কলকাতা, ১৭ অক্টোবর- আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের জামিন মঞ্জুর হওয়ার পরেই নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হলো আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের মধ্যে। দীর্ঘ লড়াই ও প্রতিবাদের পরেও এই জামিনকে ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন তারা। শুক্রবার সন্দীপের জামিন মঞ্জুরের পাশাপাশি তদন্ত ধীর গতিতে চলছে বলেও পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। আর তারপরেই তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন অভয়ার বাবা শেখর দেবনাথ। তিনি বলেন, ‘যে সংস্থা কাজ করলে টাকা পায়, না করলে ঘুষ পায়। তাদের নিয়ে কিছু বলব না। মনীষ উপাধ্যায়কে ফোন করেছিলাম। তিনি বলেছেন তাদের কিছু করার নেই, সময় লাগবে জানিয়েছেন।’
আন্দোলনের অন্যতম মুখ চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো এই ঘটনায় সিবিআইয়ের তদন্ত প্রক্রিয়া এবং রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার কড়া মন্তব্য, কীভাবে ন্যায়বিচারকে প্রহসনে পরিণত করতে হয়, তা সিবিআইয়ের কাছ থেকেই শেখা উচিত। অনিকেতের দাবি, গত দুবছরে ১৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র সাতজনকে জেরা করতে পেরেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তের এই দীর্ঘসূত্রিতাই যে সন্দীপ ঘোষের জামিন পাওয়ার রাস্তা প্রশস্ত করেছে, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন তিনি। পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ পোস্টে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ‘জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট’-ও। তাদের অভিযোগ, এক তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি এবং ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। জনগণের আবেগ নিয়ে খেলা করার পাশাপাশি ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজনৈতিক অভিসন্ধি এবার একেবারে নগ্ন হয়ে পড়েছে বলে দাবি তাদের।
অভয়ার মৃত্যুর পর তৃণমূল আমলে আর জি করের দুর্নীতি সামনে আসে। ব্যাপক দুর্নীতি ও প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি কাজের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ। অভয়ার বাবা ও মা তথা পানিহাটির বর্তমান বিজেপির বিধায়ক রত্না দেবনাথ তাঁদের মেয়ের মৃত্যুতে প্রভাবশালীদের যুক্ত থাকার বিষয়ে অভিযোগ করেন। এবার সেই সন্দীপ ঘোষ জামিন পেতেই আরও একবার তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন অভয়ার বাবা। বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার। সেই দলেরই বিধায়ক অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। তারপরও এই রকম কেন হচ্ছে? প্রশ্নের উত্তরে শেখরবাবু বলেন, “সরকারে থাকলে কী হয়েছে? সরকার কী করবে, সিবিআই স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা। ঠিক করে কাজ না করলে কী করা যাবে। তবে উত্তর দিতেই হবে।” আরও বলেন, “১৪৭ কোটি মানুষ যে সংস্থার উপর ভরসা করছে তাদের যদি এমন গাফিলতি থাকে তাহলে কীভাবে ভরসা করবে। সরকার দায়ী নয়, দায়ী তদন্তকারী সংস্থা। এটা দুর্নীতির মামলা ছিল। আমাদের ধর্ষণের মামলাতেও ওর বিরুদ্ধে চার্জশিটের দাবি করেছি।”