর বেছে বেছে প্রত্যেক গোর্খাকে আবার ভোটার তালিকায় জুড়বে বিজেপি।’ তার অভিযোগ, পাহাড়ে গোর্খাদের সমস্যা সমাধানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার গত ছ’বছরে তিনবার বৈঠক ডাকলেও তাতে রাজ্য সরকারের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত হননি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের জন্য মমতা সরকারের বাজেট ২,০০০ কোটি। আর মুসলিম সম্প্রদায় এবং মাদ্রাসার জন্য মমতা সরকারের বাজেট ৫,৮০০ কোটি টাকা। পুরো পাহাড়, সকল গোর্খা-আদিবাসী, গোটা উত্তরবঙ্গের জন্য ২,০০০ কোটি টাকা। আর মুসলিমদের জন্য ৫,৮০০ কোটি টাকা। ভাই-বোনেরা এই অন্যায় আর বেশিদিন চলবে না।’

Sumit Chakraborty: