শনিবার | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

স্থির বেতনে নিয়োগ বাতিল আদেশেসুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ নোটিশ টেট শিক্ষকদের

 স্থির বেতনে নিয়োগ বাতিল আদেশেসুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ নোটিশ টেট শিক্ষকদের

দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ২০ ফেব্রুয়ারী: স্থির বেতনের চাকরি নীতিতে চাকরি বাতিলের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ পেলো রাজ্য সরকার। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দিয়ে মামলার সব পক্ষকে নোটিশ দিয়েছে। আগামী ৯ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ রেখেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সরকারী চাকরিতে স্থির বেতনে নিয়োগ বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছিল ত্রিপুরা হাইকোর্ট। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এমএস রামাচন্দ্র রাও এবং বিচারপতি বিশ্বজিৎ পাতিলের ডিভিশন বেঞ্চ স্থির বেতনে চাকরি নীতির ২০০১ এবং ২০০৭ সালের বাম আমলের দুটি বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে দিয়েছিল। ২০১৮ সালে বিজেপি নির্বাচনের আগে স্থির বেতনের চাকরি তুলে দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিল। এই নীতির সমালোচনা করেছিলেন বিজেপির অন্য নেতারাও। সম্প্রতি বাম সরকারের আমলে করা স্থির বেতনে চাকরির দুটি বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে দিয়েছিল ত্রিপুরা

হাইকোট। এরপর মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহাও স্থির বেতনের সমালোচনা করেছিলেন। তবে রাজ্য সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে এসএলপি দাখিল করতে বেশি দেরি করেনি। আইন সচিব শঙ্করী দাসকে দিল্লী পাঠিয়ে দেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্টে নিযুক্ত এটর্নি জেনারেলের সঙ্গে দেখা করতে। রাজ্য সরকারের আবেদনটি শুক্রবার ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির জন্য উঠে। রাজ্য সরকারের পক্ষে এটর্নি জেনারেল সওয়াল করেন। তিনি যুক্তি দেন, হাইকোর্টের আদেশের তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন গুরুতর আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ফেলবে। মোদ্দা কথা হাইকোর্টের রায় কার্যকর করার মতো টাকা নেই সরকারের কাছে। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোটের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে। টেট শিক্ষকের এই মামলায় জবাব দিতে নোটিশ দিয়েছে। আগামী ৯ মার্চ আবারও মামলার শুনানি হবে।

ত্রিপুরা হাইকোর্ট যুগান্তকারী রায়ে রাজ্যে শিক্ষক সহ নতুন নিযুক্ত কর্মচারীদের পাঁচ বছরের স্থির বেতনের নিয়োগ নীতি অসাংবিধানিক বলে এটি বাতিল করে দিয়েছিল। যে কারণে টেট উত্তীর্ণ শিক্ষক সহ জেআরবিটির মাধ্যমে নিযুক্ত কর্মচারীদের মধ্যে আশার আলো জেগেছিল। আবারও নিয়মিত চাকরি হবে আশায় ছিলেন রাজ্যের বেকাররা। অন্তত যেখানে কেন্দ্রে এবং রাজ্যে উভয় জায়গায় বিজেপি সরকার রয়েছে, এই ক্ষেত্রে কয়েক হাজার শিক্ষক কর্মচারীদের নিয়মিত বেতনক্রম চালু করতে সমস্যা হওয়ার কথা ছিল না। এমন প্রত্যাশা রখেন শিক্ষক কর্মচারীরা। অথচ রাজ্য সরকার আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা বলেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। বাম আমলের স্থির বেতনের পক্ষেই বিজেপি সরকার সওয়াল করলো। এটা নিয়ে নতুন নিযুক্ত কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

তাদের বক্তব্য, পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের পর এভাবে পাঁচ বছর স্থির বেতনে দেশের কোথাও রাখা হয়নি। শিক্ষকদের বঞ্চনা দূর করার সুযোগ পেয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু বাম আমলের কায়দায় বর্তমান সরকারও বঞ্চনার পথেই হাঁটল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *