মুনমুন দাস
আধ্যাত্মিক জীবন হল ত্যাগের মাধ্যমে সত্যিকারের প্রাপ্তি এবং প্রেম ও ভক্তির মাধ্যমে পরমসত্তার সঙ্গে যুক্ত হওয়া। আত্ম অনুসন্ধান করাই হল আধ্যাত্মিকতার মূল দিক। আধ্যাত্মিক বা Spiritual শব্দের অর্থ হল আত্মা বা পরম সত্তা সম্পর্কিত, যা জাগতিক বা ভৌত জগতের ঊর্ধ্বে। অনেকের কাছে আধ্যাত্মিকতা মানেই ধর্ম, কিন্তু আধ্যাত্মিকতা ধর্মের গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক বেশি ব্যক্তিগত ও মানবিক। ধর্মীয় আচার আয়োজন ছাড়াও একজন ব্যক্তি নিজের আত্মিক চর্চার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক হতে পারেন। এই পথ মানুষকে ভোগবাদী জগত থেকে বের করে সত্য ও শান্তির পথে চালিত করে। আলোর দিশারীর অনুসন্ধানে বেরিয়ে পড়েছিলাম আগরতলা শহর থেকে কিছুটা দূরে এক শান্তির নীড়ে। সেখানে একান্ত আলাপচারিতায় মুখোমুখি ডঃ নয়না চক্রবর্তীর সঙ্গে।
আপনার জন্মস্থান :
আমার নাম নয়না চক্রবর্তী। আমার জন্ম ত্রিপুরা রাজ্যের উদয়পুর খিলপাড়া অন্তর্গত ঠাকুরপাড়াতে। আমার বাবা নারায়ণ চক্রবর্তী ও আমার মা শ্রীমতি অর্চনা চক্রবর্তী। আজকে আমি যতটুকু শিক্ষা অর্জন করতে পেরেছি তার সবটুকু কৃতিত্বের হাতেখড়ি আমার দাদুভাই স্বর্গীয় পরিমল চক্রবর্তী হাত ধরেই।
আপনার ছোটবেলা, বড় হয়ে ওঠার কিছু গল্প বলুন:
আমাদের পরিবার ত্রিপুরা রাজ্যের স্বনামধন্য ঐতিহাসিক উদয়পুরের ত্রিপুরেশ্বরী মায়ের মন্দিরের পৌরোহিত্যের সঙ্গে যুক্ত। ছোটবেলা দাদুভাই আর আমার বাবা ত্রিপুরেশ্বরী মায়ের মন্দিরের পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। দাদুভাইয়ের প্রয়াণের পর আমার বাবা এখনো মায়ের পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় রীতিনীতি, পুজো উপাচার দেখেই বড় হয়ে ওঠা। দাদুভাই আর বাবার কাছে কত স্মৃতি রোমন্থন করা গল্প শুনে বেড়ে উঠেছি।
আপনার স্কুল আর কলেজ জীবন :
উদয়পুরের রমেশ উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে স্কুল জীবন সম্পন্ন করেছি। তারপর ইংরাজি অনার্স নিয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করি। IGNOU থেকে MA (Eng) সম্পন্ন করি। B.ED সম্পন্ন করি Sociology (Hons) নিয়ে। তারপর জ্যোতিশাস্ত্র নিয়ে গবেষণা শুরু করি এবং ডক্টর অফ ফিলোসফি (PhD) সম্মান অর্জন করি রাজস্থানের Shree Maharshi College of Vedic Astrology থেকে। তারপর ট্যারোট কার্ড পড়া নিয়ে আমার অধ্যায়ন শুরু করি এবং এই Tarot reading-এ International book of world record-এ আমার নাম স্থান পায় ২০২৫-এ World Record-এ স্থান পায়। সর্বোপরি যে দু’জন শিক্ষকের সাহচর্যে আমার PhD ডিগ্রি সম্পন্ন করি ওঁরা হলেন ড. আরতি শর্মা এবং ড. বিকাশ চৌহান ২০২১-২০২৩ সালে, আমার পিএইচডি ডিগ্রির বিষয়বস্তু ছিল পাস্ট লাইফ, ম্যারেজ, ব্ল্যাক ম্যাজিক এবং শিশু সাইকোলজি এই বিষয়ে। ২০২৫ সালে কামাক্ষ্যা পূর্ণতীর্থস্থানে অঘোরী আখরাতে অঘোর গুরু মণিকন্দনজির তত্ত্বাবধানে অঘোরী দীক্ষা লাভ করি।
সবকিছুর পেছনে যে মানুষটির অনুপ্রেরণা তিনি হলেন আমার স্বামী প্রবাল অধিকারী।
আপনার শখ :
ছোটবেলা থেকেই আমার লেখা ও আবৃত্তির খুব শখ।
আধ্যাত্মিক জীবনে আপনার প্রবেশ :
ছোটবেলা থেকেই দশমহাবিদ্যার অন্যতম প্রধান দেবীর (মা ত্রিপুরেশ্বরী) আরাধনায় নিয়োজিত আমাদের পরিবার, মায়ের আশীর্বাদ ধন্য আমাদের পরিবারের সবাই। ছোটবেলা থেকেই পূজার্চনা করেই আমাদের বড় হয়ে ওঠা। মা ত্রিপুরেশ্বরীর কৃপাধন্য হতে পেরে আমাদের জীবন ধন্য আজ। ছোটবেলা আমাদের বাড়ির ঠাকুরঘরে আরাধ্যা দেবীর পূজার্চনা করতাম। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে এসে একদিন হঠাৎ মায়ের ছোট বিগ্রহের খোঁজে কাসারি পট্টি (আগরতলা শান্তিপাড়াতে) থেকে ছোট একটি কালীমায়ের বিগ্রহ এনে নিজের হাতে মাকে সাজিয়ে মায়ের পুজো শুরু করি, যিনি আজ আমার সোনা মা হিসেবে পূজিত আমার গৃহে। আমি তার সেবাদাসী হয়ে নিয়মিতা তঁার চরণে নিজেকে নিয়োজিত করে রেখেছি। আমার অধ্যবসায় আমার প্রেডিকশন সবকিছু আমি আমার শখ এবং সবার মঙ্গলার্থে ব্যবহার করি, কোনো দিনও এই শখ যেন আমার পেশা না হয়ে ওঠে এটাই আমার কাম্য। আমি চাই সবার বিপদে যেন আমার সাধ্য মতো ঢাল হয়ে দঁাড়াতে পারি। মা ত্রিপুরেশ্বরীর আশীর্বাদে আমরা সবাই যেন একে অপরের সুখ-দুঃখের পরিপূরক হয়ে জীবন অতিবাহিত করতে পারি।
আমাদের সবার উদ্দেশ্যে আপনি কিছু বলুন :
মা ত্রিপুরেশ্বরীর আশীর্বাদ সকল সন্তানের ওপর বর্ষিত হোক। শ্রীমা সারদার কথায়, বহু তপস্যা করলে এই মন স্তব্ধ হয়। যারা পরমার্থ, খুব চিন্তা করে তাদের মন খুব সূক্ষ্ম স্তব্ধ হয়ে যায়, সেই মন যা করে, সেটাকে খুব আঁকড়ে ধরো। ভগবান দর্শন বলো, ধ্যান বলো সবই সবই মন। মনকে স্থির করলে সবকিছুই সম্ভব হয়।