কলকাতা, ৩০ জুন– ডিজে মামলায় ফের অস্বস্তি বাড়ল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ নিয়ে বিধাননগর আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে যে মামলা করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ, তা ফিরিয়ে দিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
এই মামলায় বৃহস্পতিবার বিচারপতি প্রশ্ন তুলেছেন, অভিষেকের মূল মামলাটি অন্য বিচারপতির বেঞ্চে রয়েছে। সেই মামলায় রক্ষাকবচ পেয়েছেন তিনি। তারপরে আবার রক্ষাকবচের জন্য আলাদা মামলায় প্রয়োজন কোথায়? বিচারপতির মন্তব্য, ‘তদন্তে কোনটা প্রয়োজন, আর কোনটা নয়, সেটা তদন্তকারী সংস্থাকে বলে দিতে পারে না আদালত।’ তারপরেই মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ান বিচারপতি। মামলাটি তিনি পাঠিয়ে দেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে। অভিষেকের আবেদন কোন বেঞ্চ শুনবে তা ঠিক করে দেবেন প্রধান বিচারপতি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের মামলা ইতিমধ্যেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে বিচারাধীন রয়েছে। সেই কারণেই একই বিষয়ে আর কোনও হস্তক্ষেপ করতে চাননি বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই মামলার মূল বিষয় অন্য বেঞ্চে বিচারাধীন থাকায় সেখানে গিয়ে নিজেদের বক্তব্য পেশ করতে হবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কণ্ঠস্বর তার মক্কেলেরই। সেই যুক্তির ভিত্তিতে তিনি আদালতের কাছে রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই বক্তব্যের পরই বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ পাল্টা প্রশ্ন তোলেন। বিচারপতি বলেন, ‘কেউ যদি খুন করে থানায় গিয়ে স্বীকার করে যে সে খুন করেছে, তা হলে কি পুলিশ আইন মেনে তদন্ত করবে না?’ বিচারপতির মন্তব্য, ‘যদি কণ্ঠস্বর আপনারই হয়, তা হলে পুলিশের কাছে গিয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে সমস্যা কোথায়?’
অভিষেকের আইনজীবী আদালতে জানান, আগেই আদালতের তরফে তাদের রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল এই শর্তে যে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। তার আশঙ্কা, কণ্ঠস্বরের নমুনা না দিলে তদন্তকারী সংস্থা অসহযোগিতার অভিযোগ তুলতে পারে। তবে সেই যুক্তিতেও আপাতত স্বস্তি মেলেনি। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যেহেতু মূল এফআইআর খারিজের মামলা অন্য বেঞ্চে বিচারাধীন, তাই এই পর্যায়ে তিনি কোনও নির্দেশ দিতে চান না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিষেকের মূল মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলায় আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ রয়েছে। তার পরেও রক্ষাকবচের কি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে? তদন্তে সহযোগিতা না করলে ওই বেঞ্চ উপযুক্ত নির্দেশ দিতে পারে। তারপরেই এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ান বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। মামলাটি পাঠানো হয় প্রধান বিচারপতির কাছে।