চৈত্র মেলা-কেনাকাটায় বাড়ছে ভিড়!!
আগরতলা দৈনিক সংবাদ অনলাইন :-চৈত্র মাসের আগমন মানেই আগরতলার বাজারে বাজারে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত “চৈত্র মেলা”। এটি কোনো ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা নয়, বরং শহুরে অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ – যেখানে “রিডাকশন সেল” বা বড় ছাড়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা পুরনো স্টক খালি করেন এবং নতুন অর্থবছরের আগে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করেন। প্রতি বছরের মতো এবারও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এই চৈত্র মেলাকে ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ, কেনাকাটার হিড়িক এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা। শহরের শিশু উদ্যানে পুর নিগমের উদ্যোগে মূল মেলা হলেও শহরের অন্যত্র বাজার বসেছে। বিশেষ করে
হকার্স কর্নার সহ হরিগঙ্গা বসাক রোড, শকুন্তলা রোড সহ রাজধানীর প্রতিটি বাজার এলাকায় বিভিন্ন শপিং মল এবং রাস্তার ধারের ফুটপাত- সব জায়গাতেই চোখে পড়ছে রঙিন ব্যানার, পোস্টারে আকর্ষণীয় অফার। পোশাক, জুতো, কসমেটিকস, ইলেকট্রনিক্স, কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স, ব্যাগ, গিফট আইটেম – প্রায় সব ধরনের পণ্যের ওপরই মিলছে বিশেষ ছাড়।
ব্যবসায়ীদের মতে, চৈত্র মাস তাদের বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়। অনেক দোকানদার জানান, সারা বছর জমে থাকা স্টক দ্রুত বিক্রি করে ফেলার এটি সবচেয়ে বড় সুযোগ। নতুন অর্থবছরের আগে দোকান ফাঁকা করে নতুন কালেকশন আনার জন্য এই সেল অত্যন্ত কার্যকর। বড় ব্র্যান্ডেড শোরুম থেকে শুরু করেছোট খুচরো দোকান – সবার মধ্যেই চলছে ক্রেতা টানার প্রতিযোগিতা।
অন্যদিকে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও এই প্রতিযোগিতায় সমানভাবে অংশ নিচ্ছেন। কম দামে পণ্য সরবরাহ করে তারা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। অনেক ক্রেতা জানান, একই ধরনের পণ্য মলের তুলনায় ফুটপাতে অনেক কম দামে পাওয়া যায়, ফলে ভিড়ও বেশি দেখা যাচ্ছে এইসব জায়গায়।
ক্রেতাদের মধ্যে এই চৈত্র মেলাকে ঘিরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই বের হচ্ছেন কেনাকাটায়। বিশেষ করে নতুন বছরের আগে জামাকাপড়, জুতো, গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য এটি আদর্শ সময় বলে মনে করছেন অনেকেই।ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও কেনাকাটার ঝোঁক বেড়েছে, কারণ কম বাজেটে ভালো জিনিস পাওয়ার সুযোেগ তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধরনের চৈত্র মেলা শহরের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, ছোট ব্যবসায়ীরা লাভবান হন এবং সামগ্রিকভাবে খুচরো বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সব মিলিয়ে, আগরতলার চৈত্র মেলা এখন শুধুমাত্র একটি কেনাকাটার সুযোগ নয়- এটি শহরের জীবনযাত্রার এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। ছাড়, প্রতিযোগিতা, ক্রেতাদের ভিড় এবং উৎসবের – সবকিছু মিলিয়ে চৈত্র আমেজ মেলায় আগরতলার বাজার যেন এক নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।