ডিএ বকেয়া মেটানো ও পুরোহিত–মুয়াজ্জিন ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা মমতার
নির্বাচন কমিশনের সাংবাদিক বৈঠকের প্রায় ৮০ মিনিট আগে, বিকেল ২টা ৪০ মিনিটে সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানান যে রাজ্যের পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী ৫০০ টাকা বাড়ানো হচ্ছে।
অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণার ঠিক আগে রবিবার পরপর দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। তিনি রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ (Dearness Allowance) বকেয়া মেটানোর সিদ্ধান্ত এবং রাজ্যের পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধির কথা জানান।
নির্বাচন কমিশনের সাংবাদিক বৈঠকের প্রায় ৮০ মিনিট আগে, বিকেল ২টা ৪০ মিনিটে সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানান যে রাজ্যের পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী ৫০০ টাকা বাড়ানো হচ্ছে। ফলে এখন থেকে তারা প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে পাবেন।
এর কিছুক্ষণ পর, বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের উদ্দেশে আরেকটি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে ROPA ২০০৯ অনুযায়ী ডিএ বকেয়া দেওয়া শুরু হবে। এ বিষয়ে রাজ্যের অর্থ দপ্তর বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছে বলেও জানান তিনি।
এক্স মাধ্যমে পোস্ট করে কী লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী?
I am happy to announce that our Ma-Mati-Manush government has delivered on its promise to all its employees and pensioners, and to lakhs of teachers and non-teaching staff of our educational institutions, as well as employees/ pensioners of our other grant-in-aid instititions…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) March 15, 2026
এই ডিএ বকেয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছিল। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশ ট্রাইব্যুনাল, কলকাতা হাই কোর্ট এবং শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। পরে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বকেয়া থাকা ডিএর ২৫ শতাংশ ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে কর্মীদের দিতে হবে।
এই সিদ্ধান্তে প্রায় ১২ লক্ষ বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মী উপকৃত হতে পারেন বলে অনুমান। তবে এখনও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ব্যবধান রয়েছে। এই বকেয়া পরিশোধ করতে রাজ্য সরকারের প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ডিএ বকেয়া মেটানোর দাবিতে ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’ নামে আন্দোলনরত কর্মচারীদের একটি সংগঠন সম্প্রতি আন্দোলনও করে। সংগঠনের নেতা ভাস্কর ঘোষ জানান, দীর্ঘদিনের চাপ ও আন্দোলনের ফলেই এই ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে সরকার।
অন্যদিকে এই ঘোষণাকে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কৌশল বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari সামাজিক মাধ্যমে এটিকে “নির্বাচনী নাটক” বলে আক্রমণ করেন এবং দাবি করেন, বাস্তবে এই টাকা দেওয়া হবে না।
২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার এক বছর পরই রাজ্য সরকার ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক ভাতা চালু করেছিল। পরে ২০২০ সালে হিন্দু পুরোহিতদের জন্যও আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের নতুন আবেদনগুলিও সরকার অনুমোদন করেছে। তিনি বলেন, সব সম্প্রদায় ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য।
এদিকে নির্বাচন ঘোষণার ঠিক আগে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার Gyanesh Kumar বলেন, ভোটের সূচি ঘোষণার আগে পর্যন্ত সরকার যে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কারণ নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হয় ভোটের সূচি ঘোষণার পর থেকেই।