রবিবার | ১৫ মার্চ ২০২৬

ইমপিচমেন্টের ভবিষ্যৎ

 ইমপিচমেন্টের ভবিষ্যৎ

সম্পাদকীয়,১৫ মার্চঃ স্বাধীনতার পর এই প্রথম ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠলো।শুধু তাই নয়, স্বাধীনতার পর এই প্রথম দেশের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব এনেছে তামাম বিরোধীরা। স্বাভাবিকভাবেই এই ইস্যুতে এখন জাতীয় রাজনীতি সরগরম। ইতিমধ্যে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের নোটিস জমা দিয়েছে বিরোধীরা। একসঙ্গে লোকসভা ও রাজ্যসভার নোটিস জমা দেওয়া হয়েছে। সংবাদে প্রকাশ, মোট ১০ পাতার নোটিস জমা দেওয়া হয়েছে। বিরোধী ইন্ডি ব্লকের জমা দেওয়া মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ নোটিসে মোট ৭টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এক, এসআইআর-এ জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা। দুই, বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়া। তিন, পক্ষপাতিত্ব। চার, সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার। পাঁচ, সুপ্রিম কোর্টের রায় না মানা। ছয়, সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার। সাত, সিইসি নিয়োগে গলদ।

বিরোধীদের দাবি, অপসারণ প্রস্তাবের সমর্থনে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সই ইতিমধ্যেই সংগৃহীত হয়েছে। বুধবারই জানা গিয়েছিল, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ প্রস্তাবের সমর্থনে প্রয়োজনের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি সই সংগ্রহ হয়ে গিয়েছে। লোকসভায় নোটিস পেশের জন্য প্রয়োজন ছিল ১০০ জন সদস্যের সই; সেখানে ১৩০ সাংসদের স্বাক্ষর সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্যসভাতেও ৬৩ জন সাংসদ নোটিসে সই করেছেন, যেখানে রাজ্যসভায় নোটিস পেশের জন্য প্রয়োজন ছিল ন্যূনতম ৫০ জনের সই। অর্থাৎ, মোট ১৯৩ জন সাংসদ জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ প্রস্তাবে সই করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এখন প্রস্তাব গৃহীত হলে, তা পাস করাতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন প্রয়োজন। ফলে ভোটাভুটিতে এবার সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা মেলে কিনা? সেটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এই অপসারণ নোটিস নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তোলপাড়। কারণ ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এটি এক নজিরবিহীন ঘটনা। এভাবে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের জন্য নোটিস! দেশে প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটল বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি।

ফলে রাজনীতিবিদ থেকে সাধারণ মানুষ, সবার মনেই এখন প্রশ্ন, তবে কি বাংলার ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণে শিলমোহর পড়তে চলেছে? চূড়ান্ত হতে চলেছে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ? এদিকে, ধারণা করা হচ্ছে আগামী সোমবার, অর্থাৎ ১৬ মার্চই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে বাংলা-সহ ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের। সেক্ষেত্রে ভোট ঘোষণা হওয়ার আগেই কি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে ঘটতে পারে বড় পরিবর্তন? প্রসঙ্গত, মোদী জমানায় বদলেছে সিইসি নিয়োগের নিয়ম। ২০২৩ সালের নতুন আইন অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে নিয়ে গঠিত ৩ সদস্যের সার্চ কমিটি ৫ জনের নাম সুপারিশ করে।যার থেকে রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত নিয়োগে অনুমোদন দেন। এখন অপসারণ নোটিসে এভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

ফলে রাজনীতিবিদ থেকে সাধারণ মানুষ, সবার মনেই এখন প্রশ্ন, তবে কি বাংলার ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণে শিলমোহর পড়তে চলেছে? চূড়ান্ত হতে চলেছে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ? এদিকে, ধারণা করা হচ্ছে আগামী সোমবার, অর্থাৎ ১৬ মার্চই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে বাংলা-সহ ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের। সেক্ষেত্রে ভোট ঘোষণা হওয়ার আগেই কি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে ঘটতে পারে বড় পরিবর্তন? প্রসঙ্গত, মোদী জমানায় বদলেছে সিইসি নিয়োগের নিয়ম। ২০২৩ সালের নতুন আইন অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে নিয়ে গঠিত ৩ সদস্যের সার্চ কমিটি ৫ জনের নাম সুপারিশ করে। যার থেকে রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত নিয়োগে অনুমোদন দেন। এখন অপসারণ নোটিসে এভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এখন মূল বিষয় হচ্ছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে কি আদৌ সরানো সম্ভব? ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪(৫) নি অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। নিয়ম অনুযায়ী, ভারতে প্রধান বিচারপতিকে যে কারণে ও যে পদ্ধতিতে অপসারণ করা যেতে পারে, ঠিক সেই একই পদ্ধতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করা যায়। যা মূলত ১৯৬৮ সালের ‘জাজেস এনকোয়ারি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট বা রাষ্ট্রপতির অর্ডার ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে সরানো যায় না। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, এই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে লোকসভায় অন্তত ১০০ জন সাংসদ এবং রাজ্যসভায় অন্তত ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষর থাকতে হয়। এরপর স্বাক্ষরিত প্রস্তাবটি লোকসভায় স্পিকার এবং রাজ্যসভায় চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়। স্পিকার বা চেয়ারম্যান চাইলে প্রস্তাবটি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।

প্রস্তাবটি গৃহীত হলে, সেক্ষেত্রে তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি যদি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছয় যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, অথবা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম, তবে সেই রিপোর্টটি যে কক্ষে প্রথম প্রস্তাব আনা হয়েছিল, সেখানে জমা করা হয়। এরপর সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনে ভোটাভুটি হয়ে তার ফলাফল রাষ্ট্রপতির কাছে যায়। এরপরই সিদ্ধান্ত নেন রাষ্ট্রপতি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রেও সেই একই নিয়ম প্রযোজ্য রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে লোকসভা এবং রাজ্যসভায় বিরোধীদের সেই সংখ্যা নেই। ফলে এখন বিরোধীদের আনা ইমপিচমেন্টের ভবিষ্যৎ কী হবে? সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *