পাহাড়ের চেক ড্যাম নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ
দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ১৪ ফেব্রুয়ারী: রাজ্যের পাহাড়ি এলাকার ভূমিপুত্রদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও বাস্তবে তার সিংহভাগই মাঝপথে নয়ছয় হয়ে যাচ্ছে এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্বশাসিত জেলা পরিষদের আওতাধীন একাধিক ভিলেজ থেকে। প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক থেকে শুরু করে ভিলেজ স্তরের একাংশ জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সরকারী প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ক্রমশ ক্ষোভ দানা বাঁধছে পাহাড়ে।
অসহায় ভূমিপুত্রদের বড় অংশ আজ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। প্রতিবাদ মানেই হয়রানি- এমন মানসিকতার মধ্য দিয়েই চলছে পাহাড়ি জনজীবন। ফলে সাব্রুম থেকে ধর্মনগর পর্যন্ত জেলা পরিষদের অধীন ভিলেজগুলিতে একতরফা শাসনব্যবস্থা কায়েম হয়েছে বলে অভিযোগ। পাহাড় যেন উন্নয়নের বদলে লুঠের বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পূর্ত ও বন দপ্তর-প্রায় সব দপ্তরেই চলছে প্রকাশ্য লুঠবাণিজ্য। পাহাড়ের উন্নয়ন কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। অথচ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব থেকে
ও শুরু করে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার নেতৃত্বে উপজাতি ভূমিপুত্রদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বনের লক্ষ্যে বিপুল পরিমাণ সরকারী অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে সেই অর্থ গেলো কোথায়?
সংবাদ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ জেলার বীরচন্দ্র মনুতে অবস্থিত বন দপ্তরের জোনাল অফিসের অধীনে চলতি ও বিগত আর্থিক বছরে চেক ড্যাম নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। দক্ষিণ জেলা জুড়ে যে সকল চেক ড্যাম নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে তার অনেকগুলোর অস্তিত্বই পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও নিম্নমানের কাজ, কোথাও আবার কাজ না করেই বিল তোলা হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে সাক্রম মহকুমার বনকুল সাব- জোনালের অধীনে একাধিক চেক ড্যাম নির্মাণ না করেই প্রকল্পের টাকা হজম করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, বেনিফিসিয়ারি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত, আর সুবিধা পাচ্ছেন প্রভাবশালীরা।
এই সমস্ত কাজের তদারকির দায়িত্ব সংষ্টি বন দপ্তরের ডিএফও-র ওপর থাকলেও অভিযোগ উঠেছে, তিনি রহস্যজনক কারণে দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে বীরচন্দ্র মনু
জোনালের ডিএফও নারায়ণ জমাতিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দক্ষিণ জেলার উপজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে গত আর্থিক বছরে কয়টি চেক ড্যাম তৈরি হয়েছে – তা তিনি জানেন না (!) একজন দায়িত্বশীল আধিকারিকের এমন বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে।
স্থানীয় সরকারী কর্মচারীদের একাংশের দাবি, চেক ড্যাম নির্মাণ ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পে যে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ঘোটালা হয়েছে, তার সঙ্গে একাধিক আধিকারিক জড়িয়ে রয়েছেন। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলেও তাদের মত।
সরকারী প্রকল্পের মাধ্যমে পাহাড়ের ভূমিপুত্রদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা আদৌ পূরণ হয়েছে কি না আজ সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। যারা স্বজাতির উন্নয়নের নামে রাজপথ অবরোধ করে রাজনীতি করেন, তাদের শাসনেই আজ জেলা পরিষদের আওতাধীন ভিলেজগুলিতে ভূমিপুত্ররা রয়ে গেছেন সেই তিমিরেই।
এখন দেখার বিষয়, এই গুরুতর অভিযোগের পর প্রশাসন আদৌ তদন্তে এগিয়ে আসে কি না, নাকি পাহাড়ের উন্নয়ন আবারও ঘোটালার অন্ধকারে হারিয়ে যাবে।