ভারত-আমেরিকা সম্পর্কে নতুন গতি? ফ্রান্সে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মোদি-ট্রাম্প!!
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামীকাল ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়া-লে-ব্যাঁ শহরে অনুষ্ঠিত’ হবে মোদি-ট্রাম্প বৈঠক। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের পর এই বছর প্রথম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে চলেছে। সেই অর্থে দীর্ঘ এক বছর চার মাসের মাথায় দুই রাষ্ট্রনেতা ফের বৈঠকে বসতে চলেছেন। ফলে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে মোদি ও ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য, ১৫ থেকে ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়াঁ-লে-ব্যাঁ শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবছরের জি-৭ জোটের শীর্ষ সম্মেলন। ভারত জি-৭ জোটের সরাসরি সদস্য না হলেও, আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতের গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদিকেও। ফরাসি প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে এতে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার নিয়ে ১৩ বার জি-৭ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে ভারত। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ মঙ্গলবার ফ্রান্সের এভিয়ানে পৌঁছচ্ছেন। আজই সেখানে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন তিনি। আর এই জি-৭শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকেই হাইভোল্টেজ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় দুই রাষ্ট্রপ্রধানের ফেস-টু-ফেস বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক উত্তেজনার আবহে মোদি-ট্রাম্পের এই বৈঠক ঘিরে কূটনৈতিক মহলেও এখন জল্পনা তুঙ্গে।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এই বৈঠক এমন এক সময়ে হতে চলেছে, যখন ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এসে ঠেকেছে। শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আবহে সর্বশেষ হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হওয়া বাণিজ্যিক জাহাজে তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লির কড়া প্রতিবাদ ও উদ্বেগের মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ভারত এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। যদিও বিগত কয়েক মাস ধরে নানা ইস্যুতে দুই নেতার মধ্যে ফোনে কথোপকথন হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে একটানা ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে মোদিকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।কিন্তু কোনও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়নি। খবরে প্রকাশ,এই বৈঠকে হরমুজ পণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দুই দেশের সম্পর্কও চাপের মুখে পড়েছিল। তার সঙ্গে ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছে। বাণিজ্যিক সম্পর্ক এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে। কেননা, ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে গত প্রায় এক বছর ধরে দফায় দফায় আলোচনা চলেছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আলোচনার সময় মোদি ও ট্রাম্প একটি অন্তর্বর্তীকালীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা তৈরিতে সম্মত হয়েছিলেন। সেইমতো রূপরেখাও তৈরি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নানা টানাপোড়েনের কারণে সেই চুক্তি আজও চূড়ান্ত রূপ পায়নি।
খবরে প্রকাশ, বৈঠকে দুই দেশের অমীমাংসিত বাণিজ্যিক সমস্যাগুলি সমাধানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) শক্তিশালী করা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাণিজ্যের বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বুধবারের
বৈঠকে দুই নেতা সেই আলোচনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার উপায় খুঁজবেন। এমনটাই মনে করা হচ্ছে। তাই বুধবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকটি প্রধানমন্ত্রী মোদির অন্যতম প্রধান ব্যস্ততা ও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চাল হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, দুই দেশই যখন তাদের বাণিজ্যিক মতপার্থক্যগুলি দূর করে বৃহত্তর কৌশলগত সহযোগিতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে, তখন এই বৈঠকের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা আন্তর্জাতিক মহলও।