মেসির জাদুতে ২০২৬ বিশ্বকাপ: ৮ গোলের প্রতিটিই একেকটি ইতিহাস, বিশ্বকাপে মোট ২১ গোলের অনন্য রেকর্ড
অনলাইন ডেস্ক কলকাতা: ফুটবল ইতিহাসে অসংখ্য রেকর্ডের মালিক লিওনেল মেসি। কিন্তু ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে তিনি যেন নিজের কিংবদন্তিকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গিয়েছেন। ৩৯ বছর বয়সেও মাঠে তাঁর ক্ষিপ্রতা, খেলার দৃষ্টি, নিখুঁত ফিনিশিং এবং নেতৃত্ব দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। গ্রুপ পর্ব থেকে শেষ ষোলো পর্যন্ত ৮টি গোল করে তিনি শুধু আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেননি, বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২১ গোলের মালিক হিসেবেও নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করেছেন।এই বিশ্বকাপে মেসির গোলযাত্রার শুরু থেকেই ছিল আগ্রাসী। গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিনি দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেন। প্রথম গোলটি আসে বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে। দ্বিতীয় গোলটি ছিল দূরপাল্লার দুর্দান্ত প্রচেষ্টা, যা গোলরক্ষকের কোনও সুযোগই রাখেনি। তৃতীয় গোলটি ছিল তাঁর ব্যক্তিগত দক্ষতার অনন্য উদাহরণ। কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। এই হ্যাটট্রিকই বিশ্বকাপে তাঁর রেকর্ড গড়ার ভিত্তি তৈরি করে।এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে শুরুটা সুখকর ছিল না। একটি পেনাল্টি মিস করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মেসি। কিন্তু বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা কীভাবে প্রত্যাবর্তন করেন, তার জবাব তিনি দেন মাঠেই। ম্যাচের বাকি সময়ে দুটি দুর্দান্ত গোল করে আর্জেন্টিনাকে জয় এনে দেন। প্রথম গোলটি ছিল দ্রুত আক্রমণ থেকে নিচু শট, আর দ্বিতীয়টি ছিল বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের অসাধারণ ফিনিশ। এই ম্যাচেই তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড এককভাবে নিজের করে নেন।গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচেও মেসি গোল করে নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। প্রতিটি ম্যাচেই তিনি শুধু গোল করেননি, সতীর্থদের জন্য সুযোগও তৈরি করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা অনায়াসেই নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়।তবে পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে। ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি পান মেসি। কিন্তু তাঁর শট রুখে দেন মিশরের গোলরক্ষক। এরপর আরও বড় ধাক্কা—দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো এখানেই শেষ মেসির বিশ্বকাপ স্বপ্ন।কিন্তু ইতিহাস লেখেন কিংবদন্তিরাই। ম্যাচের শেষভাগে প্রথমে তাঁর দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে ব্যবধান কমায় আর্জেন্টিনা। এরপর ৮৪ মিনিটে মেসি নিজেই গোল করে সমতা ফেরান। ডি-বক্সের ভেতরে বল নিয়ন্ত্রণ করে ঠান্ডা মাথায় বাঁ পায়ের শটে জাল কাঁপিয়ে দেন তিনি। এটি ছিল তাঁর এই বিশ্বকাপের অষ্টম গোল এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ২১তম গোল। সেই গোলে শুধু ম্যাচই বদলায়নি, বদলে যায় পুরো টুর্নামেন্টের আবহ। শেষ মুহূর্তে আরও একটি গোল করে আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায়।এই বিশ্বকাপে মেসির আটটি গোলের বিশেষত্ব হলো, প্রতিটি গোলই এসেছে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে। কোথাও তিনি দলকে এগিয়ে দিয়েছেন, কোথাও সমতা ফিরিয়েছেন, কোথাও আবার নিশ্চিত করেছেন জয়। গোল করার পাশাপাশি তাঁর পাস, খেলা নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ সাজানো এবং নেতৃত্ব আর্জেন্টিনাকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।