সাক্ষরিত হতে চলেছে গ্রিনল্যান্ড চুক্তি, আমোরিকা-ডেনমার্কের ঐতিহাসিক সমঝোতা

ওয়াশিংটন, ১৯ সেপ্টেম্বর : শেষপর্যন্ত হতে চলেছে গ্রিনল্যান্ড চুক্তি। দখল করার হুমকির পথ থেকে আপাতত সরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার সঙ্গে ডেনমার্ক এবং তাদের স্বায়ত্তশাসিত অংশ গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত। আসন্ন চুক্তির মূল অংশ দু’টি। এক, আমেরিকা গ্রিনল্যান্ডে তার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করবে। দুই, আমেরিকার কোনও শত্রুদেশকে সেখানে ঘাঁটি বানাতে দেওয়া হবে না।

            নিজের সমাজমাধ্যম হ্যান্ডেলেই এই চুক্তির কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। পরে ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের তরফেও যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক চললে, আগামী সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার অধিবেশনের সময়েই সই হতে পারে ত্রিপাক্ষিক ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তি। ট্রাম্প মনে করছেন, ডেনমার্ক ও তার স্বায়ত্ত্বশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে এই চুক্তির মাধ্যমে, কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ডে নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ কার্যত নিরঙ্কুশ করে ফেলল আমেরিকা। যদিও গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সেনার উপস্থিতি নতুন নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই এই দ্বীপে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ছিল। বর্তমানে অবলুপ্ত সোভিয়েট ইউনিয়নের সঙ্গে আমেরিকার ঠান্ডা যুদ্ধের অবসানের পর অবশ্য তার সংখ্যা অনেকটাই কমে যায়।

            একসময় এই গ্রিনল্যান্ডকে কিনে নেওয়ার জেদ ধরেছিলেন ট্রাম্প। প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগেরও হুমকি দেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছোয় যে, আমেরিকা জোর করে দখল নিতে এলে গ্রিনল্যান্ডের রানওয়েগুলি বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা পর্যন্ত করে ফেলেছিল ডেনমার্কের সামরিক বাহিনী। নিজের সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ত্রিপাক্ষিক সমঝোতাকে আমেরিকার ‘স্বপ্নপূরণ’ আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। তার দাবি, এক প্রকার বিনা খরচেই গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার সম্পূর্ণ এবং ‘স্থায়ী’ নিয়ন্ত্রণ পেল আমেরিকা।   

Sumit Chakraborty: