কাজল স্মৃতি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে সেমিতে কাতলামারা ও সাই-এসটিসি!!
দৈনিক সংবাদ অনলাইন:-কাজল স্মৃতি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে প্রথম দুটি দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে এলো কাতলামারা হাই স্কুল ও সাই-এসটিসি। বৃহস্পতিবার উমাকান্ত মিনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দিনের প্রথম ম্যাচে কাতলামারা হাই স্কুল ৪-৩ গোলে টি আই এস এফ-কে পরাজিত করে। অপর ম্যাচে সাই-এসটিসি ৩-১ গোলে আস্তাবল স্পোর্টস অ্যান্ড কোচিং সেন্টারকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে। দুই ম্যাচেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত ছিল।
প্রথম ম্যাচটি ছিল একেবারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের। কাতলামারা হাই স্কুল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। মাঝমাঠে দখল নিয়ে দ্রুত পাসিংয়ের মাধ্যমে তারা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে। জন দেববর্মা, আকাশ দেববর্মা,ধনীশ দেববর্মা ও সুন দেববর্মা এই চারজনই গোল করেন। তাদের সমন্বিত আক্রমণে বারবার চাপে পড়ে টি আই এস এফের রক্ষণভাগ। তবে টি আই এস এফও পাল্টা জবাব দিতে পিছিয়ে থাকেনি। কালেব দেববর্মা, রাকেশ চাকমা ও প্রীতম দেববর্মাদের দ্রুতগতির আক্রমণে কাতলামারার ডিফেন্সকে একাধিকবার চাপে পড়তে হয়।
এই তিনজনই দলের হয়ে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরানোর লড়াই জারি রাখেন। ফলে ম্যাচে গোলের পাল্টাপাল্টি লড়াই চলতে থাকে এবং উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। মাঝমাঠে বল দখল নিয়ে শুরু হয় তীব্র লড়াই। শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাতলামাড়া ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় এবং সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে। রেফারি বিশ্বজিৎ দাস।
দ্বিতীয় ম্যাচেও জমজমাট লড়াই হয়। সাই-এসটিসি শুরু থেকেই খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চেষ্টা করে। দ্রুত পাসিং, বল দখল এবং সংগঠিত আক্রমণের মাধ্যমে তারা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ বাড়ায়। ১৮ মিনিটে বিকাশ দাস, ২৮ মিনিটে আয়ুষ চাকমা ও ৫৯ মিনিটে জেপহানিয়া লাল নুনেরিয়া – এই তিনজনই গোল করে দলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত করে নেয়। অন্যদিকে আস্তাবল স্পোর্টস অ্যান্ড কোচিং সেন্টারও লড়াই চালিয়ে যায়। ৩০ মিনিটে সাচাং জমাতিয়া দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন। তাকে সামনে রেখে আস্তাবল পাল্টা আক্রমণে সুযোগ খোঁজে এবং মাঝেমধ্যে সাই-এসটিসির রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে। শেষ মুহূর্ত অবধি সাই-এসটিসি আরও সুসংগঠিত ফুটবল খেলতে থাকে।
মাঝমাঠে দখল নিয়ে তারা খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান বাড়ায়। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় তারা। রেফারি আদিত্য দেববর্মা।
আগামীকাল শেষ দুটি কোয়ার্টার ফাইনাল হবে। প্রথম ম্যাচে স্পোর্টস্ স্কুল ও আগরতলা ডনবসকো স্কুল (দুপুর ২টা) এবং অপর ম্যাচে আসাম রাইফেলস পাবলিক স্কুল ও সুধন্ব দেববর্মা মেমোরিয়াল স্কুল কোচিং সেন্টার লড়বে।