বন্ধ মানালি হাইওয়ে আপেল চাষে ক্ষতির আশঙ্কা

ভারী তুষারপাতে হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা

শিমলা: উৎসবের মরশুমে দেশের উঁচু এলাকাগুলিতে তুষারপাত শুরু হয়ে গেল, যার ফলে উঁচু এলাকাগুলিতে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গিয়েছে। হিমাচল প্রদেশে শীতও এসে গিয়েছে। আবহাওয়া দফতর হিমাচল প্রদেশে বৃষ্টি, তুষারপাত, বজ্রপাত এবং শিলাবৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। লাহৌল-স্পিতি এবং কিন্নর জেলা ছাড়া হিমাচল প্রদেশের বাকি দশটি জেলার জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আদিবাসী অধ্যুষিত জেলা লাহৌল-স্পিতিতে তুষারপাতের কারণে রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শিনকুলা টপ, বারালচা লা টপ, কুঞ্জুম টপ এবং অন্যান্য উঁচু এলাকাগুলিতে একটানা তুষারপাত হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই তিনটি গিরিপথের দিকে সমস্ত যানবাহন চলাচল আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। লাহৌল উপত্যকায় সকাল থেকে কেলং, সিসু, কোকসার এবং অটল টানেলের উত্তর প্রবেশপথে তুষারপাত হচ্ছে, যার ফলে রাস্তায় যানবাহন পিছলে যাচ্ছে।
লাহৌল-স্পিতিতে একটানা তুষারপাতের কারণে বৃহস্পতিবার লেহ-মানালি জাতীয় মহাসড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দারচার পর থেকে মহাসড়কটি বন্ধ রয়েছে। লাহৌল-স্পিতি জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মতে, তুষারপাতের কারণে মানালি-কাজা সড়কটিও বন্ধ রয়েছে। উদয়পুর যাওয়ার রাস্তাটি বর্তমানে খোলা আছে। তবে প্রশাসন জনসাধারণ এবং পর্যটকদের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
লাহৌল পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে কোকসার এবং জিসপা এলাকায় একটানা তুষারপাত হচ্ছে, যার ফলে রাস্তা আরও পিচ্ছিল হওয়ার এবং যানবাহন চলাচলের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর জন্য পুলিশ উঁচু এলাকাগুলিতে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে এবং নিচু এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী যাতায়াত করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি সমস্ত পর্যটক এবং সাধারণ জনগণকে প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে এবং উঁচু এলাকায় যাওয়ার আগে রাস্তা ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি দেখে নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে।
ক্রমাগত ভারী তুষারপাত লাহৌল উপত্যকার ফলচাষীদের অসুবিধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ উপত্যকায় আপেল সংগ্রহ শুরু হয়েছে এবং গাছগুলি এখন ফলে পরিপূর্ণ। এই তুষারপাতের কারণে গাছের ক্ষতি এবং আপেলের ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী খারাপ আবহাওয়া আপেল সংগ্রহে ব্যাপক সমস্যা তৈরি করেছে। পাশাপাশি আপেল পরিবহণেও সমস্যা হচ্ছে।
আবহাওয়া এভাবেই চলতে থাকলে আপেল সংগ্রহ ব্যাহত হতে পারে বলে জানিয়েছেন আপেল চাষিরা। বৃষ্টির কারণে আপেলে থেঁতলে যাওয়া এবং এর গুণমান নষ্ট হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। আপেল তোলার পর সময়মতো আপেল রাস্তায় নিয়ে আসাটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে উপত্যকায় শীত বেড়েছে, যার ফলে মানুষ গরম কাপড় পরতে বাধ্য হচ্ছে।
উপত্যকার এই আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা কমে গিয়ে শীত বেড়েছে। এদিকে, আপেল পাকার মরশুমে এই প্রতিকূল আবহাওয়া বাগানমালিকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। উপত্যকার বাগানগুলিতে ইতিমধ্যেই আপেল পেকে গিয়েছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই আপেল সংগ্রহ পুরোদমে শুরু হওয়ার কথা। এই সময়ে বাগানমালিকরা বৃষ্টি ও তুষারপাতের কারণে তাঁদের ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
শিমলার আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এই বৃষ্টি ও তুষারপাত ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৮ অক্টোবর থেকে হিমাচল প্রদেশে আবহাওয়া পরিষ্কার হওয়ার কথা। এই বৃষ্টি ও তুষারপাতের কারণে রাজ্যজুড়ে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে।
উঁচু এলাকাগুলিতে তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ায় শীত আরও বেড়েছে। কুকুমসেরিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা -০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। লাহৌল-স্পিতিতে তুষারপাতের কারণেও তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে গিয়েছে, যা শীতের আগমনী বার্তা দিচ্ছে।

Sumit Chakraborty: