রবিবার | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সাংসদদের শপথে সাংবিধানিক সংকট!মঙ্গলে প্রধানমন্ত্রীর শপথ শান্তি সুরক্ষাই মুখ্যঃ তারেক

 সাংসদদের শপথে সাংবিধানিক সংকট!মঙ্গলে প্রধানমন্ত্রীর শপথ শান্তি সুরক্ষাই মুখ্যঃ তারেক

দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ১৪ ফেব্রুয়ারী: মঙ্গলবার সতেরো ফেব্রুয়ারী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন তারেক রহমান। শনিবার বিএনপির সংসদীয় দল তারেক রহমানকে নেতা নির্বাচিত করার পরই শপথ গ্রহণের দিন ঘোষণা হলো।

দলের পাহাড় প্রমাণ বিজয়ের পর এ দিন প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমার বক্তব্য স্পষ্ট যেকোনো মূল্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। দলমত-ধর্ম-বর্ণ ভিন্নমত যাই থাকুক, কোনো অজুহাতে দুর্বলের উপর সবলের আক্রমণ আমরা মেনে নেবো না।

প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তারেক রহমানের নাম ঘোষণার পরপরই নানান রাজনৈতিক সমীকরণের আভাস সামনে আসছে। শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় যেতে আগ্রহী। ঢাকায় বিএনপির সদর দপ্তরে এখন তুমুল ব্যস্ততা। উচ্ছ্বাসের হুল্লোড় না থাকলেও চাপা পড়ে না আনন্দ আর সমাগম। বিএনপির সদর দপ্তরে এ দিন দলীয় সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন দলের বরিষ্ঠ নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনিও নির্বাচনে জয়ী হয়ে এসেছেন কক্সবাজার এক নং আসন থেকে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছেন, আমরা আইন অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে প্রত্যার্পণের দাবি জানাবো। এটি দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়। আমরা ভারতের কাছে চাইবো তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করতে যেন ফেরত পাঠানো হয়।

এ দিন ঢাকার একটি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, ভোটের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবাযেেনর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। তিনি বলেন, জনগণের রায় পেতে বিএনপি রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল এবং সারা দেশের জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে একত্রিশ দফা প্রণয়ন করেছিল। একত্রিশ দফার আলোকে ঘোষণা করা হয়েছে দলীয় ইসতেহার। একই সঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে বিএনপি জুলাই সনদেও স্বাক্ষর করেছে। আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ- প্রত্যাশিত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমিকভাবে বাস্তবায়ন করবো।

তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে দেশের জনগণ আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছেন। জনগণ বিএনপির প্রতি যে বিশ্বাস এবং ভালোবাসা দেখিয়েছেন, এবার জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজের মাধ্যমে জনগণের এই বিশ্বাস এবং ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এবার আমি সারা দেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলতে চাই- শত নির্যাতন-নিপীড়নের পরও আপনারা রাজপথ ছাড়েননি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা তো সংগ্রামে অটুট ছিলেন, অনড় ছিলেন। এবার দেশ গড়ার পালা আমাদের। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় আপনি-আমিড় আমাদের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে অবশ্যই।

শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দলীয় নেতাকর্মীদের বিজয় মিছিল বের না করতে নির্দেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই বিজয়কে শান্তভাবে, শান্তির সাথে, দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে উদ্যাপন করেছি। নিবাচনোত্তর বাংলাদেশে যাতে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এজন্য শত উস্কানির মুখেও আমি সারা বাংলাদেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের শান্ত এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

কোনো অপশক্তি যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্য নির্বাচনোত্তর নিরঙ্কুশ জয়ের অর্জনের পরও আমি সারাদেশে বিএনপি এবং জোটভুক্ত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের বিজয় মিছিল বের করতে নিষেধ করেছিলাম। আমরা আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে বিজয় উৎসব পালন করেছি। তিনি বলেন, আমার বক্তব্য স্পষ্ট যেকোনো মূল্যে অবশ্যই শান্তি এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড আমরা বরদাস্ত করবো না। দল-মত-ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই থাকুক, কোনো অজুহাতে অবশ্যই দুর্বলের উপরে সবলের আক্রমণ আমরা মেনে নেবো না।

দেশ পরিচালনায় ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ মন্তব্য করে তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারী দল কিংবা বিরোধী দল, অন্য মত কিংবা ভিন্ন মত প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের জন্যই আইন সমান। আইনের প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে।

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার না থাকলে, প্রধান বিচারপতি বা প্রধান নির্বাচন কমিশনারও (সিইসি) সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাতে পারবেন। আর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ রাষ্ট্রপতিই পড়াবেন। এমপিদের শপথ আয়োজন করে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। সংশি-লষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার সকালে এমপিদের শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংসদ সচিবালয়। সূত্র বলছে, সেদিন বিকালে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠন হতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার দেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফলাফল ঘোষণায় বিএনপি ২০৯ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। তাদের এক সময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) শুক্রবার রাতে নির্বাচিত ২৯৭ জনের গেজেট প্রকাশ করেছে। নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে স্পিকার হিসাবে দায়িত্ব পান শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে শিরীন শারমিনকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব নেওয়া শামসুল হক টুকু এখন মামলার আসামি হয়ে কারাগারে রয়েছেন। ফলে নতুন সংসদ সদস্যদের কে শপথ পড়াবেন, তা নিয়ে এক ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের শপথের বিষয়ে মন্ত্রীপরিষদ সচিবের কাছে সাংবাদিকরা প্রশ্ন রাখেন, শপথ কে পড়াবেন আপনি জানতে পেরেছেন কী? জবাবে শেষ আব্দুর রশিদ বলেন, আমি যেটা জানতে পেরেছি ইনফরমাল, সেজন্য এটা আমি বলতে চাইছি না। এখানে নানান রকমের অপশন আছে, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার বা তাদের মনোনীত কেউ দিতে পারেন। তারা যদি কোনো মনোনয়ন না দিতে পারে, তাহলে সরকার থেকে আর কাউকে মনোনয়নের ব্যবস্থা করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি অথবা প্রধান নির্বাচন কমিশনার, তিনিও এই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারেন বা শপথ পাঠ করাতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *