ধৃতি-মান

শুভাশিস চৌধুরী

পর্ব-৫
অচেনা কোনো পাখির ডাকে,সকালে আধো ঘুম কাটিয়ে উঠে, ঘর থেকে ওরা দুজন বেরিয়ে পরে রাতের পোশাকেই। গিয়ে বসল লজের সামনে সেই কালীমন্দিরের আগে, একটা ছোট্ট পার্কে। “I LOVE DIMHASA” লেখা ছোট্ট বোর্ডের পাশে,সবুজ ঘাসের উপর রাখা বেঞ্চিতে। সামনে আরো দু তিনটে ভিউ পয়েন্ট বানানো আছে কাঠের সিঁড়ি বানিয়ে। সব কটাতেই আছে বেড়াতে আসা মানুষ।সকালের সূর্যালোক কত মিষ্টি!সে ওরা অনুভব করল।না, কোন কথার ভার নয়,শুধু আকাশপাড়ে পাহাড়ের গায়ে লেগে থাকা টুকরো টুকরো মেঘের দিকে তাকিয়ে, সময় কাটালো।

এখানে দলে দলে মেঘের উড়ে যাওয়া নেই।এখানে দলে দলে ভাগ হয়ে মেঘেরা পাহাড়কে পাহারা দেয়। পাখির কলরব নেই,এত ঘন জঙ্গলেও কোনো পশুর দেখা নেই।কাজেই শুধু মেঘ পাহাড়ের গায়ে সোনা রোদ দেখা।বেশ কিছুক্ষন ওরা বসল।

প্রদীপের গাড়ি এসে জানান দিল,ওদের এবার যাবার পালা।

ধৃতি-মান ঘরে ফিরে সকালের নৈমিত্তিক কাজ সারল একে একে।ধৃতির দেওয়া অর্ডার মতো ব্রেকফাস্ট আসতে আসতে মানসও তৈরি হয়ে নিল। সকালের ইলশেগুঁড়ি আজও খারাপ লাগছে না ওদের।শীত নেই।গরম যেটুকু তাতে হালকা ফ্যান লাগে। না চালালেও চলে।দুজনে উঠে এল প্রদীপের গাড়িতে।গাড়ি পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে এসে গতকালের চেনা শহর পেরিয়ে চলল।

এবার এই শহর ছেড়ে যাচ্ছে আর এক শহরে।নাম জানতে চায় না,তবু ওই বীরাঙ্গনার স্ট্যাচুটা পেরিয়ে গাড়ি চলল আপন গতীতে।বাঁ দিকে পাহাড়ের গায়ে বেশ কিছু হোম স্টে।হঠাৎ দেখতে পেল একটা রাস্তার নাম কাউন্সিল হস্টেল রোড।আসলে হস্টেল কথাটাই ধৃতিকে নষ্টালজিক করে তোলে।ও দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে ড্রাইভার বলল,এদিকে একটা হোম স্টে আছে,”ল্যান্ড মার্ক”।পরের বার এলে আপনাদের ওখানে নিয়ে যাব।এ ছাড়াও আছে। মানস বলল,বাঙালীদের কোনো হোটেল বা হোম স্টে নেই?প্রদীপ বলল,থাকবে না কেন?”আপনা ঘর”তো বেশ অনেক দিনের।এ ছাড়া আরও আছে যেতে যেতে দেখিয়ে দেব।আর বাঙালী নেই,এমনটা হবে কেন এই আসামে?

এটা অবশ্য ঠিক।আসলে এই শহরে পথ চলতি মানুষদের মধ্যে ডিমাসা,নাগা,মণিপুরী মানে উপজাতি মানুষের চেহারা বেশি দেখতে দেখতে ভুলেই গেছিলাম যে,আমরা আসামেই আছি।মানস বলতে বলতে তাকিয়ে দেখে, ধৃতি জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে।

কিছুদূর যেতেই একটা শিব মন্দিরের সামনে গাড়ি থামল।ওরা নেমে চা খেলো।অনেক গাড়িই এখানে দাঁড়ালো।পথ চলতি সবার কথাবার্তা শুনে বুঝতে অসুবিধে হল না,এটা পরের দীর্ঘ রাস্তার আগে, একটু দম নেওয়ার জায়গা।

এবারের রাস্তা শহরের মত মসৃণ নয়।পাহাড় কেটে কেটে রাস্তার বাঁক পাল্টানো হচ্ছে।পুরনো রাস্তা ধীরে ধীরে বাতিল হচ্ছে। নতুনে মাটি পড়ছে,বর্ষা হালকা করে শুরু হওয়ায়, কোথাও ধ্বসে পড়ছে পাহাড়ের গা থেকে মাটি।সাথে নিয়ে নামছে বনজ গাছপালা। কোথাও বা ইট পাতা হয়েছে। কোথাও পড়েছে সুড়কি। ধৃতি মানসকে বলল,কি রে! রবীন্দ্র নৃত্য না কি?মানস বলল,এটা হলে তবুও চলবে আমি তো রকের অপেক্ষায় আছি।সামলে বস। কোথাও আবার আগের রাস্তা হলেও, ভাল।

বড়ওয়াপু পেরিয়ে কিছু দূর গিয়ে সব গাড়ি একটা মোড়ে দাঁড়ালো।প্রদীপ বলল,নামুন স্যার,এটা একটা ভিউ পয়েন্ট। গুনজুং। ভিউ পয়েন্টটা পাকা কীর্তণ-খোলা যেন।উপরে মন্দিরের মত চুড়ো করা,নীচে যেন একতলার ছাদ।চারিদিকে লোহার রড দিয়ে বেরিকেড দেওয়া।বেশ কয়েকটা চেয়ার পাতা। এখানে এই সকালে এত লোক!অথচ করো মুখে কোনো কথা নেই।দূরে নয় হাতের নাগালেই পাহাড়মালিকা যেন।মাঝে ফাঁকে ঘুমিয়ে আছে ধোঁয়া ধোঁয়া মেঘ।সবাইকে যেন বলছে চুপ,কোনো কথা না।পাহাড় আর মেঘের বিহার চলছে এখন।কেউ ওদের পিছু ডেকো না।

একজন ব্যতিক্রমী পোশাকের লোককে মানস দেখল,বড় একটা ক্যামেরা কাঁধে। একদম একা।কী এক কৌতুহলে মানস ওর কাছে গিয়ে নিজের পরিচয় দিয়ে জিজ্ঞেস করল,’আপনি কি একা এসছেন’?মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল।লোকটার সঙ্গে কথা বলে জানল,লোকটা জন্মসূত্রে কলকাতার হলেও এখন কর্মসূত্রে নিউইয়র্কে থাকে। নেশায় ও আসলে বার্ড ওয়াচার।পেছনে যে ধৃতিও আছে খেয়াল করে নি।মানসের ছবির প্রতি আগ্রহ শুনে লোকটার জাটিঙ্গা থেকে তোলা পাখির ছবি দেখে বলল,এই বুঝি জাটিঙ্গা পাখি?লোকটা হেসে বলল,জাটিঙ্গা কোনো পাখির নাম নয়,ওখানকার স্থানীয় লোকরা নিজেদের গ্রামের নামে, ওখানকার মরে পরে থাকা নানান প্রজাতির পাখিগুলোর নাম দিয়েছিল, জাটিঙ্গা।ধৃতির দিকে একবার তাকালো মান।ধৃতি উদাসিনভাবে মানকে বলল,যতদিন বাঁচি ততদিন শিখি। লোকটা আরও এগিয়ে সামনের দিকে ক্যামেরা তাক্ করে চলল। ওরা দুজন ফিরে এল গুনজুং ভিউ পয়েন্টে।

বেশ খানিকটা সময় পেরুলে,পর্যটকরা গুনজুং ভিউ পয়েন্টে ছবি তোলাতে ব্যস্ত হল।ওরা এর থেকে বিরত।

মানস তাও ধৃতিকে ছবির কথা বলতেই বলল,ক্ষেপেছিস?এখানে আসাটাই তো, তোকে পেয়েছি ব’লে।একদিকে বলতে গেলে এখন আমি ” লা পাতা লেডিস”।ছবি তুলে প্রমাণ রাখার দরকার নেই। এই ছবি থাকুক মন-কাননে। এই পাহাড় মেঘের কথা বলা,খুনসুটি,পরস্পরকে কিছু সময়ের জন্য ছেড়ে যাওয়া, এসবের কোনো ছবি হয় মান্?তুই ই বল।

মানস হঠাৎ বলে উঠল,আমার এই ধৃতিটাই তো আসল।একে আমার কাছ থেকে কে নেবে?

ঠিক বলেছিস।আমার এই মানকেও আমার কাছ থেকে কেউ নিতে পারবে না,সে আমি জানি জানি জানি।

পরের কথাগুলো একটু জোড়ে হয়ে গেল বোধ হয়! পাশ থেকে কে যেন আওয়াজ দিল “পাগলু”। যে যার মতো তাদের গাড়িতে উঠে যাচ্ছে,তাই কে বলল,ঠিক বুঝতে পারল না ধৃতি-মান। ওরাও দেরি না করে উঠে গেল গাড়িতে।এরপর আমরা কোথায় যাবো প্রদীপ?জিজ্ঞাসা করল ধৃতি।”পানিমুর”।এই পথে ওরা দুজন এই প্রথম।কাজেই সব নামই ওদের কাছে নতুন শোনা।

পাহাড়ের গা বেয়ে বেয়ে ওরা যেন কেবল নামছে।যেতে যেতে একটা ব্রীজ পেরুতেই ওদের প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়েই প্রদীপ বলল, এ হল ‘গেঙ্গী’।এই দিকটাতে দেখলে নালা মনে হচ্ছে তো!এই নদীর পাড় ধরে এগিয়ে যান,দেখবেন এর অন্যরূপ।যাবেন নাকি?ধৃতি বলল না,তুমি ওই পানিমুরেই নিয়ে চল।এইবার না হয় অন্য যাত্রীদের সঙ্গেই থাকি।তবে নামটা বেশ সুন্দর হবে হয়তো আমাদের গঙ্গার সোঁদর বোন। যেতে যেতে দেখল চা বাগিচা।আসামে বেড়াতে এসে চা বাগিচা পাবে না,তা কখনো হয়? এই জায়গার নাম পনেরো কিলো।ড্রাইভারের কথা মতো বুঝে নিলো পনেরো কিলোমিটার জুড়ে এই চা বাগান।এটা হয়তো এখানকার সাধারণ মানুষের ধারণা।এই নাম বিভ্রাট নিয়ে পরে ভাবা যাবে।

অন্যান্য গাড়ির যাত্রীদের মতো,ওরা দুজন কিছুক্ষণের জন্য নেমে গেল বাগানে। সবুজে সবুজ ঘেরা বিস্তৃত চা বাগানের খাঁজ কাটা পথে ওরা হাত ধরাধরি করে যেতে থাকল। অনেকদিন পর সেই আবার যেন সবুজের সমারোহে হারিয়ে যাওয়া।বেশ সুন্দর যত্ন ক’রে সাজানো বাগান।এক জায়গায় গিয়ে ধৃতি বসে পড়ল।পায়ে বেশ লাগছে রে,একটু এইখানটাই বসি।ধৃতির ডাকে পাশাপাশি বসল ওরা দুজন।সারা বাগানেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে যে বেশ কিছু পর্যটক আছে, সে দেখা যাচ্ছে।ধৃতি ইশারায় মানসকে তার হাতটা ছুঁয়ে থাকতে বলল।মানস রোমাঞ্চিত হল।

বেলা দুপুর না হলেও অনেকটা।তবে রোদের তাপ নেই।আকাশে মেঘ আছে।হালকা হাওয়া দিচ্ছে।বেড়ানোর জন্য আর কী চাই। ধৃতির ফোন বেজে উঠল।প্রদীপ জানালো,এখানে আর দেরী না করে,এখন রওনা দিতে হয়,নয়তো হঠাৎ বৃষ্টি এলে পানিমুরে গিয়ে জলে নামতে পারবে না।ফোনেই ‘আসছি’ বলে,দুজনে ছুটে এসে গাড়িতে বসল।

পর্যটকদের একটা গাড়ি ছাড়া বাকি সব বেরিয়ে গেছে।প্রদীপ দ্রুত চালিয়ে ওদের পিছু নিল। তবে এই রাস্তা একেবারে ঝকঝকে জাতীয় সড়ক।এবারে একটু রোদ উঠেছে।বেলা বাড়ায় তাপও বেড়েছে।গাড়ির ভেতরে এ সি হলেও, বাইরে গরম।পানিমুরে পৌঁছে ওরা গাড়ি থেকে নামতেই দেখলো, নদীকে সামনে রেখে পাড়ময় নানান খাবারের অস্থায়ী দোকান।ভুট্টা ভাজা, শসা,আনারস যেমন আছে, তেমনি চাউমিন-ফ্রাইডরাইস এই সব খাবারের পাশাপাশি ঠান্ডাও রয়েছে।মানস একটু এগিয়ে গিয়ে দুজনের জন্য নিম্বুপানী নিয়ে এল।খেতে খেতে অন্যদের দেখানো পথে ডানদিকে নীল জলের নদী রেখে, উৎসের দিকে চলল।

ধৃতি মানসকে বলল ওই দ্যাখ ঝর্ণার ধারা।কাছে গেল।বিশাল ব্যাপ্তি নিয়ে অঝোর ধারায় পাথর ভেঙে ভেঙে এগিয়ে চলেছে জলপ্রপাত। এবার আর কিছু বলতে হল না,কাছে গিয়ে অন্যদের দেখাদেখি পাড়ের ঘাসের মধ্যে জুতো খুলে রাখল।মানস ধৃতিকে হাত ধরে, কখনোবা কোমরে পেঁচিয়ে ধরে, ধৃতির ইচ্ছে মতো, পাড়ের কাছেই গেল। ঝর্ণার স্রোতের ভেতরে গিয়ে একটা বড় সাদা পাথরে নিয়ে ধৃতিকে বসাল। পাশের একটা পাথরে নিজে বসল।নীচু হয়ে ঝর্ণার ঠান্ডা স্ফটিক জল আপন মনে চোখে-মুখে মাখে দুজনে।ধৃতি ভাবছে একই ধারার জল কিন্তু হাতেরটা এত স্বচ্ছ অথচ বয়ে আসছে-সুদূর ছাড়িয়ে। বয়ে চলেছে- নীল জলরাশি।এ প্রকৃতির অপরূপ রূপ বুঝবে কেমন করে?মানসকে এই প্রশ্ন করতেই হেসে ওঠে।ওটা বেনিয়াসহকলা-র নীলের জোর মনে নেই? এ পাথর ও পাথর করে ওরা দুজন বেশ অনেক দূর গেল।জলের ঝাপটায় মানসের প্যান্ট আর ধৃতির শাড়ির নীচের দিকে অনেকটাই ভিজেই গেল।দুজনে তাকিয়ে দেখে নীলে নীল এক দীর্ঘ বিস্তৃত জলপথ।এখান থেকে ফিরতে মন চাইছে না।আসার পথে অবশ্য প্রদীপ বলছিল,এখানেও থাকার বেশ ভাল ব্যবস্থা আছে।অনেকে ট্রেন থেকে নেমে আগে এখানে চলে আসে। মানস বলল,যদি আর একবার আসি তবে এর পাড়েই রাত কাটাতে হবে।চাঁদের আলোয় এর রূপ দেখতে অনেক পর্যটক এখানে রাতে থাকেন।প্রদীপ বলেছিল। ধৃতি আপন মনে সে দৃশ্য ভাবতে ভাবতে ফেরার জন্য পাথরে পা ফেলে আসছিল। হঠাৎ একটা পাথরে পা পিছলে গেল ধৃতির। মানস সঙ্গে সঙ্গে ধরে নিলেও টাল সমলাতে না পেরে মানসের উপর ঢলে পরল। কোনোরকমে পাড়ে এল,জুতো পরে হাঁটতে গিয়ে দেখে ধৃতির পা ফেলতে কষ্ট হচ্ছে।অগত্যা পাঁজা কোলে মানস সেখান থেকে তুলে নিয়ে রাস্তায় আসতেই, লজ্জাই নেমে গেল।প্রায় জোর করেই নেমে পড়ল।

এত লোক! তুই কি লজ্জার মাথা খেয়েছিস?

মানস রেগে গিয়ে বলল,আরে!কে চেনে আমাদের?আর তোর পায়ে ব্যাথা পেলি,অন্যলোকের কী?আছিস আমার সাথে কে বইবে তোকে?

ধৃতি একবার শুধু বলল,দাঁড়া, প্রদীপকে গাড়িটা সামনে নিয়ে আসতে বলি।

খেপেছিস?এখানে গাড়ি ঢোকালে হাজার টাকা ফাইন করে দেবে।আচ্ছা নে কাঁধে ভর দিয়ে ওইটুকু তো যাই।গাড়িতে বসে তারপর ভাববো। রাস্তায় যেতে,কোনো দোকান থেকে ভলিনি জাতীয় কিছু একটা কিনে নেব।বেশি কিছু হয় নি।

তুই বুঝবি কী। পা টা আমার, ব্যাথাটাও আমার।আঃ।

গাড়ি পর্যন্ত মানসের কাঁধে ভর করেই এল।সবটা শুনে প্রদীপ বলল,ও ভাববেন না রাস্তায় ওষুধের দোকান আছে,নিয়ে নেবেন।

এবার তো আপনাদের নিয়ে যাবো “উম্রাংসু”।

সে আবার কী?

এই তো দেখলেন কোপিলি নদী।এই জলধারাকে আমাদের আসামের নায়েগ্রা বলে।এবার আপনাদের নিয়ে যাব সেই জায়গায়, যেটা আমাদের সমুদ্র।

মানস বলে,বলো কী,এখানে আবার সমুদ্র এল কোথা থেকে।ড্যাম বল। হৃদ বোঝো?

ওই হল।গিয়ে দেখুন।

চলো।গাড়ির ভেতর বসে ধৃতির পাটা নিজের কোলে নিল মানস।এইভাবে রাখাতে একটু আরাম পেল।ধৃতির দিকে একবার তাকিয়ে বাইরে দৃষ্টি রেখে গুনগুন করে উঠল ‘আমার হাত ধরে তুমি নিয়ে চল সখা–

ধৃতি রেগে গিয়ে,চেপে ধরে রাখা পা টা নামানোর, ব্যর্থ চেষ্টা করল।

যাওয়ার পথে ‘উনত্রিশ কিলো’-তে একটা রোগা ঝর্ণা ছিল,ওই ঝর্ণাটাই এসে মিশে গেছে এই নদীতে।এটা না হয় এবার থাক। প্রদীপের কথা শুনে,মানস বলল,সেই ভালো ও খুব একটা হাঁটতেও পারবে না এখন। ওটাও কি উনত্রিশ কিলোমিটারের চা বাগান?প্রদীপ বলল না।ওটা ঠিক জানি না, তবে কোনো একটা জায়গা থেকে হয়তো বিশেষ কারণে এই দূরত্ব মাপা হয়েছিল।সেই থেকেই শুনেছি এই জায়গার নাম উনত্রিশ কিলো।কথা থেমে গেল,ধৃতির ব্যাথার উঃ আঃ শব্দ শুনে। তবুও গাড়ি চলল সেই রক নাচের ভঙ্গিতে।প্রদীপ আস্বস্থ করল,আর একটু সময়।এর পর বাকি রাস্তা কিন্তু অনেকটাই ভাল।

Sumit Chakraborty: