কলকাতা, ১৮ জুন- বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হলো বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন। আর প্রথা মেনে সেই অধিবেশনের সূচনা বক্তৃতায় বাংলার বিজেপি সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। পাশাপাশি ‘দুর্নীতি’ প্রসঙ্গে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সমালোচনার সুরও শোনা গিয়েছে রাজ্যপালের বক্তৃতায়। জনবিন্যাস বদল, তোলাবাজি, অত্যাচার, নারী নির্যাতন থেকে শুরু করে বেআইনি উচ্ছেদ- এ হেন যাবতীয় ইস্যুতে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরলেন তিনি। এককথায় রাজ্যপালের ভাষণেও সেই ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’-এর বার্তাই শোনা গিয়েছে।
আজ সকাল ১১ টা থেকে শুরু হয় অধিবেশন, যা চলবে আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত। আর ২২ জুন বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সূচনা ভাষণে বাংলায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেছেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, ‘অনুপ্রবেশে বদলেছে বাংলার জনবিন্যাস। তা রুখতে রাজ্য সরকার রুখতে বদ্ধপরিকর। ইতিমধ্যেই সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর শুরু হয়েছে।’ নারী নিরাপত্তা ও শিশু নির্যাতনে রাজ্যের জিরো টলারেন্স নীতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। রাজ্যপাল তার বক্তৃতায় বলেন, ‘রাজ্যে তোলাবাজি, দুষ্কৃতীরাজের অবসান হয়েছে। মানবপাচার রুখতে কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। বছরের পর বছর দখল করে রাখা জমি উদ্ধার করে শিল্পে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে রাজ্যে।’ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পেরও প্রশংসা শোনা গিয়েছে বক্তৃতায়।
রাজ্যপাল জানান, সরকারি জমির অবৈধ দখলদারি যেমন রোখা হবে, তেমনই বিগত দিনে চলা বালি পাচার ও খনিজ সম্পদ লুট রুখতেও বড়সড় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রাজ্যপালের ভাষণে আক্ষেপের সুরও শোনা গিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বাংলার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের একগুচ্ছ জনকল্যাণমুখী প্রকল্প থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তবে নতুন রাজ্য সরকার বাংলার প্রতিটি যোগ্য নাগরিকের কাছে এই সমস্ত কেন্দ্রীয় সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সমস্ত রকম প্রচেষ্টা চালাবে। বাংলায় বিজেপির সরকার আসার পরেই বাংলাকে শিল্পবান্ধব রাজ্য হিসেবে তুলে ধরতে তৎপর হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। বাজেট অধিবেশনের সূচনা ভাষণেও সেই শিল্প ও পরিকাঠামোর নতুন রোডম্যাপও ঘোষণা করেছেন রাজ্যপাল। তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গকে আবারও দেশের শিল্পের শীর্ষ ক্ষেত্রে ফিরিয়ে নিয়ে আসাই নতুন প্রশাসনের লক্ষ্য। এর জন্য বিগত সরকারের আমলে রাজ্যের যে সমস্ত জমি অধিগৃহীত হওয়ার পর অব্যবহৃত বা ফেলে রাখা হয়েছিল, সেগুলিকে পুনরুদ্ধার করে সরাসরি নতুন নতুন শিল্পের কাজে লাগানো হবে। পাশাপাশি বাংলার দীর্ঘ উপকূলীয় পরিবহণ, অন্তঃদেশীয় জলপথ পরিবহণ এবং মৎস্য চাষের আধুনিকীকরণেও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হবে।
বাংলায় কর্মসংস্থান ও শিক্ষাব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন রাজ্যপাল। তিনি জানিয়েছেন, এবার রাজ্যে সম্পূর্ণভাবে জাতীয় শিক্ষানীতি চালু হতে চলেছে। তিনি আরও বলেছেন, প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের জন্য এবার থেকে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে টেট পরীক্ষা নেওয়া হবে। বিদ্যালয়ে ছাত্র ও শিক্ষকের সঠিক অনুপাত বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হবে এবং গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরিগুলিকে আধুনিক পরিকাঠামোয় আনা হবে। এছাড়া উত্তরবঙ্গের শিক্ষা ও প্রযুক্তির বিকাশের জন্য সেখানে একটি নতুন আইআইটি গড়ে তোলার বড় ঘোষণা করেছেন রাজ্যপাল। বাংলায় যুব সম্প্রদায়ের প্রতি তার বার্তা, বাংলার মেধাবী যুবসমাজ যাতে চাকরির খোঁজে ভিনরাজ্যে বা পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে চলে যেতে বাধ্য না হয়, তার জন্য রাজ্যে বিশাল ‘স্টার্টআপ হাব’ গড়ে তোলা হবে, যা বেকার যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভর হতে প্রভূত সাহায্য করবে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বন্ধ হয়ে থাকা চা বাগানগুলিকেও নতুন করে খোলার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।