কলকাতা, ২৫ আগস্ট- এনসিপিআইয়ের কুড়িজন সাংসদকে এবার নোটিস পাঠাল শীর্ষ আদালত। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ তৃণমূলের কুড়ি বিধায়ক তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছিলেন। আর তাদের এই দলবদল নিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের করা সেই মামলার প্রেক্ষিতে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-এর কুড়ি জন সাংসদকে নোটিস পাঠাল শীর্ষ আদালত। তাদের প্রত্যেককেই নিজেদের বক্তব্য আদালতে জানাতে হবে। দু’সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
গত জুলাই মাসে এই কুড়িজন সাংসদের সাংসদ পদ খারিজের দাবি জানিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। তার সঙ্গে ছিলেন মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। তখনই তিনি জানিয়ে দেন, প্রয়োজন হলে তিনি আদালতে যাবেন। লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে দাখিল করা এই সংক্রান্ত আবেদনের নিষ্পত্তিতে দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেছিলেন তিনি। লোকসভার স্পিকার এবং সেক্রেটারি জেনারেলের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন ফাইল করেন অভিষেক। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়।
অভিষেক আগেই বলেছিলেন, ‘২০ জন মুখে বলছেন তারা এনসিপিআই। অন্য দিকে, সংসদে তারা যখন বক্তৃতা করছেন তখন তাদের নামের পাশে লেখা থাকছে এআইটিসি (অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস)। এটা হতে পারে না।’ অগস্টে সংসদের দশম তফসিল কার্যকর করে এই ২০ জনের সাংসদপদ খারিজের দাবিতে ফের সরব হয়েছিলেন অভিষেক। তাঁর সঙ্গে স্পিকারের সঙ্গে কথা বলতে যান সৌগত রায়, কীর্তি আজাদ এবং প্রতিমা মণ্ডল। সেই সময় অভিষেক বলেছিলেন, ‘স্পিকার যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাংসদপদ খারিজের আবেদনগুলির নিষ্পত্তি করেন, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে। আইন এবং প্রযোজ্য বিচারবিভাগীয় নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি স্পিকার এই আবেদনগুলির বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নেন, তা হলে আমি বাধ্য হয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হব এবং আদালতের হস্তক্ষেপ চাইব।’
এবার এই কুড়ি সাংসদকে নোটিস পাঠাল আদালত। মঙ্গলবার তৃণমূলের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘স্পিকার এই ২০ জনকে নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারলেন, না অথচ আসন বণ্টন করে দিলেন। আমাদের আগে তাদের বসতে দেওয়া হল। এ বার এই ২০ জন জবাব দিক।’