নেতাজির নামাঙ্কিত বিধায়ক সেবা কেন্দ্রের ঘোষণা, মাস্টারস্ট্রোক শুভেন্দু অধিকারীর

কলকাতা, ১২ আগস্ট- সম্প্রতি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অনন্ত মহারাজের আপত্তিকর ও বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ ক্রমেই চড়ছে। আর সেই শোরগোলের আবহেই বিধানসভায় নতুন একটি সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

            বাংলার প্রত্যেক বিধায়ককে তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী কেন্দ্রে নেতাজির নামাঙ্কিত একটি করে বিশেষ ‘সেবাকেন্দ্র’ চালু  করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানালেন তিনি। সাধারণ মানুষের সহায়তায় এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কাজ পরিচালনার লক্ষ্যে এই সেবাকেন্দ্রগুলি চালুর কথা বলা হয়েছে। কোচবিহারের স্বঘোষিত মহারাজ এবং গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ নেতা তথা বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ অনন্ত মহারাজ সম্প্রতি দাবি করেন – ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নাকি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বিন্দুমাত্র ভূমিকা ছিল না! তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, স্বাধীনতার প্রাক্কালে সেই সময় যদি শাসনভার কোচবিহারের মহারাজাকে দেওয়া হত, তবে নাকি ভারত ও পাকিস্তান ভাগ হওয়ার মতো ঐতিহাসিক বিপর্যয়ই ঘটত না!

            আর সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও অনন্ত মহারাজের এমন বিস্ফোরক ও ইতিহাসবিরোধী মন্তব্যের জেরে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। দলের অন্দরে ও বাইরে এই মন্তব্য নিয়ে তীব্র গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। ঠিক এই উত্তপ্ত আবহেই বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে ও নেতাজির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে বড়সড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই কেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে দু’টি শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, যে সকল বিধায়ক নিজ উদ্যোগে এই সেবা কেন্দ্র চালু করবেন, সেই সেবাকেন্দ্রের প্রাতিষ্ঠানিক নাম হতে হবে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি সেবাকেন্দ্রে নেতাজির ঐতিহ্যবাহী ধুতি ও পাঞ্জাবি পরিহিত এক বিশেষ ছবি সুনির্দিষ্ট স্থানে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই দুটি শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করতে পারলে সরকারি নিয়ম মেনে বিধায়কদের প্রতি মাসে এই ধরনের সেবা কেন্দ্র সফলভাবে চালানোর জন্য ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।

Sumit Chakraborty: