প্রভাবিত করতে পারেন তদন্ত, দাবি এনআইএ-র, ১৪ দিনের এনআইএ হেফাজত শওকতের

কলকাতা, ৬ জুন– ভাঙড় বিষ্ফোরণ মামলায় এবার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার চোদ্দো দিনের এনআইএ হেফাজত দিল আদালত। শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেফতার করার পর শনিবার আদালতে তোলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাদের যুক্তি ছিল, শওকত মোল্লা প্রাক্তন বিধায়ক হলেও তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী, বাইরে থাকলে তদন্ত প্রভাবিত করতে পারেন। এই যুক্তি শোনার পরেই শওকতকে এনআইএ হেফাজত দেয় আদালত।

            শুক্রবার শওকতকে গ্রেফতারের পরে শওকতের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও একটি পেনড্রাইভ উদ্ধার করেছিলেন এনআইএ আধিকারিকরা। সেগুলির ফরেন্সিক পরীক্ষার আবেদনও মঞ্জুর করেছে আদালত। বিস্ফোরণের ঘটনায় এর আগে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে এনআইএ। তাদের মধ্যে দুই জন জেল হেফাজত ও একজন এনআইএ হেফাজতে রয়েছেন। ব্যাঙ্কশাল কোর্টে শুনানিতে তদন্তকারীদের দাবি, ভাঙড়ে বিস্ফোরণের ঘটনার পর শওকত মোল্লা ফোনে একাধিক নির্দেশ পাঠিয়েছিলেন। গ্রেফতারের পর তার মোবাইল ফোন থেকে সেই সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলেও আদালতে জানানো হয়। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, বিস্ফোরণের পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং ঘটনাস্থলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিচালনার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

            শওকতের আইনজীবী সুমন দাস তার মক্কেলের জামিনের আবেদন জানান। তার দাবি,  বিস্ফোরণের সঙ্গে শওকত মোল্লার কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন এবং ঘটনার সময় বিস্ফোরণস্থল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে নিজের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আবার এনআইএ আদালতে জানায়, বিস্ফোরণের সময় বোমা তৈরির কাজে যুক্ত হয়ে আহত হওয়া কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে শওকত মোল্লার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। কল ডিটেল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা এমন তথ্য পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়। শনিবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি জারি করে এনআইএ জানিয়েছে, প্রাক্তন বিধায়ক এই মামলার ‘মূল সন্দেহভাজন’। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তদন্তকারী সংস্থা আরও জানিয়েছে, ‘ভাঙড়ের বোমা বিস্ফোরণ মামলায় এখনও পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাক্তন বিধায়ক শওকত এই কাণ্ডের হোতা।   

Sumit Chakraborty: