রাজ্যসভায় বিজেপির মাস্টারস্ট্রোক, কংগ্রেসের সাজানো বাগান তছনছ!!

এবার রাজ্যসভায় নিখুঁত অপারেশন বিজেপির। আর এর জেরে কংগ্রেসের সাজানো বাগান তছনছ হয়ে গেছে। কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনে গিয়েও কুলকিনারা পাচ্ছে না। ফলস্বরূপ আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে কংগ্রেস। কিন্তু এর মধ্যে রাজ্যসভার নির্বাচনও প্রায় সম্পন্ন হয়ে যাবে। কংগ্রেসর রাজ্যসভার প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের প্রার্থীপদ সম্প্রতি বাতিল হওয়ার পরই রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে হৈচৈ শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ থেকে এবার রাজ্যসভার প্রার্থী হয়েছিলেন কংগ্রেস নেত্রী মীনাক্ষী নটরাজন। মীনাক্ষী আদতে তেলেঙ্গানার নেত্রী হলেও এবার তাকে কংগ্রেস মধ্যপ্রদেশের একটি আসন থেকে রাজ্যসভায় পাঠাতে চেয়েছিলো। কিন্তু একটি প্রাইভেট মামলার বিষয়কে কেন্দ্র করে তার মনোনায়নপত্রে ত্রুটি পেয়ে রিটার্নিং অফিসার মীনাক্ষীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন। অভিযোগটি করেছিলেন মধ্যপ্রদেশের বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। তার অভিযোগ ছিল মীনাক্ষীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, অথচ তিনি মনোনয়নপত্রে এর উল্লেখ করেননি। রিটার্নিং অফিসারকে এই অভিযোগ করতেই রিটার্নিং অফিসার পত্রপাঠ মীনাক্ষীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছেন। এমন এক দিনে মনোনয়ন বাতিল হল মীনাক্ষীর যে দিনটি ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন। ফলে কংগ্রেসের পক্ষে দ্বিতীয় আর নাম সুপারিশ করারও সুযোগ ছিল না। স্বভাবতই এর পেছনে যে বিজেপির পুরো গেমপ্ল্যান ছিল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিজেপি খুব প্ল্যান করে গোটা চিত্রনাট্যটি রচনা করে।

মীনাক্ষীর বিরুদ্ধে অভিযোগটি এবং যে কারণে মামলা সেটি আসলে ২০২২ সালের। এটি কংগ্রেসের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়কার মামলা। তেলেঙ্গানার প্রাথমিক মামলায় এতে মীনাক্ষীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। ২০২৫ সালে এসে মীনাক্ষীকে এই অভিযোগের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এটি একটি পিটিশন মাত্র আদালতে জমা হয়েছে এবং আদালত পিটিশনটি পেয়ে মীনাক্ষীকে একটি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন এবং সেটির উত্তরও মীনাক্ষী জমা করেছেন।

ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নয়া ধারা অনুযায়ী মীনাক্ষী সহ অন্যরা অভিযুক্তই নন এবং আদালত বিষয়টি এখনও কগনিজেন্স হিসাবে নেয়নি। মামলাটি এখনও প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে এবং শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। মীনাক্ষী শুধু এই মামলায় একজন রেসপনডেন্ট। তিনি অভিযুক্ত নন। সুতরাং এই বিষয়ে মনোনয়নপত্রে উল্লেখ করাটা বাধ্যতামূলক নয় বলে আইনজ্ঞদের বক্তব্য।এহেন অজুহাতে
রাজ্যসভায় এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এক নজিরবিহীন ঘটনা এবং রাজ্যসভার ভোটকেও ম্যানুপুলেট করতে চাইছে বিজেপি।

লোকসভায় ঘোড়া কেনাবেচা বিজেপির নিত্যদিনের খেলা।কোন
রাজ্যে সরকার গড়া, সরকার ফেলাও বিজেপির বাঁ-হাতের খেল। কিছুদিন আগে রাজ্যসভায় আপের সাতজন সাংসদকে নিজেদের দলে নাম লিখিয়েছিল বিজেপি। এবার রাজ্যসভা নির্বাচনকে একপ্রকার নিজেদের কব্জায় নিয়ে নিল বিজেপি। যে কায়দায় একজন কংগ্রেস প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হলো তা গণতন্ত্রের পক্ষেও বিপজ্জনক। কংগ্রস আদালতে একে চ্যালেঞ্জ করবে ঠিকই, কিন্তু ততদিনে অনেক কিছু ঘটে যেতে পারে।

লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভায়ও সংখ্যা বাড়াতে বিজেপি সাম্প্রতিককালে মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সেই নিরিখে শ্যাম, দাম, দণ্ড, ভেদ কোনো কিছুই বাদ দিচ্ছে না বিজেপি।ইতোমধ্যেই রাজ্যসভায় তৃণমূলের ২ সাংসদ ইস্তফা দিয়েছেন। ফলে রাজ্যসভার ২টি আসন পশ্চিমবঙ্গ থেকে খালি হলো। সেদিক দিয়ে বিজেপির শক্তি বাড়বে রাজ্যসভায় তা বলাই যায়। কিন্তু যে কায়দায় ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসন, রাষ্ট্রযন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যসভার ** নির্বাচনকে ম্যানুপুলেট করলো বিজেপি পিছনের দরজা দিয়ে, তা ইতিহাসে নজির হয়ে থাকবে। কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনেও গিয়েছে বিষয়টি নিয়ে। কিন্তু মুখে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড-র কথা বললেও নির্বাচন কমিশনের কথা ও কাজে যে অমিল তা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। তাই এই বিষয়টিতে শেষ কথা বলবে আদালতই।

Dainik Digital: