কলকাতা, ১১ আগস্ট- এবার ‘কেশপুর ফাইলস’ খোলার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে এই কেশপুরেই বিজেপির কর্মীদের ওপর অত্যাচার হয়েছে বলে অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘নরেন্দ্র মোদি জিন্দাবাদ’ বললেও সেসময় মিথ্যা মামলা দেওয়া হত! এবার কেশপুরে দাঁড়িয়েই সেই পুরনো ফাইল খোলার হুঙ্কার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্চ থেকেই পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিলেন তিনি।
পুলিশ সুপারের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু বলেন, ‘২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময় সভা করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল আমায়। আমি এসেছিলাম। তবে মানুষ আসেনি। মাননীয় এসপি-কে বলব, আপনি ওই মামলাটা বার করবেন। যারা জড়িত ছিলেন তাদের আমি জেলে দেখতে চাই।’ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে এদিনই প্রথম কেশপুরে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম পথিকৃৎ শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদানের দিন বীরত্বের ইতিহাস স্মরণ করেন তিনি। কেশপুরের মোহবনিতে ক্ষুদিরামের ভিটেতে গিয়ে ক্ষুদিরাম বসুকে শ্রদ্ধাও জানানো হয়। এরপরেই সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সভামঞ্চ থেকে উন্নয়নের বার্তা দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার কেশপুরে বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর মৃত্যুবার্ষিকী পালনের অনুষ্ঠান থেকে মোহবনি উন্নয়ন পর্ষদের জন্য ৫ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
পূর্ব মেদিনীপুর থেকে হেলিকপ্টারে যাওয়ার কথা থাকলেও দুর্যোগের কারণে কোলাঘাট থেকে সড়কপথে কেশপুরে পৌঁছোন তিনি। জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা এবং পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর পাশের দুই আসনে। শুভেন্দু কেশপুর নিয়ে বলতে গিয়ে ফিরে যান ২০২৪ সালে। নিজেকে ‘অবিভিক্ত মেদিনীপুরের সন্তান’ বলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতের কোনও মুখ্যমন্ত্রী ১১ আগস্ট এই মহান বিপ্লবীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে গিয়েছেন, এমন নজির নেই।’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কয়েক দিন আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে ফোন করে ক্ষুদিরামের পৈতৃকভিটের ভগ্নদশার কথা বলেছিলেন। সেখানে অনেক কিছু করতে হবে। সে ব্যাপারে তাঁর কোনও চিন্তাভাবনা রয়েছে কি না, জানতে চেয়েছিলেন শাহ। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘আমি বললাম, ১১ তারিখ আমার ওখানে যাওয়ার আছে। অনেক কিছু করারও আছে। উনি বললেন, ‘এটা তোমায় করতেই হবে’। আমি অমিত শাহজিকে ধন্যবাদ জানাই যে, তিনি কেশপুরের মোহবনির কথা, বিপ্লবীর কথা জানেন এবং তাঁকে নিয়ে আমাকে উপদেশ দিয়েছেন।’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে পরিকল্পনা, তাতে ৫ কোটি টাকায় কিছু হবে না, আরও অর্থ লাগবে। কিন্তু অর্থ বাধা হবে না। আমাকে অনেক কাজ করতে হবে। কারণ, ৩৪ বছরে বামফ্রন্টের রাজত্ব। তার পর ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস রাজত্ব। তারা না দিয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সম্মান, না তুলে ধরেছে আমাদের রাষ্ট্রবাদের অতীত ইতিহাস!’
আবার বাঁকুড়ার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বাঁকুড়া ও জঙ্গলমহল অঞ্চলে বিদেশি অর্থ সাহায্যে দরিদ্র মানুষকে বিভ্রান্ত করে বেআইনি ধর্মান্তর ও মৌলবাদী তৎপরতা চালানোর বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই আমরা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে আসছি—‘এক দেশ, এক আইন, এক মুখ্যমন্ত্রী’। এর পরে আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ হবে জোর করে ধর্মান্তর রুখতে কঠোর আইন এবং জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে নতুন আইনি বিধিনিষেধ জারি করা।’