রবিবার | ২৪ মে ২০২৬

যুদ্ধ শুরুর পর অন্যতম বৃহত্তম বিমান হামলার দাবি ইউক্রেনের; ‘ওরেশনিক’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ

 যুদ্ধ শুরুর পর অন্যতম বৃহত্তম বিমান হামলার দাবি ইউক্রেনের; ‘ওরেশনিক’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা : ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যুদ্ধ শুরুর পর অন্যতম বৃহত্তম বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের দাবি, শনিবার গভীর রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত চলা এই হামলায় শত শত ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানীর একাধিক এলাকা, ক্ষতিগ্রস্ত হয় আবাসিক ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা। হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং প্রায় একশো মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা দাবি করেছেন, রাশিয়া এক রাতেই প্রায় ৭০০ ড্রোন, ৫০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক, ক্রুজ ও এয়ার-লঞ্চড ক্ষেপণাস্ত্র এবং একটি ডামি ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ মিসাইল ব্যবহার করেছে। কিয়েভ ছাড়াও খারকিভ, ওডেসা, পোলতাভা, সুমি-সহ একাধিক অঞ্চলে হামলা চালানো হয়।

ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর দাবি, অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হলেও বেশ কিছু অস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং বহু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় রাশিয়া ‘ওরেশনিক’ নামে পরিচিত একটি হাইপারসনিক মধ্যপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের সময় এই ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার অত্যন্ত বিরল এবং এটিকে মস্কোর শক্তি প্রদর্শনের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলাকে “উন্মত্ত সন্ত্রাস” বলে বর্ণনা করে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার জবাব দিতেই তারা সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা কমার কোনও লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *