কলকাতা, ৬ জুন – বিধানসভার পরিষদীয় দলে ভাঙণ ধরেছে আগেই। এবার তৃণমূলের সংসদীয় দলেও ভাঙণ ধরে কিনা তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। বেশ কয়েকজন তৃণমূল সাংসদ দল ছাড়তে পারেন বলে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। সেই আবহেই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তড়িঘড়ি দিল্লি গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৮ জুন, সোমবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের যে বৈঠক রয়েছে সেখানে মমতার পাশাপাশি অভিষেকেরও উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু তার দু’দিন আগেই কেন হঠাৎ অভিষেকেরে এই দিল্লি সফর, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
বাংলায় ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূল নেতৃত্বের পাশে দাঁড়িয়েছিল বিরোধী জোটের সতীর্থরা। লোকসভা ভোটের ফলের পর সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব খোদ কলকাতায় এসে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখাও করেছিলেন। শুধু তাই নয়, কিছুদিন আগে সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আগামী সোমবারের এই বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, উদ্ধব ঠাকরে, তেজস্বী যাদবদের মতো হেভিওয়েটদের পাশাপাশি মমতা ও অভিষেকের উপস্থিতি জোটের ভবিষ্যৎ রণকৌশল তৈরিতে বড় ভূমিকা নেবে। একদিকে রাজ্যে ক্ষমতা হারানো এবং অন্যদিকে দলের অন্দরে সাংগঠনিক রদবদল, এই দ্বিমুখী চাপের মধ্যেই মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সুর তীব্র করতে চাইছে তৃণমূল।
তারপরেও বিধানসভায় পরিষদীয় দলে ভাঙণের পরে অস্বস্তি বেড়েছে জোড়াফুল শিবিরে। ত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই লোকসভায় ‘অপারেশন লোটাস’ শুরু হতে চলেছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ‘নতুন তৃণমূল’ আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে। এক্ষেত্রেও দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ সংখ্যা নিয়ে একজোট হয়ে তৃণমূল ছাড়ার পথে যেতে হবে। তবেই সেই প্রক্রিয়া দল বিরোধী আইনের আওতায় পড়বে না। সেই আবহে এবার তড়িঘড়ি অভিষেকের এই দিল্লি সফর তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।