শুক্রবার | ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ডাহা ফেল!

 ডাহা ফেল!

তৃণমূল কংগ্রেসকে দো ঠুক।কয়েকদিন আগে নির্বাচন কমিশন এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলো এমনই।তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রতিনিধি দলকে ‘গেট লস্ট’ বলার পর নির্বাচন কমিশনের তরফে একটি রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্যে নজিরবিহীন প্রেস বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছিলো, তৃণমূল কংগ্রেসকে “দো ঠুক”। ভয়মুক্ত, হিংসামুক্ত, অবাধ, নিরপেক্ষ, ছাপ্পাভোটমুক্ত, জ্যামমুক্ত নির্বাচন এবার করিয়েই ছাড়বে বাংলায় নির্বাচন কমিশন। এই ছিল নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কি তা পারলো? অন্তত প্রথম দফার ভোটে নির্বাচন কমিশন ডাহা ফেল বললেও অত্যুক্তি হবে না। এত যুদ্ধংদেহী মনোভাব, সাঁজোয়া গাড়ি – নির্বাচন কমিশন শুধু এয়ারফোর্স আর সেনাবাহিনী আর কিছু ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাতে বাকি রেখেছিলো একটা অঙ্গরাজ্যের ভোটের জন্য। বাদবাকি তো সবই আয়োজন প্রস্তুতি ছিলো। মাথার উপর টুপি, টুপির উপর পাগড়ি কোনো কিছুই তো বাকি রাখেনি। এত এত বিশেষ অবজারভার, মাইক্রো অবজারভার, বহিঃরাজ্যের এত কেন্দ্রীয় আর্মড ফোর্সের আধিকারিক, পুলিশ অবজারভার-ভোটের দিন তো হিংসা রুখা গেলো না। এবার নির্বাচন কমিশন কাকে দোষ দেবে? তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারকে এবং তার প্রশাসনকে একেবারে ‘হ্যাক’ করে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরপরেও প্রথম দফার ভোটে এত হিংসা কেন? উত্তরবঙ্গ থেকে পুরুলিয়া, পুরুলিয়া থেকে জঙ্গলমহল, বাঁকুড়া থেকে বীরভূম বাদ যায়নি কোনো জেলাই হিংসার আগুন থেকে। এবার কাকে দোষবেন জ্ঞানেশ কুমার অ্যান্ড কোং। এজেন্টকে মেরে তাড়িয়ে দেওয়া, খোদ প্রার্থীকে মার, বাদ যায়নি কিছুই। ভুরি ভুরি অভিযোগ জমা পড়েছে কমিশনে।

নির্বাচনে হার জিত গণতন্ত্রেরই অঙ্গ। এতে গণতন্ত্র সমৃদ্ধি হয়। পাঁচ বছর পর পর গণতন্ত্রের উৎসব হচ্ছে ভোট। ভোটে কাজের নিরিখে মানুষ সরকার নির্বাচন করে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে ভোটকে ঘিরে কি উৎসবের মেজাজ রয়েছে? একে তো যুদ্ধ বললেও কম বলা হবে। এই রাজ্যের সাথে আরও চার রাজ্যেও ভোট হচ্ছে। কোথাও তো এত বহর নেই। নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে এমন মাত্রায় নিয়ে গেছে যে, গোটা বিশ্বের নজর কাড়ছে এবারের বাংলার নির্বাচন। এসআইআর নিয়ে এত বাড়াবাড়ি হয়েছে যে, মানুষের মনে এক অজানা আশঙ্কা তাড়া করে বেড়াচ্ছে যেন ভোট না দিলে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে। সেজন্যই এবার বাংলার পরিযায়ীরা এসে ভোটে অংশ নিয়েছে। বাংলার ভোটার অথচ বহিঃরাজ্যে কর্মসূত্রে থাকেন তারা অন্যান্যবার ভোটে অংশ নিতে রাজ্যে প্রায় আসতেনই না। কিন্তু এবারের ভোটে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল ট্রেন ভর্তি করে মানুষ আসছেন ভোট দিতে। এসআইআর আতঙ্কে মানুষ এতটাই দিশাহারা হয়েছেন যে মানুষের মনে অজানা আতঙ্ক বয়ে বেড়াচ্ছে যে, ভোট দিতেই হবে যেকোনো মূল্যে। না হলে হয়তো এদেশে থাকাই যাবে না।

অন্যদিকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে কয়েক লক্ষ মানুষ শুধু বানান, নাম বিভ্রাটে এবার ভোট দিতে পারেনি বাংলার নির্বাচনে। এর দায়ও নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের সাথে এবার চরম অবমাননা করেছে। ভোটে হিংসা এবারও রুখতে ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন। ভবিষ্যতে কাঠগড়ায় নির্বাচন কমিশনকে একদিন দাঁড়াতেই হবে এর জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *