নানুর, বীরভূম, ২০ এপ্রিল – বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে এবার নজিবিহীন হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ক’দিন বাদেই বাংলায় ভোট। আর তার আগে সোমবার বীরভূমের নানুরের হাইভোল্টেজ সভা থেকে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজনাথ। তার বক্তৃতায় উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার ঘরানার ‘এনকাউন্টারের’ ইঙ্গিত উঠে এসেছে, আর তা নিয়েই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক হিংসা থেকে শুরু করে নানা ঘটনার সাক্ষী এই নানুর। সেখান থেকেই আজ দলীয় সভায় রাজনাথ সিং স্লোগান দিয়ে দলের কর্মীদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘জোড়া ঘাসফুল হবে ছারখার। দুর্নীতি থাকবে না আর। ফুটবে এবার পদ্মফুল, এক নতুন বাংলা গড়বে ফুল।’ আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলায় প্রচারে এসে হিসাব বুঝে নেওয়ার কথা বলেছেন। গুন্ডাদের আত্মসমর্পনের জন্যেও সময়সীমা বেঁধে দেন প্রধানমন্ত্রী। এবার তার থেকেই একধাপ এগিয়ে যেন চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজনাথ।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে কাটমানি এবং সিন্ডিকেটের পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ তুলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ’বিজেপি ক্ষমতায় এলেই এইসব গুন্ডাদের সিধে করে দেওয়া হবে। একবার বাংলায় আমাদের সরকার হতে দিন, গুন্ডারা হয় ঘরে ঢুকে যাবে, নয় জেলে থাকবে, নয়তো ওপরে চলে যাবে!’ রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘উপরে চলে যাওয়া’-র এই বার্তা আসলে অপরাধীদের খতম করা বা এনকাউন্টারেরই প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত। আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। টিএমসি নামের একটি আলাদা ব্যাখ্যাও তুলে ধরে রাজনাথ। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল মানে হল ‘টোটাল মিসরুল অ্যান্ড করাপশন’ (সম্পূর্ণ অপশাসন ও দুর্নীতি)।’ তার দাবি, রাজ্যের ‘মা-মাটি-মানুষ’ আজ তৃণমূলের হাতে চরমভাবে বঞ্চিত। অনুপ্রবেশকারী ইস্যু থেকে শুরু করে তোষণনীতি এবং নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে মমতা সরকারকে তুলোধনা করে তিনি বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দিয়ে তৃণমূল শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের ক্ষতি করছে। এই সরকারের অপশাসনের কারণেই বাংলার মেধাবী যুবকদের আজ কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে চলে যেতে হচ্ছে।’
বাংলায় নারীদের সুরক্ষা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন রাজনাথ সিং। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে মহিলারা আজ সবথেকে বেশি অসুরক্ষিত। তার আশ্বাস, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই বাংলায় এক ‘নতুন সকাল’ আসবে এবং সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে বাঁচতে পারবেন।