কলকাতা, ৩ আগস্ট- তোলাবাজি ইস্যুতে এবার দলীয় কর্মীদের সতর্ক করলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এর আগে এই ইস্যুতে দলের কর্মীদের সতর্ক করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আরও একধাপ এগিয়ে দলেরই একাংশের বিধায়কদের হুঁশিয়ারি দেন দিলীপ ঘোষ। এবার অগ্নিমিত্রা জানালেন, তোলাবাজির কোনও অভিযোগ পাওয়া গেলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে রেয়াত করা হবে না। এমনকী সংশ্লিষ্ট কর্মীকে দল থেকে বের করে দেওয়ার হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
দিন দু’য়েক আগেই তোলাবাজি প্রসঙ্গে বিজেপি কর্মীদের সতর্ক করেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক। ১৫ দিন সময় দিয়ে জানান, এর মধ্যে শুধরে না গেলে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বিজেপি কী জিনিস! দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে ডিম উল্টো দিকেও পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছিলেন শমীক। তারপর দলেরই একাংশ বিধায়কের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিতে শোনা যায় দিলীপ ঘোষকে। এবার একই সুর অগ্নিমিত্রার গলায়।
তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্নীতি, কাটমানি, তোলাবাজি, সিন্ডিকেটকেই বিরোধিতার প্রধান হাতিয়ার করেছিল বিজেপি। এবার ক্ষমতায় এসে সেই একই ইস্যুতে দলের কর্মীদের সতর্ক করছেন বিজেপি নেতারা। অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘তোলাবাজির বিষয়টা থেকে তো যাবেই। সবাইকে তো আমরা ডিটার্জেন্ট বা ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে আনিনি। তারা তো রক্তমাংসের মানুষ। এখন সরকারে এসেছে। অনেকে ভাবছে, এ ভাবে রোজগার করব। কিন্তু আমাদের রাজ্য সভাপতি, মুখ্যমন্ত্রী এর বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন।’ দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে চারটি হেল্পলাইন নম্বর খোলা হয়েছে, জানান অগ্নিমিত্রা। তার কথায়, ‘বেআইনি টোল ট্যাক্স, বেআইনি সিন্ডিকেট, তোলাবাজি আর মদের ঠেক নিয়ে চারটে হেল্পলাইন নম্বর তো দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মানুষ সেখানে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন।’
তোলাবাজি প্রসঙ্গে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের রাজ্য সভাপতির কথাই চূড়ান্ত। তিনি পরিষ্কার বলে দিয়েছেন এগুলো করলে দল থেকে বার করে দেওয়া হবে। সম্ভবত বহিষ্কার করাও হয়েছে কয়েক জনকে। আমরা এ নিয়ে কোনও ডিল করি না। সামনে একটা কথা বলব, আর ভিতরে ভিতরে বলব তোলাবাজি চালিয়ে যাও, ৭০-৩০ শতাংশ হিসাবে ভাগ করো— এগুলো আমরা করি না। আমরা আগের সরকারের মতো নই। যা বলি, সেটাই করি।’