অতিরিক্ত সময়ের জোড়া আঘাতে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা: বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফুটবলপ্রেমীরা উপহার পেলেন এক রুদ্ধশ্বাস লড়াই। কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় সমানে সমানে লড়াই করার পর অতিরিক্ত সময়ে জ্বলে উঠলেন লওতারো মার্টিনেজ। তাঁর জয়সূচক গোলেই শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখলে এগিয়ে ছিল লিওনেল মেসির দল। মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও রদ্রিগো ডি পলের পাসিং ফুটবল সুইস রক্ষণকে চাপে রাখে। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডও পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করতে হয়।
প্রথমার্ধে দুই দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ পেলেও গোলের দেখা মেলেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। মেসির অসাধারণ থ্রু বল থেকে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেলেও সুইজারল্যান্ড দ্রুত সমতা ফিরিয়ে আনে। এরপর ম্যাচের শেষ বাঁশি পর্যন্ত দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায়, কিন্তু নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন ছিল ১-১।
অতিরিক্ত সময় শুরু হতেই আর্জেন্টিনা যেন নতুন ছন্দে ফিরে আসে। ক্লান্ত সুইস ডিফেন্সের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণ গড়ে তোলে আলবিসেলেস্তেরা। ১০৫ মিনিটের কাছাকাছি সময়ে মেসির নিখুঁত আক্রমণ সাজানোর পর বক্সের মধ্যে বল পান লওতারো মার্টিনেজ। ঠান্ডা মাথায় শক্তিশালী শটে বল জালে জড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। সেই গোলে যেন গোটা স্টেডিয়াম নীল-সাদা উল্লাসে ফেটে পড়ে।
জয়সূচক গোলের পর সুইজারল্যান্ড সব শক্তি দিয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায়। কিন্তু সেই সুযোগেই পাল্টা আক্রমণে আবারও আঘাত হানে আর্জেন্টিনা। লওতারো মার্টিনেজ নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৩-১ করে দেন। অতিরিক্ত সময়ে তাঁর দুর্দান্ত ফিনিশিং সুইজারল্যান্ডের শেষ আশা ভেঙে দেয় এবং আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়।
লিওনেল মেসি গোল না পেলেও পুরো ম্যাচে আক্রমণভাগ পরিচালনা, সুযোগ তৈরি এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন। মাঝমাঠে ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজের পরিশ্রম, রক্ষণে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজের দৃঢ়তা এবং গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডও এই বিশ্বকাপে দারুণ লড়াই করেছে। তাদের সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং লড়াকু মানসিকতা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ম্যাচকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে রেখেছিল। তবে অতিরিক্ত সময়ে লওতারো মার্টিনেজের অসাধারণ দক্ষতার সামনে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় তাদের।
এই জয়ের ফলে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। মেসির অভিজ্ঞতা এবং লওতারো মার্টিনেজের দুর্দান্ত ফর্ম এখন আলবিসেলেস্তেদের সবচেয়ে বড় শক্তি। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তবে আরও একবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হতে পারে।

Sujoy Guha: