চুক্তি বস্ত্রশিল্পের সর্বনাশ করবে, রাহুলের প্রশ্নে ক্ষিপ্ত বিজেপি
দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ১৪ ফেব্রুয়ারী: ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তির জেরে এতদিন কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধী মোদি সরকারকে সংসদের অন্দরে চেপে ধরেছিল। সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দফা স্থগিত হওয়ার পরও সেই আক্রমণ চালিয়ে যাওয়াই মনস্থ করেছে কংগ্রেস। এরই অঙ্গ হিসেবে শনিবার রাহুল গান্ধী এবার টেক্সটাইল সেক্টর নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। বাংলাদেশে সঙ্গে প্রতিতুলনায় ভারতের উপর আমেরিকার চাপানো ট্যাক্স যে অনেক বেশি সেকথা জানিয়ে রাহুল গান্ধী প্রশ্ন করেছেন-কেন এই অতিরিক্ত ট্যাক্স চাপানো সত্ত্বেও ভারত রাজি হল চুক্তিতে? রাহুল এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ভারতের ৫ কোটি পরিবার বস্ত্র সংক্রান্ত বাণিজ্যক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত এবং জীবিকাগতভাবে নির্ভরশীল। রাহুলের তোপ, এই ৫ কোটি পরিবারের জীবন জীবিকা ধ্বংস করে দিতে চলেছে এই ভারত ও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি। কারণ, ভারত থেকে যে বস্ত্র সংক্রান্ত রপ্তানি আমেরিকা যাবে, সেগুলির উপর আমেরিকা আরোপ করছে ১৮ শতাংশ শুল্ক। অথচ ঠিক একই বস্ত্র পণ্য বাংলাদেশ যদি আমেরিকায় রপ্তানি করে, তাহলে বাংলাদেশের উপর আমেরিকা এক পয়সাও ট্যাক্স চাপাবে না। সেরকমই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। এটা কোনো গোপন বিষয় নয়। রাহুল প্রশ্ন করেছেন, বাংলাদেশের উপর যে এ রকম কোনো ট্যাক্স চাপানো হচ্ছে না, এটা জানা সত্ত্বেও কীভাবে ভারত সরকার এই চুক্তির শর্ত মেনে নিয়েছে? কেনইবা চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়েছে? কেন এই শর্তে আপত্তি জানিয়ে ভারতের টেক্সটাইল শিল্পকে রক্ষা করার কোনো চেষ্টাই করা হলো না? নোট বাতিলের জেরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এরপর লকডাউনে এসেছিল দ্বিতীয় ধাক্কা ক্ষুদ্র বাণিজ্যে। আর এবার ভারত সরকার নিজেই ভারতের সুতো প্রস্তুতকারী, তুলো চাষি, বস্ত্র নির্মাণকারী সংস্থা, বস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত সাধারণ সব শ্রমিক কর্মী ও রপ্তানিকারীদের সর্বনাশ ডেকে আনছে। এখন এই ৫ কোটি পরিবার কী করবে? রাহুলের প্রশ্ন। রাহুলের এই অভিযোগের পরই বিজেপি ও মোদি সরকার তৎপর হয়ে ওঠে। স্বয়ং কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল মুম্বইয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, রাহুল গান্ধীর মতো এক বুদ্ধিহীন এবং বাণিজ্য সম্পর্কে অজ্ঞ মানুষকে কীভাবে এবং কে লোকসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করলো? তিনি তো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের রীতিনীতি কিছু জানেন না? আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সামগ্রিকভাবে দেশের কী লাভ হয়, কতটা স্বার্থ সুরক্ষিত হল এ রকম একটি সার্বিক, দৃষ্টিভঙ্গি রাখা হয়। ভারতের কৃষক, শ্রমিক, বস্ত্রশিল্পী কারও কোনো স্বার্থ লঙ্ঘন করা হয়নি। আমরা সবদিক বিবেচনা করে চুক্তি করেছি। আগামীদিনে বরং দেখা যাবে বস্ত্রশিল্পে ভারতের বাণিজ্য অনেক বেশি উপকৃত হচ্ছে। তামিলনাডু ও পুদুচেরীতে যাওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের স্বভাব হল মানুষকে বিভ্রান্ত করা। এখনও ঠিক সেটাই করছেন। এভাবে ভারতের অর্থনীতিকে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে থমকে দিতে চাইছেন।