জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেইমপিচমেন্ট নোটিশ জমা আজ
দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ১২ মার্চঃ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এলেন আবার সভায় এবং বললেন, এ নিয়ে স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে তৃতীয়বার লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়ল। ১২ ঘণ্টার বেশি আলোচনাও হল। এই আলোচনা এবং তৎপরবর্তী ভোটাভুটি সবই ভারতের গণতান্ত্রিক শক্তিরই পরিচায়ক। বিড়লা বললেন, এই সভায় আগত প্রত্যেক এমপি লক্ষ লক্ষ মানুষের সমর্থন নিয়ে এসেছেন। সেইসব মানুষের সমস্যা এখানে তুলে ধরেন তাঁরা। জনতার স্বপ্ন ও উচ্চাশা পূরণ করার জন্যই এই সংসদ।
এদিকে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পর্ব সমাপ্ত হওয়ার পর এবার সংসদে আসতে চলেছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট মোশন। লোকসভার ১৩০ জন এমপি এবং রাজ্যসভার ৬৩ জন এমপির স্বাক্ষর সংবলিত ওই ইমপিচমেন্ট মোশন শুক্রবার জমা পড়তে চলেছে সংসদে। প্রত্যাশিত এটাই যে, স্পিকারের ক্ষেত্রে যে ফলাফল হয়েছে, এক্ষেত্রেও সেই একই পরিণতি হবে। অর্থাৎ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ইমপিচ করা সম্ভবত বাস্তবায়িত হবে না। কারণ হল, একমাত্র বিরোধীরাই এই মোশনের পক্ষে স্বাক্ষর করছেন। আর সরকারপক্ষ এই মোশনের বিরুদ্ধে। সুতরাং দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন জোগাড় করা বিরোধীদের পক্ষে কঠিন তথা অসম্ভবই বলা যায়। তৃণমূল কংগ্রেস মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট মোশন আনার উদ্যোগ নিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর পদ্ধতির সূত্রপাত হওয়ার পরই রাজ্য সরকার তথা শাসক দল তৃণমূল বনাম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মধ্যে প্রবল সংঘাত শুরু হয়েছে। এমনকী এসআইআরের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করতে চলে আসেন রাজ্য সরকারের হয়ে। সংসদীয় বিধি অনুযায়ী ১০০ জন এমপিকে লোকসভা থেকে স্বাক্ষর করতে হবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করার জন্য। আর রাজ্যসভায় প্রয়োজন আরও ৫০ জন।
যে অভিযোগ এই অপসারণ প্রক্রিয়ায় আনা হবে, জানা যাচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম হল নির্বাচনি প্রতারণা নিয়ে কোনও তদন্ত না করা, গণহারে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া ইত্যাদি। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে অপসারণ করার জন্য যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট নোটিশ জমা দেওয়ার পদ্ধতিও এক। সংসদের যে কোনও কক্ষে এই মোশন এনে নোটিশ জমা করতে হয়। মোট সদস্যসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এবং ভোটাভুটির সময় উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশকে সমর্থন করতে হবে ওই মোশন তথা প্রস্তাব।
তাহলেই একমাত্র প্রস্তাব অনুমোদিত হবে। জাজেস ইনকোয়ারি আইন, ১৯৬৮ অনুযায়ী এরকম কোনও ইমপিচমেন্ট নোটিশ যদি একই দিনে সংসদের দুই কক্ষে জমা দেওয়া হয়, তাহলে সর্বাগ্রে ওই প্রস্তাবকে গ্রহণ করতে হবে ভোটাভুটির দ্বারা। তারপর একটি কমিটি গঠন করতে হবে প্রথমে। সেই কমিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখবে। তাদের মতামত ও সুপারিশ জমা করবে সংসদে। এরপর হবে আলোচনা। নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিরুদ্ধাচারণ করবে সরকারপক্ষ। যদিও তার আগেই আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট।