কলকাতা, ৬ মে- বাংলার নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে প্রথামাফিক রাজভবনে (বর্তমানে যার নাম লোকভবন) সীমাবদ্ধ না রেখে এবার ব্রিগেড ময়দানে বড় পরিসরে শপথের অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নিল বিজেপি। আগামী ৮ মে শুক্রবার বিকেল চারটের সময় বিজেপির বিধায়ক দলের বৈঠক এবং ৯ মে শনিবার শপথগ্রহণ। ওই দিনই পঁচিশে বৈশাখ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। আর সেই বিশেষ দিনটিকেই বেছে নিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। এ নিয়ে আলোচনা করতে আজ নবান্নে গিয়ে মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। নবান্নে প্রবেশের আগে শমীক জানান, ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা কোনওভাবে বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন জানাবেন তিনি।
বঙ্গ বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ৯ মের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। এর পাশাপাশি বিজেপিশাসিত একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও থাকতে পারেন বলে খবর। ব্রিগেডে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়েই বুধবার মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার সঙ্গে আলোচনা করেন শমীক ভট্টাচার্য। আগেই শমীক জানিয়েছিলেন, ভোট পরবর্তী হিংসা কোনওভাবে বরদাস্ত করা হবে না। এমনকী বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে কেউ যদি কোনও অশান্তি তৈরির চেষ্টা করে তাহলেও প্রশাসন যাতে কড়া ব্যবস্থা নেয় সেই আবেদন জানিয়েছেন শমীক।
নবান্নে যাওয়ার পথে শমীক ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘বিজেপির পতাকা নিয়ে কেউ যদি তৃণমল কংগ্রেস তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে, তার দায় এই মুহূর্তে বিজেপি নেবে না। কারণ, এখনও আমরা ক্ষমতায় আসিনি।’ তার সংযোজন, ‘আমি ছ’মাস আগে থেকে বলে আসছি, তৃণমূল চলে গিয়েছে, তৃণমূল চলে যাবে এবং তৃণমল চলে যাওয়ার পরে যে ‘ব্রিদিং টাইম’ থাকে, সেখানে রাজ্যপাল এবং নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব নিতে হবে— তৃণমূলকে তৃণমূলের হাত থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব।’
বিজেপির রাজ্য সভাপতির দাবি, ভোট পরবর্তী হিংসার নামে যা হচ্ছে তা আসলে তৃণমূল বনাম তৃণমূলের লড়াই। এদিন নবান্ন থেকে বেরিয়ে শমীক জানান, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সমাজের নানা ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠিত মানুষ উপস্থিত থাকবেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘বিজেপির তৃণমূলীকরণ হবে না। আমাদের দলের দু’জন কর্মী খুন হয়েছেন। তৃণমূলের অফিস দখল করছেন তৃণমূলেরই আরেকটি গোষ্ঠী। আমরা বলে দিয়েছি, আমাদের দলের কেউ যদি এমন দখলের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকেন তাকে দল থেকে বের করে দেওয়া হবে। এই জয় মানুষের জয়। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন, ভয়ের বাতাবরণ থেকে বের করে ভরসা দেব মানুষকে। সেই কথা আমরা রাখব।’ শমীক এদিন ফের জানিয়েছেন, বিজেপির নতুন সরকার মহাকরণ থেকে পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, নতুন সরকার মহাকরণ থেকে পরিচালিত হবে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী যিনি হবেন তিনি পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেবেন।’