শুক্রবার | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পদ্মাপাড়ে ভোট

 পদ্মাপাড়ে ভোট

আশঙ্কা আগে থেকেই ছিলো।সেই আশঙ্কাই শেষ মেষ বাস্তবে রূপান্তরিত হতে দেখা গেল। গেল। ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকারের অধীনে এই প্রথম 'আওয়ামী লীগ' হীন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো বৃহস্পতিবার। আর সেই নির্বাচন কার্যত প্রহসনে পরিণত হতে দেখা গেল দিনভর। বুধবার রাত থেকেই বাংলাদেশের এই তথাকথিত নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন সংবাদ ও সামাজিক মাধ্যমে এমন সব ছবি এবং মন্তব্য দেখা যেতে থাকে, তাতেই স্পষ্ট হয়ে যায়- ভোটের নামে আসলে প্রহসন ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে না। "ভোটের আগেই ভোট শেষ"-এমন ধরনের বহু মন্তব্য এবং ভোট লুটের ছবি দেখা যায় বিভিন্ন সংবাদ ও সামাজিক মাধ্যমে। আর হিংসার কথা বলে কোনও লাভ নেই। বুধবার সারা রাত ধরে এবং বৃহস্পতিবার দিনভর ভোটকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হিংসা সংগঠিত হয়েছে। হিংসার জেরে মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। অনেক ভোটার সকালে ভোট কেন্দ্রে এসে জানতে পারেন, তাদের ভোট রাতেই হয়ে গেছে। বহু ভোট কেন্দ্রে দেখা গেছে ব্যালট পেপার নিয়ে ভোট কর্মীরাই প্রতীক চিহ্নে সীল দিয়ে দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ প্রভাবিত এলাকাগুলোর ভোট কেন্দ্রগুলি দিনভর ফাঁকা থাকতে দেখা গেছে। মানুষ ভোট দিতেই আসেননি।আর এই সবের মাঝে ভোট দিয়ে বাইরে বেড়িয়ে এসে অনেকটা নৃত্য করতে করতে, দুই বহু উর্ধ্বে তুলে মিডিয়ার সামনে মহঃ ইউনুস দাবি করলেন, 'আমাদের দুঃস্বপ্নের অবসান হচ্ছে। আজ নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। নতুন স্বপ্নের শুরু হলো। আমার জীবনের আজ মহা আনন্দের দিন। বাংলাদেশের সবার জন্যেও আজ আনন্দের দিন, উৎসবের দিন। আজ ঈদের মতোই উৎসব। খুশিতে একেবারে আত্মহারা মহঃ ইউনুস এই ভাবেই তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ভোট খুবই স্বচ্ছতার সাথে এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে চলছে। কোথাও কোনও হিংসার খবর নেই।বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে বৃহস্পতিবার ২৯৯ টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 'শেরপুর- ৩' একটি আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। এই নির্বাচনের সাথে একই সঙ্গে হয়েছে জুলাই সনদ নিয়েও গণভোট। তথ্য অনুযায়ী এদিন বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নথিভুক্ত ও স্বীকৃতি প্রাপ্ত মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল ভোটে লড়াই করেছে। প্রার্থীর সংখ্যা ২০২৮ জন। মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লক্ষ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। সব থেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, ১৯৭১ সালে যে রাজনৈতিক দলের হাত ধরে 'বাংলাদেশ' নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হলো। পাকিস্তানের সাথে লড়াই করে যে ১৬ কোটি বাঙালি 'বাংলাদেশ' নামে একটি স্বাধীন দেশ পেলো, সেই 'আওয়ামী লীগ' আজ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। আজ থেকে দেড় বছর আগে তথাকথিত ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে বদলে গেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চ। বদলে গেছে হাসিনাহীন বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্কের সমীকরণ। গত দেড় বছর ধরে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ যে অরাজকতা ও হিংসা চলছে, তা জিইয়ে রেখেই বৃহস্পতিবার বহু কাঙ্খিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন এবং আলোচ্য বিষয় হচ্ছে, 'আওয়ামী লীগ' সমর্থকদের ভোট কোন বাক্সে পড়েছে? দেড় বছরের কালো অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতায় কোন দল আসবে? এটা নিশ্চিত যে দীর্ঘ পঁয়তিত্রশ বছর পর নতুন প্রধানমন্ত্রী পেতে চলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু তিনি কে হবেন? সম্ভাব্য দুই দাবিদার ঘটনাচক্রে দু'জনই 'রহমান'। একজন বিএনপি শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। দ্বিতীয়জন মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কট্টরপন্থী জামাত ইসলামীর শীর্ষ নেতা আমির শফিফুর রহমান। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের এই নির্বাচনের ফলাফলে উপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কোনো কৌশলগত পথে হাঁটবে। ফলে এই নির্বাচন শুধু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্য নির্ধারনেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *