বুধবার | ০৪ মার্চ ২০২৬

ইরানের মহিলা ফুটবল দলের তরুণ স্ট্রাইকার সারা দিদার যুদ্ধের প্রশ্নে কেঁদে ফেললেন!

 ইরানের মহিলা ফুটবল দলের তরুণ স্ট্রাইকার সারা দিদার যুদ্ধের প্রশ্নে কেঁদে ফেললেন!

যুদ্ধের আবহে চোখে জল, তবু মাঠে লড়াই—অস্ট্রেলিয়ায় ইরান মহিলা দলের উদ্বেগ ও দৃঢ়তা

অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা : যুদ্ধের অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যে দেশের পরিবার-পরিজনকে নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ইরানের মহিলা ফুটবল দলের তরুণ স্ট্রাইকার সারা দিদার। অস্ট্রেলিয়ায় মহিলা এশিয়ান কাপে খেলতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে গিয়ে চোখের জল সামলাতে দেখা যায় তাঁকে।

বুধবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে গ্রুপ ‘এ’-র ম্যাচের আগে দিদার বলেন, “আমরা সবাই খুব উদ্বিগ্ন। ইরানে যা ঘটেছে, আমাদের পরিবার ও প্রিয়জনদের কথা ভেবে খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি আশা করি, আমাদের দেশের জন্য ভালো খবর আসবে। আমার দেশ শক্তভাবে বেঁচে থাকবে—এই কামনাই করি।”

২১ বছরের এই ফুটবলার সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের আগে গোল্ড কোস্ট স্টেডিয়ামে জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় সতীর্থদের সঙ্গে নীরব হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই ম্যাচে ইরান হেরে যায়।

দিদার বলেন, “আমরা সবাই খুব উদ্বিগ্ন। ইরানে যা ঘটেছে, আমাদের পরিবার ও প্রিয়জনদের কথা ভেবে খুব কষ্ট হচ্ছে।”

দলটি ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলার আগেই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছিল। পরে পরিস্থিতি জটিল আকার নেয় এবং দেশজুড়ে যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। প্রধান কোচ মারজিয়েহ জাফারি জানান, “আমরা পরিবারের সঙ্গে প্রায় যোগাযোগহীন। ইরানের মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। তবে আমরা এখানে পেশাদার ফুটবল খেলতে এসেছি, তাই সামনে থাকা ম্যাচে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের এক মডারেটর সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন, ম্যাচ-পূর্ব সাংবাদিক বৈঠকে যেন যুদ্ধ-সংক্রান্ত প্রশ্ন না তোলা হয়। তবু প্রশ্ন উঠলে দিদার ও জাফারি দু’জনেই দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান।

সোমবারের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী বহু ইরানি সমর্থক লাল-সবুজ-সাদা জাতীয় পতাকা এবং ইসলামিক বিপ্লবের আগের পতাকা নিয়ে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। দলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে স্লোগানও শোনা যায়। দিদার বলেন, “অনেক ইরানিকে আমাদের সমর্থন করতে দেখে খুব ভালো লাগছে। এটা আমাদের অনুপ্রাণিত করে।”

অস্ট্রেলিয়া দলের কোচ জো মন্টেমুরো জানান, তাঁর দল ও সমর্থকদের উচিত ইরান দলকে সহমর্মিতা ও সম্মান জানানো। তিনি বলেন, “আমরা চাই তারা জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা পাক। মানবিকতা ও সম্মান দেখানোই আমাদের লক্ষ্য।”

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যেই ফিলিপিন্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে জিতলে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা প্রায় নিশ্চিত করবে। ২০২৩ সালে পার্থে দুই দলের শেষ সাক্ষাতে অস্ট্রেলিয়াই জয়ী হয়েছিল।

অন্যদিকে, ইরান দল ২০২৭ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন নিয়েই অস্ট্রেলিয়ায় এসেছে। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে এশিয়ান কাপে শীর্ষ আটের মধ্যে শেষ করতে হবে তাদের। যুদ্ধের অশান্তি সত্ত্বেও, মাঠে লড়াই চালিয়ে যাওয়াই এখন ইরান মহিলা দলের একমাত্র লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *