বৃহস্পতিবার | ২৬ মার্চ ২০২৬

সংকট নেই, তবে আশঙ্কা বাড়ছে,সর্বদল বৈঠকে আশ্বাস কেন্দ্রের

 সংকট নেই, তবে আশঙ্কা বাড়ছে,সর্বদল বৈঠকে আশ্বাস কেন্দ্রের

দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ২৫ মার্চ: দেশে জ্বালানি সংকট নেই। অবশ্যই হরমুজ প্রণালীর অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কিন্তু ভারতের জ্বালানি ও পণ্যভর্তি জাহাজ প্রায় প্রতিদিনই নিয়ম করে ওই প্রণালী পেরতে সক্ষম হচ্ছে। ভারত সরকার নিয়ম করে কূটনৈতিক যোগাযোগ রেখে চলেছে পশ্চিম এশিয়ার প্রত্যেক দেশের সঙ্গে। বুধবার সরকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে এই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বিরোধীদের। যদিও প্রধানমন্ত্রীর পরপর দু’দিনের সংসদ ভাষণ থেকে যে উদ্বেগজনক বার্তাই পাওয়া যাচ্ছে, সেটাই মনে করছে বিরোধীরা।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী, সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এদিন সরকারপক্ষের হয়ে উপস্থিত ছিলেন সর্বদলীয় বৈঠকে। বিরোধীদের মধ্যে কংগ্রেস, সিপিএম, সমাজবাদী পার্টিসহ অন্য দলগুলি থাকলেও তৃণমূল কংগ্রেস বৈঠক বয়কট করে। অন্যদিকে উপস্থিত ছিলেন না লোকসভা ও রাজ্যসভায় কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা দু’জনই। রাহুল গান্ধী আগেই বলেছিলেন, আমার কেরলে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে। তাই আমি থাকতে পারব না। তবে আমাদের দলের প্রতিনিধিরা

গেল না। বিরোধীদের বারংবার দাবি ছিল, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া সংকট নিয়ে সংসদে আলোচনা করা হোক। তাহলে গোটা দেশ দেখতে পাবে যে, সরকারপক্ষ কী অবস্থান নিয়েছে এবং বিরোধী তথা অন্য দলগুলির প্রস্তাব, পরামর্শ, সিদ্ধান্ত কী। কিন্তু সংসদ চলাকালীন পৃথকভাবে সর্বদলীয় বৈঠকে এই নিয়ে আলোচনার অর্থই হয় না। বৈঠক থেকেও কোনও সমাধান উঠে আসেনি।

সরকার বলেছে, আমরা যুদ্ধ চাই না। এই বিবৃতি তো যে কেউ দেবে। এটা থেকে দেশের সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে? প্রাথমিকভাবে সরকারপক্ষ বৈঠকে জানায়, ভারতের কাছে যে পরিমাণ রিজার্ভ তেল সম্ভার আছে, সেটি যথেষ্ট ও পর্যাপ্ত। ভারতবাসীর জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই। বিরোধীরা প্রশ্ন করে, তাহলে এলপিজি নিয়ে দিকে দিকে এত হাহাকার কেন? হাজার হাজার ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে। জীবিকা স্তব্ধ হয়েছে। আবার সাধারণ মানুষ লাইন দিয়েও গ্যাস পাচ্ছে না। সর্বত্র গ্যাসের কালোবাজারি ও মজুতদারি চলছে।

কংগ্রেস নেতা তারিক আনোয়ার বৈঠকশেষে বলেছেন, এই বৈঠক থেকে বিশেষ কিছুই পাওয়া সরকার জানায়, বিরোধীদের প্রশংসা করা উচিত যে হরমুজ প্রণালী থেকে লাগাতার জাহাজ আসছে ভারতে। এটা ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য। এদিকে মুখে সংকট নেই বললেও এভাবে কতদিন জ্বালানির সাপ্লাই পেট্রোল পাম্পে স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এমনকী জল্পনা তৈরি হচ্ছে, শীঘ্রই কি প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে কোনো ভাষণ দেবেন? আবার কোনো কঠোর নিয়ন্ত্রণ হবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *