প্রার্থী তালিকার আগেই মনোনয়ন, রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন কাণ্ড
দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ২৪ মার্চঃ ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে তিপ্রা মথার অস্বাভাবিক পদক্ষেপ। দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা বা সিলমোহর দেওয়ার আগেই একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী ঢাকঢোল বাজিয়ে বিপুল কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মঙ্গলবার। উল্লেখযোগ্যভাবে এদের অধিকাংশই এডিসির বর্তমান নির্বাচিত সদস্য। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের নীরব সম্মতি বা অভ্যন্তরীণ ইঙ্গিত না থাকলে এভাবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার ঘটনা ঘটত না। ফলে এটিকে একপ্রকার অঘোষিত প্রার্থী ঘোষণা বলেই মনে করা হচ্ছে।

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলের অন্দরে তৈরি হয়েছে বিস্ময় ও কৌতূহল। অভিজ্ঞ মহলের মতে, কোনও দল আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগেই প্রার্থীদের এমন প্রকাশ্য শক্তি-প্রদর্শন ও মনোনয়ন দাখিলের ঘটনা রাজ্যের রাজনীতিতে একেবারেই নজিরবিহীন। যদিও সন্ধ্যায় তিপ্রা মথা অবশেষে তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। তবুও দিনের এই ঘটনাপ্রবাহ দলের অভ্যন্তরীণ অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
প্রসঙ্গত, এডিসি ভোট ঘোষণার পরও দীর্ঘ সময় ধরে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় দলের অন্দরে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। মনোনয়ন জমার শেষ দিনের ঠিক আগের দিন তালিকা ঘোষণায় সেই অস্বস্তি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে বিজেপির সঙ্গে জোটের দরকষাকষি ও অন্যদিকে দলের একাধিক কেন্দ্রে একাধিক টিকিট প্রত্যাশী থাকায় সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। ভোট ঘোষণার পর থেকেই টিকিট প্রত্যাশীরা দলবল ও বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক নিয়ে মথার সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণের কাছে ধরনা দেন। অনেকেই প্রকাশ্যে চাপের রাজনীতি খেলেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, টিকিট না পেলে তাঁরা দল ছাড়তে পারেন এবং অন্য দলে যোগ দিতে পারেন।
অন্যদিকে, রাজ্যের ক্ষমতাসীন জোটে বিজেপি ও তিপ্রা মথা একসঙ্গে থাকলেও এডিসি নির্বাচনে দুই দলের সমীকরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। মথার দুই মন্ত্রী রাজ্য মন্ত্রিসভায় থাকলেও এডিসি ভোটে জোট হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এদিন দুপুরে বিজেপি তাদের ২৮টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার পর সন্ধ্যায় তিপ্রা মথাও সমস্ত আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দেয়। এর ফলে রাজনৈতিক মহলে স্পষ্ট বার্তা গিয়েছে যে, এডিসি নির্বাচনে আপাতত বিজেপি-মথা জোটের সম্ভাবনা ক্ষীণ।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চূড়ান্ত ছবি এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত জোট বা সমঝোতার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবুও বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, এবারের এডিসি নির্বাচন হতে চলেছে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
প্রার্থী ঘোষণার আগেই মনোনয়ন জমা, দেরিতে তালিকা প্রকাশ এবং জোট নিয়ে অনিশ্চয়তা-এই সবকিছু মিলিয়ে তিপ্রা মথাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
