কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে ইভিএম লুঠের ছক কষা হয়েছে, বিষ্ফোরক অভিযোগ মমতার

খড়দহ, উত্তর চব্বিশ পরগনা, ২০ এপ্রিল– আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। আর তার আগে সোমবার বিষ্ফোকর অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বীরভূমের মুরারই থেকে তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে ইভিএম লুঠের ছক কষা হয়েছে। এমনকী গণনা পর্বেও কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে কর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

            কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাঠগড়ায় তুলে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘আমাদের কাছে খবর আসছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ইভিএম লুঠ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’ গণনার দিনেও বড়সড় কারচুপির আশঙ্কা করে দলের কর্মীদের তার পরামর্শ, ‘কেউ ১০০ ভোট পেলে ওরা কম্পিউটারে তুলবে মাত্র পাঁচ। এটা মাথায় রাখবেন।’ গণনা কেন্দ্রে যারা দলের হয়ে নজরদারিতে থাকবেন, তাদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। কর্মীদের ‘যুদ্ধ’ জয়ের ডাক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, গণনার মেশিনে যারা থাকবেন, তারা যেন প্রতিটি বিষয় খুঁটিয়ে দেখেন। যতক্ষণ না পর্যন্ত নির্ভুলভাবে কম্পিউটারে ভোট তোলা হচ্ছে, ততক্ষণ কেউ যেন হাল না ছাড়েন। লড়াই চালিয়ে যেতে হবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। জয়ের ব্যাপারেও আজ আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা গিয়েছে তৃণমূলনেত্রীর গলায়। তার কথায়, ‘তিন সপ্তাহ পরে তৃণমূলের সরকারই আসছে। এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।’

            আজ বীরভূমের মুরারইয়ের পাশাপাশি উত্তর চব্বিশ পরগনার খড়দহ এবং তারপর উত্তর কলকাতার বেলেঘাটায় সভা করেন মমতা। আর সেই দুই সভা থেকেও একই সুরে বিজেপিতে আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। তার হেলিকপ্টার নামতে দেরি হওয়ার কারণে সভায় আসতে দেরি হয়েছে বলে জানান তৃণমূলনেত্রী। তবে তার দাবি, পরিকল্পিতভাবে তার কপ্টার নামতে দেরি করে দেওয়া হচ্ছে। বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী খড়দহের সভায় বলেন, ‘ওদের সব এজেন্সির ক্ষমতা বড়, না মানুষের ক্ষমতা বড় আমিও দেখতে চাই।’ আক্রমণাত্মক সুরে মমতা বলেছেন, ‘বাংলার উপর যে অত্যাচার করেছ, গণতান্ত্রিক ভাবে তার বদলা তো নেবই! ভোটের বাক্সে বদলা হবে।’ ঝাড়গ্রামে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়েও কটাক্ষের সুর শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। তিনি বলেন, ‘শুনলাম উনি (নরেন্দ্র মোদি) কাল ঝালমুড়ি খেয়েছেন। এসপিজি-কে দিয়ে মুড়ি বানিয়ে খেয়েছেন, আগে থেকে দোকানে মাইক-ক্যামেরা রাখা ছিল। সব নাটক! নাহলে ক্যামেরা কেন ছিল দোকানের ভিতর? শুনেছি, আবার দামও দিয়েছেন। ওঁর পকেটে ১০ টাকা থাকে নাকি?’

            এই আবহে সোমবার কামারহাটি এলাকায় প্রচারের অংশ হিসেবে ঝালমুড়ি বিক্রি করলেন তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্র। দাপুটে নেতার হাতে তৈরি ঝালমুড়ি খেয়ে আপ্লুত স্থানীয়রা। মোদির ঝালমুড়ি খাওয়া প্রসঙ্গে মদন বলেন, ‘মোদিজি আমাদের কাছে আশীর্বাদ। উনি যত মুড়ির দোকানে গিয়ে নাটক করবেন, আমরাও পরেরদিন থেকে মুড়ি খাব। উনি যে মুড়ি খেতে খেতে এত প্রতিশ্রুতি দিলেন, এসব তো আগেও বলেছে। আজ অবধি একটাও হয়েছে? তৃণমূল মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেয় না। আমরা যা বলি তা করি। মানুষ এবার জানুক যে মোদি কাল যেটা খেয়েছে ওটা ওনার থাবার না। ওটা নাটকের খাবার। উনি একবার মুখে দিয়ে ফেলে দিয়েছেন। উনি বাঙালিকে ঘেন্না করেন তা বঙ্কিম দা মন্তব্যেই স্পষ্ট। পরেরদিন দেখবেন কাবুলিওয়ালা সেজে। ভোটপ্রচারের শেষদিন আসবেন সুইপার হিসেবে। বাঙালি ওদের নোংরামি ধরে ফেলেছে।’

            ভোটের আগে তার দলের অনেককে গ্রেফতারের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা আসলে বিজেপির রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করা ছাড়া আর কিছুই নয়। এই আশঙ্কা থেকে ইতিমধ্যে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। কটাক্ষের সুরে মমতা বলেন, ‘তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হচ্ছে— তাহলে কি তৃণমূলের সবাই চোর? বাংলায় তো একটা কথা আছে, ‘চোরের মায়ের বড় গলা’। আমাদের তো একটাই এজেন্সি, আর আপনাদের রয়েছে হাজারটা। তাদেরও নাকি বাংলা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে— এতে লজ্জা লাগে না? যারা আজ বড় বড় কথা বলছে, তারা ডাকাতের পার্টি। হার্মাদদের পার্টি। সিপিএমের যত হার্মাদ, সব হয়েছে এখন বিজেপির ওস্তাদ।’     

Sumit Chakraborty: