কলকাতা, ২৭ জুলাই– এবার কী বিজেপিতেই মিশে যাবেন তৃণমূলত্যাগী কুড়ি বিধায়ক, এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনীতির আঙিনায়। এই তৃণমূলত্যাগীদের মধ্যে আবার সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের এনডিএ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাদের কুড়ি সাংসদকে। সেই বৈঠকে বক্তব্য পেশ করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আবার মঙ্গলবারই দিল্লিতে এই কুড়ি সাংসদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে নবগঠিত ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ -তে যোগ দেওয়া এবং শাসক জোট এনডিএ-র শরিক হওয়ার পর এই প্রথম সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লির বঙ্গভবনে এই বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে এই বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হতে চলেছে তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে। উল্লেখ্য, গত মাসে যখন তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন শুরু হয়েছিল, তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু। তবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, দেব কিংবা ইউসুফ পাঠানদের মতো ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে মিশে যাওয়ার পর এবং দলটি এনডিএ জোটের অংশ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এটিই হতে চলেছে তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
এনসিপিআই-তে যোগ দিলেও এখনও সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পাননি এই কুড়ি সাংসদ। ফলে এই পরিস্থিতিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়েই জল্পনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে আবার তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়ে ভিন্ন দলে যোগ দেওয়ায় এই ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। জোড়া আবেদন নিয়ে সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করলেন কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদরা। তাদের আবেদন, তৃণমূলত্যাগী সাংসদদের সদস্যপদ খারিজ করতে যত দ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ করুন। এ নিয়ে যদিও স্পিকারের বিশেষ সায় তারা পাননি বলেই খবর। অন্যদিকে, তাদের আরও এক জোরালো দাবি, সংসদীয় দলের মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশন প্রত্যাহার করে তাকে অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হোক। এবিষয়েও স্পিকার তাদের আশা দিয়েছেন বলে কোনও খবর নেই। এদিন কালীঘাট তৃণমূল শিবিরের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘যে কুড়িজন সাংসদ অন্যদলে যেতে চাইছেন তারা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়ে জয়ী হয়েছেন। বিজেপির বিরোধিতা করে তাদের মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। সেই মানুষগুলোর সঙ্গেও তো বেইমানি করা হলো।’