কলকাতা, ২৮ অক্টোবর- পুজো পাস মামলায় এবার গ্রেফতার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির মামলায় নাম জড়িয়েছিল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, তার স্ত্রী এবং তাদের সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর। বুধবার সেই মামলাতেই গ্রেফতার হয়েছেন ইন্দ্রনীল।
এদিন দুপুরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তলবে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন মন্ত্রী। তখনই দেখা যায়, সিজিও কমপ্লেক্সের ভেতরে ও বাইরে থিকথিক করছে পুলিশ। হঠাৎ করে পুলিশের এই তৎপরতা দেখে অনেকের মনে হয়েছিল, এবার হয়তো গ্রেফতার হতে পারেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। শেষপর্যন্ত তাই হলো। চার ঘণ্টা পরে ইডির দফতর থেকে বেরতেই তাকে গ্রেফতার করে গাড়িতে তুলে নিয়ে বেরিয়ে যায় পুলিশ। সূত্রের খবর, প্রাক্তন মন্ত্রীকে গ্রেফতার করে লালবাজার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতা পুলিশ তাকে দুর্নীতি মামলায় তলব করেছিল। কিন্তু তাতে কোনও সাড়া দেননি তিনি। তবে বুধবার ইডির তলবে সাড়া দিয়ে বেরনোর সময়ই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
ইন্দ্রনীল সেন মমতা সরকারের আমলে তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রী ছিলেন। অভিযোগ ওঠে তার আমলে বিপুল অঙ্কের পাস দুর্নীতি হয়েছে। সেই আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে ইন্দ্রনীল সরাসরি যুক্ত বলে দাবি। ‘মাস আর্ট’ প্রতারণা মামলায় তদন্ত করছে লালবাজারের গোয়েন্দা শাখা। কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের অধীনে মামলার তদন্ত শুরু করেছে ইডি। বউবাজার থানায় ‘মাস আর্ট’ নামক একটি সংস্থার মাধ্যমে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো ও ভিআইপি পাস বিক্রি ও কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ট্রাভেল এজেন্ট মামলটি দায়ের করেন। সেই অভিযোগের তদন্ত করছে লালবাজারে গোয়েন্দা শাখা। উল্লেখ্য, ২০২২ থেকে ২০২৪। এই তিন বছরে এক লাখেরও উপর প্রিভিউ কার্ড বিক্রি করেছিল প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা। বিক্রি বেড়েছিল দ্বিগুণ। এছাড়াও ডোনার কার্ড বিক্রি হয়েছিল বিপুল টাকায়। ওই বিপুল ৬০ কোটি টাকার অংশ কি আদৌ কোনও পুজো কমিটির অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল, সেই তথ্য ইডি ইন্দ্রনীলকে জেরা করেছে আগেই। তার হুগলির বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। এবার তাকে গ্রেফতার করল লালবাজারের গোয়েন্দা শাখা।
ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ওঁর বিরুদ্ধে ইডি এবং কলকাতা পুলিশ তদন্ত করছিল। তারা নিশ্চয়ই তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে। তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ হয়েছে।’ একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘আমি বহু রাজনৈতিক সভাতে বলেছি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদতে হয়েছে। একা তো খাননি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরও ভাগ থাকতে পারে। মমতার সঙ্গে একই গাড়িতে (ইন্দ্রনীল) ঘুরতেন, গান গাইতেন। আগে সিপিএমের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এঁরা সময়ে সময়ে রং বদলান। পরিবর্তনের পর একটু প্রশংসা করছিলেন সরকারের। বিজেপিতে এ সব হবে না।’