কলকাতা, ৬ জুন- রেলকে এবার থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে বাংলার সরকার। শনিবার কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে পাশে বসিয়ে এই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দাবি করলেন, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের অসহযোগিতার কারণেই বাংলায় আটকে ছিল বিভিন্ন উন্নয়নমুখী প্রকল্প। এবার সেসব প্রকল্পেরই সুবিধা পাবেন বাংলার মানুষ।
ইতিমধ্যে এক লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে রেল। আগামী দিনে শিলিগুড়ি থেকে বুলেট ট্রেনে চেপে ছ’ঘণ্টায় পৌঁছোনো যাবে দিল্লি। এই ঘোষণার পরেই এবার রাজ্যে এলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী। নবান্ন সভাঘরে রেলের নানা প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন রেলমন্ত্রী। এই বৈঠকেই শুভেন্দু অভিযোগ করেন, পূর্বতন তৃণমূলের সরকারের অসহযোগিতার কারণেই বাংলার মানুষ মোদী সরকারের আমলে রেলের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এবার সরকার বদলেছে। তাই রেলকে যাবতীয় সহযোগিতা করা হবে বাংলার সরকারের তরফে।
আজকের এই বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জেলাশাসকেরা রাজ্যের লক্ষ্য এবং দর্শন শুনুন, রেলকে গোটা রাজ্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য, কাজ করতে হবে। সরকারের স্পষ্ট নির্দেশ, রেল জমি কিনতে টাকা দেয়। যেখানে দরকার, জমি আমরা কিনে রেলকে দেব।’ তার পরেই আরও কড়া সুরে বলেন, ‘রেল যেমন সহযোগিতা চাইবে, করতে হবে। ক্যালেন্ডার তৈরি করুন, কবে, কোন জায়গায় রেলের জমি দিতে পারবেন!’
শনিবার বাংলায় এসে কলকাতার মেট্রো সফর করেন রেলমন্ত্রী। তারপরেই নবান্নে রাজ্য সরকারের বৈঠকে যোগ দেন। নবান্নে প্রবেশের সময়ে তাকে স্বাগত জানান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। রেলমন্ত্রীকে নিয়েই চিংড়িহাটা মেট্রো প্রকল্পের কাজ দেখতে যাবেন বলে জানান শুভেন্দু। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানান, ৪৮ ঘণ্টায় শেষ হয়েছে চিংড়িহাটায় আটকে থাকা মেট্রো প্রকল্পের কাজ। রাজ্য সরকারের অনুমোদন মিলছিল না বলে ৭০টি প্রকল্প পড়ে ছিল। এরপরেই পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘রেলের সঙ্গে আগের সরকারের যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাব ছিল। কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক তারা এত খারাপ জায়গায় নিয়ে যায়, সে কারণ বাংলার মানুষ বঞ্চিত। মোদীজি যে উন্নয়ন করেছেন, তা থেকে বাংলার ১১ কোটি মানুষ বঞ্চিত।’ এরপরেই তিনি বলেন, ‘‘রেল সেক্টরে ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি কাজ হবে। অশ্বিনীজি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। টাকা প্রস্তুত। দ্রুত কাজ হবে।’
রেলের প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলার মানুষ কীভাবে উপকৃত হবেন সেই খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দিল্লি থেকে লখনউ, বারাণসী হয়ে শিলিগুড়ি পর্যন্ত চলবে বুলেট ট্রেন। রাজধানী থেকে শিলিগুড়িতে পৌঁছোনো যাবে ছ’ঘণ্টায়। রাজ্যে ১০২টি নতুন অমৃত ভারত স্টেশনের আধুনিকীকরণ হবে। ৫৩৮টি উড়ালপুল, আন্ডারপাস তৈরি হবে। আজ বাংলার পূর্বতন সরকারকে আক্রমণ করার পাশাপাশি কেন্দ্রের পূর্বতন ইউপিএ সরকারের দিকেও আঙুল তোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘২০০৯-২০১৪ সালে মেট্রো এবং বিভিন্ন রেল প্রকল্পে বাংলা পেয়েছিল ৪,৩৮০ কোটি টাকা। মোদীজি বাংলাকে ভালবাসেন। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্যে রেলের প্রকল্পের জন্য তিনি দিয়েছেন ১৪,২০৫ কোটি টাকা। ঝুলে থাকা (পেন্ডিং) রেল প্রকল্পে এনওসি দিলে, জমি দিলে ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের সুযোগ রেলের রয়েছে।’
আজ বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে যে ভাবে বাঁচিয়েছেন, বাংলাকে বাঁচিয়েছেন, সেই জন্য তাকে অভিনন্দন। এ বার রেলকর্মীরা কাজ করার সুযোগ পাবেন।’ চিংড়িহাটার মেট্রো প্রকল্পের কাজ আটকে যাওয়ার জন্য বাংলার পূর্বতন সরকারকে নিশানা করেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি বলেন, ‘কলকাতাবাসী যাতে মেট্রোর সুবিধা না পান, তাই ওরা (তৃণমূল সরকার) গিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সংসদে আমি ওদের বলেছিলাম বিকাশ-বিরোধী।’ আগামীদিনে বাংলায় অনেক ভাল কাজ হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন রেলমন্ত্রী।