ক্রাইম, করাপশন ও কাটমানির সিন্ডিকেট চালাচ্ছে টিএমসি, কটাক্ষ অনুরাগের

নদিয়ায় রোড শোতে অনুরাগ

নদিয়া, ২২ এপ্রিল – দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে একটি রোড শো এবং জনসভায় অংশ নিয়ে বাংলার তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাংসদ অনুরাগ সিং ঠাকুর। বুধবার নদিয়ায় এক বিশাল রোড শো ও জনসভা এবং কলকাতা পোর্ট বিধানসভা কেন্দ্রে জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, বাংলায় টিএমসি ক্রাইম, করাপশন ও কাটমানির সিন্ডিকেট চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ৪ মে বাংলায় বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর গুন্ডাদের গত ১৫ বছরের হিসাব নেওয়া হবে।

প্রাক্তন এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “বাংলার অপারেটিং সিস্টেম টিএমসি নামের এক ভাইরাসে আক্রান্ত, যা পুরো রাজ্যকে করাপ্ট করে দিয়েছে। তাই বাংলাকে রিবুট ও রিস্টার্ট করার প্রয়োজন। টিএমসির ১৫ বছরের শাসনে রাজ্যকে দুর্নীতি, বেকারত্ব ও পলায়নের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এই নির্বাচন বাংলা ও বাঙালির অস্মিতা রক্ষার নির্বাচন, কারণ বাংলার গ্রাম, গলি ও মহল্লায় টিএমসির গুন্ডাদের রাজ চলছে, যারা সিন্ডিকেট চালায়। যার কাছে টিএমসির পতাকা এবং সঙ্গে দশজন গুন্ডা আছে, সে-ই ক্রাইম, করাপশন ও কাটমানির সিন্ডিকেট রাজ চালাচ্ছে। বিজেপি মাফিয়াদের মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এবং আমরা এই গুন্ডা-মাফিয়াদের শুধু পতাকা বদলাতে দেব না—আইনের কঠোর ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের মোকাবিলা করব।”

তিনি আরও বলেন, “মমতা দিদি বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিচ্ছেন এবং বাঙালিদের পলায়নে বাধ্য করছেন। বাংলার যুবসমাজ রাজ্য ছেড়ে চলে যাচ্ছে। সর্বত্র বেকারত্ব। শিশুদের মিড-ডে মিলের টাকা পর্যন্ত আত্মসাৎ হচ্ছে। খাদ্যশস্যে দুর্নীতি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য জমিও দেওয়া হয় না। কিছু না করে ভয় ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এখানে মহিলারা নিজেদের নিরাপদ মনে করেন না। সন্দেশখালি থেকে আরজি কর পর্যন্ত নানা ঘটনায় মহিলারা ধর্ষণ, নির্যাতন ও অপরাধের শিকার হচ্ছেন। দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের পক্ষে কে দাঁড়ান? তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুর্নীতিগ্রস্ত কোম্পানির পক্ষে কে দাঁড়ান? তিনিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি বেসরকারি সংস্থার পক্ষে একজন মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান নেওয়া দেখায়, দুর্নীতির শিকড় কতটা গভীরে পৌঁছেছে। এখন সাধারণ মানুষ এই যোগসূত্র বুঝে গিয়েছে। ৪ মে রাজ্যের মানুষ টিএমসি থেকে মুক্তি পাবে এবং ‘সোনার বাংলা’-র স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।”

Sumit Chakraborty: