শনিবার | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অষ্টম বেতন কমিশনও কি অধরা?কর্মচারী বঞ্চনা ইস্যুতে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ!!

 অষ্টম বেতন কমিশনও কি অধরা?কর্মচারী বঞ্চনা ইস্যুতে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-শিক্ষক-কর্মচারী ইস্যুতে বিজেপির ভিশন ডকুমেন্টে দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতিই আট বছরে পুরোপুরি বাস্তবায়িত করেনি বিজেপি সরকার।আট বছরেও কোনো অনিয়মিত ডিআরডব্লিউ চুক্তিবদ্ধ শিক্ষক-কর্মচারীকে যেমন নিয়মিত করেনি সরকার, তেমন কার্যকরী করেনি সপ্তম বেতন কমিশনও। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার তাদের শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য অষ্টম বেতন কমিশন গঠন করলেও, রাজ্যের বিজেপি সরকার এখনও এ ব্যপারে কুম্ভনিদ্রায়। ফলে সপ্তম বেতন কমিশনের মতো অষ্টম বেতন কমিশন থেকেও বঞ্চিত থাকার আশঙ্কায় রয়েছেন রাজ্যের শিক্ষক-কর্মচারীরা।
এদিকে রাজ্যব্যাপী শিক্ষক-কর্মচারী মহলের অভিযোগ, শিক্ষক-কর্মচারী ইস্যুতে ভিশন ডকুমেন্টের দেওয়া প্রতিশ্রুতিই খেলাপই নয়, রাজ্যের বিজেপি সরকার আদালতের রায় পর্যন্ত কার্যকরী করছে না। শিক্ষক-কর্মচারী স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রেই হাইকোর্টের রায় কার্যকরী না করে সুপ্রিম কোর্টে এসএলপি করছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। এতে রাজ্যের সকল শ্রেণীর শিক্ষক-কর্মচারীদের বিজেপি সরকারের আমলে আর্থিকভাবে বঞ্চিতই থাকতে হচ্ছে। শুধু অনিয়মিত, চুক্তিবদ্ধ, ডিআরডব্লিউ শিক্ষক কর্মচারীই নয়, বঞ্চনার শিকার নিয়মিত পদে নিযুক্ত স্থির বেতনের শিক্ষক কর্মচারীরাও। বিজেপি সরকারের ৮ বছরে সপ্তম বেতন কমিশনতো মেলেনি, মেলেনি কেন্দ্রীয় হারে ডিএ। পাশাপাশি অনিয়মিত, চুক্তিবদ্ধ, ডিআর ডব্লিউ কর্মচারীদের ভাগ্যে বিজেপি সরকারের ৮বছরের শাসনকালে নিয়মিত হওয়ার ভাগ্য হয়নি। উল্টো বামফ্রন্ট আমলের দশ বছর অনিয়মিত পদে চাকরি করার পর স্বাভাবিক নিয়মেই নিয়মিত হওয়ার প্রক্রিয়াও বাতিল করে দিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক- কর্মচারীদের ভাগ্য চিরতরে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে বিজেপি সরকার।বামফ্রন্ট সরকারের সময় চলা দশ বছর অনিয়মিত পদে চাকরি করার পর স্বাভাবিক নিয়মে নিয়মিত হওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন কোনও নিয়মিতকরণের প্রক্রিয়া চালু না করায় হাজার হাজার অনিয়মিত শিক্ষক-কর্মচারী অনিয়মিত অবস্থাতেই সম্পূর্ণ খালি হাতে অবসরে চলে গেছেন। নিয়মিত না হওয়ায় নূন্যতম পেনশন সহ যাবতীয় আর্থিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ভিশন ডকুমেন্টের প্রতিশ্রুতি মতো শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন কার্যকরি না করে ভার্মা কমিশন গড়ে যত সামান্য বেসিক পে বৃদ্ধি করলেও হাউস রেন্ট, মেডিকেল অ্যালাউন্স সহ কোন আর্থিক সুবিধাই বাড়ানো হয়নি। ফলে ৮ বছরে শিক্ষক-কর্মচারীদের সপ্তম বেতন কমিশন আর ভাগ্যে জুটেনি। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার তাদের শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য ইতিমধ্যেই অষ্টম বেতন কমিশন গঠন করেছে। অথচ, ত্রিপুরার শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য আদৌও বিজেপি সরকার অষ্টম বেতন কমিশন গঠন করবে কিনা- এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত রাজ্য সরকার কোনো সুষ্পষ্ট ঘোষণা করেনি। ফলে সপ্তম বেতন কমিশনের মতো অষ্টম বেতন কমিশন গঠন নিয়েও সরকার কী ভূমিকা নেবে তা-নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগছেন শিক্ষক- কর্মচারীরা। শিক্ষক-কর্মচারী ইস্যুতে বিজেপি সরকারের নেতিবাচক ভূমিকায় রাজ্যব্যাপী কর্মচারী মহলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এদিকে ভিশন ডকুমেন্টে পঞ্চাশ হাজার শূন্যপদে চাকরির প্রতিশ্রুতি থাকলেও বেকারদের ভাগ্যে ৮ বছরেও পঞ্চাশ হাজার চাকরি জুটেনি। সরাসরি শূন্যপদে বিভিন্ন দপ্তরে কিছু নিয়োগ হলেও তাও হচ্ছে ফিক্সড পে-তে। উল্টো সরকারী দপ্তরে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে চাকরিতে নিয়োগ করায় বেকাররা চাকরিতে নিয়মিত হওয়ার কোন সুযোগ পাবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *