যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে বিশ্ব
ট্রাম্পের ফোন মোদিকে, আজ সর্বদল বৈঠক
দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ২৪ মার্চঃ যে যুদ্ধ চলার কথা মাত্র কয়েকদিন, সেটি এক মাসেও সমাপ্ত হচ্ছে না। কবে হবে শেষ? ইরান আক্রমণকারী দুই দেশে আমেরিকা এবং ইজরায়েলও জানে না। আর এই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং তৎপরবর্তী অনিশ্চয়তার জেরে সবথেকে বিপাকে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। খোদ আমেরিকার অর্থনীতি ধাক্কা খেয়েছে। গোটা বিশ্ব মনেপ্রাণে চাইছে এখনই বন্ধ হোক যুদ্ধ। ডোনাল্ড ট্রাম্প যে যথেষ্ট বিপদে পড়েছেন, তার প্রমাণ তিনি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো এরকম দেশগুলিকে এখন অনুরোধ করতে শুরু করেছেন যাতে তারা ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে যুদ্ধ সমাপ্তির জন্য। আর সেই তালিকায় স্বাভাবিকভাবেই ভারতের নাম প্রথম সারিতে। অতএব প্রত্যাশিতভাবেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোন করলেন নরেন্দ্র মোদিকে। আলোচনা করলেন বিশ্ব বাণিজ্য তথা কূটনীতির সবথেকে কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে। বিশ্ব জ্বালানি জোগানের ৮০ শতাংশ পথ হল এই প্রণালী। ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর নিজেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, এই মাত্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পশ্চিম এশিয়ার সংকটে নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে আলোচনা হয়েছে সবথেকে বেশি। প্রধানমন্ত্রী
মোদিও সতর্কভাবে এদিন বিবৃতি দিয়েছেন। কী কথা, কোন কোন বিষয়ে আলোচনা কোনও বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি। শুধু বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফোন করেছিলেন। আমাদের
মধ্যে আলোচনা হয়েছে পশ্চিম এশিয়া নিয়ে। এদিনই তার আগে মোদি রাজ্যসভায় জানিয়েছেন, জ্বালানি নিয়ে প্রবল সংকটে তৈরি হয়েছে এরকম নয়। কোনও গুজবে কান দেওয়া সঠিক নয়। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি আছে। তবে পশ্চিম এশিয়ার এই সংকটে ভারতবাসীকে একজোট থাকতে হবে। যে সংকটে ও সংঘাত চলছে, সেটি ভারতের উপর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে বাণিজ্যে প্রভাব বিরূপ হতে চলেছে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে রান্নার গ্যাসের সাপ্লাইয়ে সবথেকে বেশি জোর দেওয়া যায় সাধারণ গৃহস্থদের। মোদি এদিনও জানিয়েছেন যে, ভারত সরকার বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। আমি নিজে, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর দফায় দফায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা করে জ্বালানি সরবরাহকে স্বাভাবিক রাখা এবং রপ্তানি বাণিজ্যে যেন কোনও ঘাটতি না হয় সেই দিকে স্পষ্ট একটি নীতি নির্মাণের চেষ্টা করছি। এদিকে সংসদে মোদি যেমন বলেছেন সব দলকে একই সুরে সহমত হয়ে কথা বলা জরুরি, তেমনই সরকার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে। বুধবার সর্বদলীয় বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে ভারতের অবস্থান জানাবে সরকার। তাহলে কি পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক?